মাঠের বাইরে যতই বিতর্ক থাকুক, মাঠে এই মৌসুমে ম্যানচেস্টার সিটি দুর্দান্ত। মৌসুমের শুরু থেকে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ৮ ম্যাচে জয়, গোলের পর গোল, প্রিমিয়ার লিগের পয়েন্ট তালিকায় শীর্ষস্থান। সিটি যেন সত্যিই উড়ছিল।
কিন্তু উড়তে থাকা সেই সিটিকেই আজ মাটিতে নামিয়ে আনল পিএসজি। ইতিহাদে চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচে লুইস এনরিকের দল বুঝিয়ে দিল, কেন তারা এই টুর্নামেন্টে টানা দুইবারের চ্যাম্পিয়ন, কেন তাদের টানা তৃতীয়বারের মতো শিরোপা জয়ের ফেবারিট মনে করা হচ্ছে।
প্রথমার্ধেই সিটির বিপক্ষে ৩-০ গোলে এগিয়ে যাওয়া পিএসজি শেষ পর্যন্ত ম্যাচটা জিতেছে ৪-২ গোলে। সিটি পেয়েছে এই মৌসুমে প্রথম হারের স্বাদ।
পিএসজির এই জয়ের পেছনে ছিল প্রথমার্ধের বিধ্বংসী ফুটবল। গ্যালারিতে উপস্থিত ছিলেন সিটির সাবেক কোচ পেপ গার্দিওলা। মে মাসে সিটি ছাড়ার পর এই প্রথম ইতিহাদে ফিরেছিলেন। আর তাঁর সামনেই ইউরোপের চ্যাম্পিয়নদের কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ করল তাঁর সাবেক দল।
প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক নিয়ম ভাঙার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর নিজেদের মাঠে এটাই ছিল সিটির প্রথম ম্যাচ। সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করেছে ক্লাবটি, নিজেদের নির্দোষ বলেও দাবি করে আসছে তারা। গ্যালারিতে সিটি সমর্থকদের মধ্যে ছিল প্রিমিয়ার লিগের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী আবহ। কিন্তু মাঠে পিএসজির সামনে সেই আবহ কোনো কাজে আসেনি।
১৩ মিনিটেই দেজিরে দুয়ের নিচু শটে এগিয়ে যায় পিএসজি। এর দুই মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করার কাজেও বড় ভূমিকা দুয়ের। তাঁর নিখুঁত ক্রস থেকে হেডে গোল করেন উসমান দেম্বেলে।
দুই গোলে পিছিয়ে পড়ে সিটি যখন ঘুরে দাঁড়ানোর পথ খুঁজছে, তখনই তৃতীয় গোলটি হজম করতে হয় তাদের। ৩২ মিনিটে ম্যাগনেস আকালিউশ ও ওয়ারেন জাইরে এমেরির চমৎকার বোঝাপড়ায় গড়ে ওঠা আক্রমণের পর দারুণ ফিনিশিংয়ে গোল করেন ভিতিনিয়া, ৩-০।
বিরতির পর তিনটি পরিবর্তন আনেন সিটি কোচ এনজো মারেসকা। তাতে দ্বিতীয়ার্ধে অন্য এক সিটিকে দেখা যায়। আক্রমণের গতি বাড়িয়ে একের পর এক সুযোগ তৈরি করতে থাকে স্বাগতিকেরা। বিরতির পর আট মিনিটের মাথায় ব্যবধান কমান আর্লিং হলান্ড। ইলিমান এনদিয়ায়ের ক্রস থেকে হেড করে বল জালে পাঠান নরওয়েজীয় স্ট্রাইকার।
ম্যাচে ফেরার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিল সিটি। কিন্তু ৬২ মিনিটে আবারও ধাক্কা খায় তারা। আকালিউশের শট প্রথমে ঠেকিয়ে দেন দোন্নারুম্মা। কিন্তু ফিরতি বলটি তাঁর পেছন দিয়ে গড়িয়ে জালে ঢুকে যায়।
তাতেও হাল ছাড়েনি সিটি। হলান্ড নিজের দ্বিতীয় গোল করে ব্যবধান কমান। এরপর আরেকটি প্রচেষ্টা থেকে গোল প্রায় পেয়েই গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু পিএসজি গোলরক্ষক মাতভেই সাফোনভ অবিশ্বাস্য দক্ষতায় সেই শট ঠেকিয়ে দেন।
শেষ দিকে আরও একটি সুযোগ এসেছিল পিএসজির সামনে। কিন্তু পেনাল্টি পেয়েও গোল করতে পারেনি তারা। ফেরান তোরেসের নেওয়া স্পট কিক ঠেকিয়ে দেন দোন্নারুম্মা। তারপরেও ইতিহাদে গার্দিওলার প্রত্যাবর্তনের রাতটা শেষ পর্যন্ত হয়ে থাকল পিএসজির দাপটের গল্প।
সম্পাদক ও সিইও: মামুনুর রশীদ নোমানী ।
যোগাযোগ: ইমেইল: nomanibsl@gmail.com মোবাইল: 01713799669 / 01712596354
কপিরাইট © সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত Bd24news.com