শোনা যায়, ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ ২০১৪ সাল থেকে হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের কাউয়াই দ্বীপে বিশাল এক এলাকাজুড়ে কাজ শুরু করেছিলেন। ১ হাজার ৪০০ একরের এই জায়গার নাম দেওয়া হয়েছে ‘কুলাউ র্যাঞ্চ’।
প্রখ্যাত প্রযুক্তি পত্রিকা ‘ওয়্যার্ড’-এর একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই এলাকায় এমন একটি বিশেষ আশ্রয়স্থল তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে নিজেদের তৈরি বিদ্যুৎ ও খাবারের ব্যবস্থা থাকবে। তবে সেখানে যাঁরা কাজ করছেন, যেমন কাঠমিস্ত্রি বা ইলেকট্রিশিয়ান তাঁদের সঙ্গে গোপনীয়তার চুক্তি বা ‘নন-ডিসক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্ট’ করা হয়েছে। ফলে তাঁরা বাইরে এই নিয়ে মুখ খুলতে পারেন না।
জায়গাটি ঘিরে ছয় ফুট উঁচু একটি দেয়াল দেওয়া হয়েছে, যাতে রাস্তার পাশ থেকে ভেতরের কিচ্ছু দেখা না যায়।
২০২৪ সালে একটি অনুষ্ঠানে জাকারবার্গকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, তিনি কি কোনো ‘ডুমসডে বাংকার’ বা মহাপ্রলয় থেকে বাঁচার গোপন আস্তানা বানাচ্ছেন? জাকারবার্গ তখন পরিষ্কার না বলে দিয়েছিলেন। তিনি বুঝিয়ে বলেন, প্রায় ৫ হাজার বর্গফুটের এই মাটির নিচের জায়গাটি আসলে ছোট্ট একটি আশ্রয়স্থল বা বেজমেন্টের মতো।
কিন্তু তারপরও মানুষের কানাঘুষা থামেনি। যেমনটা দেখা গেছে ক্যালিফোর্নিয়ার পালো আল্টোর ‘ক্রিসেন্ট পার্ক’ এলাকায়। সেখানে তিনি ১১টি সম্পত্তি কিনেছেন এবং সম্ভবত মাটির নিচে ৭ হাজার বর্গফুটের একটি জায়গা এর সঙ্গে যুক্ত করে দিয়েছেন।
জানা গেছে, পালো আল্টোর ওই এলাকায় বিভিন্ন সম্পত্তি কিনতে জাকারবার্গ প্রায় ১১ কোটি ডলার খরচ করেছেন।
‘নিউইয়র্ক টাইমস’-এর তথ্যমতে, নকশায় জায়গাগুলোকে ‘বেজমেন্ট’ বলা হলেও প্রতিবেশীদের কেউ কেউ এগুলোকে বাংকার বলেই ডাকছেন। কেউ কেউ আবার মজা করে একে কোটিপতির ‘ব্যাট-কেভ’ বা গোপন আস্তানা বলেও ডাকছেন।
শুধু জাকারবার্গ একা নন, প্রযুক্তি–দুনিয়ার অন্য বড় বড় ধনীদের নিয়েও এমন অনেক জল্পনাকল্পনা রয়েছে। তাদের অনেকেই প্রচুর জমি কিনছেন, যার নিচে বিশাল ভূগর্ভস্থ জায়গা রয়েছে। এগুলোকে খুব সহজেই দামি সব বিলাসবহুল বাংকারে রূপান্তর করা সম্ভব।
লিংকডইনের সহপ্রতিষ্ঠাতা রিড হফম্যান একটি মজার বিষয়ের কথা বলেছেন। একে তিনি নাম দিয়েছেন ‘অ্যাপোক্যালিপস ইনস্যুরেন্স’ বা মহাপ্রলয় থেকে বাঁচার বিশেষ বিমা। তাঁর দাবি, পৃথিবীর অতিধনী মানুষদের প্রায় অর্ধেকই নিজেদের নিরাপদ রাখতে এমন ব্যবস্থা করে রেখেছেন। আর এই গোপন বাংকার বা বাড়ি বানানোর জন্য নিউজিল্যান্ড হলো তাদের সবচেয়ে পছন্দের জায়গা।
তাহলে কি তাঁরা সত্যিই কোনো যুদ্ধ, জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়ংকর রূপ কিংবা এমন কোনো বড় বিপদের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন? আর সাধারণ মানুষ এখনো টের পাচ্ছে না?
গত কয়েক বছরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অবিশ্বাস্য অগ্রগতি মানুষের মনে এক নতুন ভয়ের জন্ম দিয়েছে। এই প্রযুক্তির দিন দিন যেভাবে উন্নতি হচ্ছে, তা দেখে অনেকেই ভীষণ চিন্তিত হয়ে পড়েছেন।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কাজ করা বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান ‘ওপেন এআই’–এর সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান বিজ্ঞানী ইলিয়া সুতস্কেভারও সম্ভবত তাদেরই একজন।
২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে এই প্রতিষ্ঠান ‘চ্যাটজিপিটি’ বাজারে আনে। এই শক্তিশালী চ্যাটবটটি এখন সারা বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ ব্যবহার করছেন। একই সঙ্গে বিজ্ঞানীরা একে আরও শক্তিশালী করার কাজ দ্রুতগতিতে চালিয়ে যাচ্ছিলেন।
সাংবাদিক ক্যারেন হাওয়ের লেখা একটি বই থেকে জানা যায়, ওই সময়ের মধ্যেই ইলিয়া সুতস্কেভার নিশ্চিত হতে শুরু করেন, কম্পিউটারবিজ্ঞানীরা খুব শিগগির ‘আর্টিফিশিয়াল জেনারেল ইন্টেলিজেন্স’ বা এজিআই তৈরি করে ফেলবেন। এজিআই হলো এআইয়ের এমন একটি পর্যায়, যেখানে যন্ত্র মানুষের মতোই বুদ্ধিমান হয়ে ওঠে।
ক্যারেন হাওয়ের তথ্যমতে, এক বৈঠকে সুতস্কেভার তার সহকর্মীদের একটা আজব পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, এত শক্তিশালী প্রযুক্তি সবার জন্য চালু করার আগেই কোম্পানির প্রধান বিজ্ঞানীদের বাঁচার জন্য মাটির নিচে একটি গোপন বাংকার বা আশ্রয়কেন্দ্র বানিয়ে রাখা উচিত।
ইলিয়া সুতস্কেভারের একটি কথা খুব তোলপাড় তৈরি করেছিল। ‘এজিআই চালু করার আগেই আমরা অবশ্যই একটা ভূগর্ভস্থ বাংকার বানিয়ে ফেলব।’ তবে এখানে আমরা বলতে তিনি ঠিক কাদের বুঝিয়েছেন, তা পরিষ্কার নয়।
এই ঘটনা একটি অদ্ভুত সত্য সামনে নিয়ে আসে। যেসব শীর্ষ বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তিবিদরা দিনরাত খেটে এত বুদ্ধিমান এআই বানাচ্ছেন, তাঁরা নিজেরাই আবার এই প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ পরিণতি দেখে ভয়ে পাচ্ছেন।
তাহলে প্রশ্ন থেকে যায়, এই এজিআই ঠিক কবে আসবে, যদি আদৌ কখনো আসে? আর এটি কি সত্যিই এতটাই ভয়ংকর হতে পারে যে সাধারণ মানুষও এর কথা শুনে আতঙ্কিত হয়ে উঠবে?
.আমেরিকার সব শিশুকে স্পেসএক্সের শেয়ার দেবেন ইলন মাস্ক, কীভাবে
.
আমাদের ধারণার চেয়েও দ্রুত আসছে এআই
প্রযুক্তি জগতের বড় বড় ধনী ও কর্মকর্তারা বলছেন, এজিআই চিন্তার থেকেও খুব দ্রুতই চলে আসছে। ওপেনএআইয়ের প্রধান স্যাম অল্টম্যান ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বলেছিলেন, এটি বিশ্বের বেশির ভাগ মানুষের ধারণার চেয়েও অনেক দ্রুত চলে আসবে, যার কিছুটা দেখা যাচ্ছে অ্যানথ্রোপিকের এআই মডেল ক্লড দিয়ে।
‘ডিপমাইন্ড’–এর সহপ্রতিষ্ঠাতা স্যার ডেমিস হাসাবিস ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন, এটি আগামী ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যে চলে আসতে পারে। তবে অ্যানথ্রোপিকের প্রতিষ্ঠাতা ডারিও আমো দেই গত বছর লিখেছিলেন, তিনি যাকে শক্তিশালী এআই বলেন, তা ২০২৬ সালের মধ্যেই আমাদের সামনে হাজির হতে পারে, যা এখন বাস্তব।
তথ্যপ্রযুক্তির প্রতিষ্ঠান ‘কগনিজ্যান্ট’-এর প্রযুক্তি প্রধান বাবাক হোদজাতের মতে, এআইকে মানুষের বুদ্ধিমত্তার পর্যায়ে নিতে হলে প্রথমে আরও অনেক বড় বড় মৌলিক আবিষ্কার করতে হবে। তা ছাড়া এই প্রযুক্তি এক দিনে বা হঠাৎ করে আকাশ থেকে টুপ করে পড়বে না। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। বিশ্বের অনেক কোম্পানিই এখন নিজেদের মতো করে এআই বানানোর প্রতিযোগিতায় নেমেছে।
সিলিকন ভ্যালির অনেক মানুষের কাছে এই বিষয় দারুণ রোমাঞ্চকর মনে হয়। কারণ, এর পরের ধাপটি আরও ভয়ংকর ও শক্তিশালী। এএসআই বা ‘আর্টিফিশিয়াল সুপার ইন্টেলিজেন্স’। এটি এমন এক প্রযুক্তি, যা মানুষের বুদ্ধিমত্তাকেও ছাড়িয়ে বহু দূর চলে যাবে।
১৯৫৮ সালে মারা যাওয়া বিখ্যাত গণিতবিদ জন ভন নিউম্যানের সঙ্গে ‘দ্য সিঙ্গুলারিটি’ ধারণাটি জড়িত। এটি এমন এক মুহূর্তকে বোঝায়, যখন কম্পিউটারের বুদ্ধি মানুষের সাধারণ বুদ্ধিমত্তার সীমানা ছাড়িয়ে বহুদূরে চলে যায়।
জন ভন নিউম্যান একাধারে পদার্থবিজ্ঞানী, গণিতবিদ, অর্থনীতিবিদ এবং কম্পিউটারবিজ্ঞানী ছিলেন। তাঁকে এই ‘সিংগুলারিটি’ ধারণার অন্যতম পথপ্রদর্শক মনে করা হয়।
এরিক শ্মিট, ক্রেইগ মান্ডি এবং প্রয়াত হেনরি কিসিঞ্জারের লেখা ২০২৪ সালের ‘জেনেসিস’ (Genesis) বইটিতেও এমন এক অতিশক্তিশালী প্রযুক্তির কথা বলা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, এই প্রযুক্তি সিদ্ধান্ত নেওয়া বা নেতৃত্ব দেওয়ার কাজে এত দক্ষ হয়ে উঠবে যে শেষ পর্যন্ত মানুষ এর হাতেই সব নিয়ন্ত্রণ তুলে দেবে।
তাদের মতে, এমন ঘটনা সত্যিই ঘটবে কি না, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। প্রশ্ন শুধু এটা ঠিক কবে ঘটবে।
.এআইয়ের পানি ব্যবহার নিয়ে স্যাম অল্টম্যানের দাবি কতটা সত্য.
চাকরি ছাড়াই সবার জন্য অর্থ
যারা এজিআই ও এএসআই এর সমর্থক, তারা এর ভালো দিকগুলো নিয়ে ভীষণ উৎসাহী। তাদের বিশ্বাস, এই প্রযুক্তি নতুন রোগের চিকিৎসা আবিষ্কার করবে, জলবায়ু পরিবর্তনের সমাধান আনবে এবং পরিবেশবান্ধব শক্তির অফুরন্ত ভান্ডার তৈরি করবে।
এমনকি ইলন মাস্ক দাবি করেছেন, অতিবুদ্ধিমান এআই এমন এক অদ্ভুত যুগের সূচনা করতে পারে, যেখানে সবাই কাজের চিন্তা ছাড়াই নিশ্চিত আয় পাবে। একে তিনি নাম দিয়েছেন সর্বজনীন উচ্চ আয় (universal high income)।
ইলন মাস্ক এমন একটি ধারণার কথাও বলেছেন, যেখানে এআই এতটাই সস্তা হবে যে সবাই নিজের জন্য ‘স্টার ওয়ার্স’ সিনেমার বিখ্যাত রোবট ‘আর২-ডি২’ বা ‘সি-থ্রি-পিও’-র মতো ব্যক্তিগত রোবট পেয়ে যাবে। তিনি বেশ উত্তেজনার সঙ্গে বলেছেন, ‘প্রত্যেকেই সেরা চিকিৎসা, খাবার, থাকার জায়গা, যাতায়াত এবং প্রয়োজনীয় সব পাবে। এটি হবে এক এলাহি ও প্রাচুর্যের যুগ।’
তবে এই সুন্দর কল্পনার পেছনে রয়েছে একটি ভীতিজনক অন্ধকার দিক। কোনো সন্ত্রাসীগোষ্ঠী কি এই প্রযুক্তি দখল করে ভয়ংকর কোনো অস্ত্র বানিয়ে ফেলতে পারে? কিংবা এই প্রযুক্তি যদি নিজে থেকেই সিদ্ধান্ত নেয় যে মানুষই পৃথিবীর সব সমস্যার মূল এবং আমাদের ধ্বংস করে দেওয়া দরকার, তখন কী হবে?
‘ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব’-এর জনক টিম বার্নার্স লি বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘এই প্রযুক্তি যদি মানুষের চেয়েও বেশি বুদ্ধিমান হয়ে ওঠে, তবে একে অবশ্যই আমাদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। আমাদের হাতে এমন ব্যবস্থা থাকতে হবে, যাতে যেকোনো সময় একে বন্ধ করে দেওয়া যায়।’
বিভিন্ন দেশের সরকারও কিছু সুরক্ষামূলক নিয়ম চালুর চেষ্টা করছে। যুক্তরাষ্ট্রে, যেখানে অনেক বড় বড় এআই কোম্পানি রয়েছে, প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ২০২৩ সালে একটি বিশেষ নির্দেশ জারি করেছিলেন। এর মাধ্যমে কিছু কোম্পানিকে তাদের নিরাপত্তার পরীক্ষার ফল সরকারের কাছে জমা দিতে বলা হয়েছিল। তবে পরে ডোনাল্ড ট্রাম্প এই নির্দেশের কিছু অংশ বাতিল করে দেন। তাঁর মতে, এটি নতুন কিছু আবিষ্কারের পথে বড় বাধা।
অন্যদিকে যুক্তরাজ্যে, উন্নত এআইয়ের ঝুঁকিগুলো খতিয়ে দেখতে দুই বছর আগে সরকারি খরচে ‘এআই সেফটি ইনস্টিটিউট’ নামে একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান গড়া হয়েছে। আর এসবের মাঝেই বিশ্বের ধনী ব্যক্তিরা সম্ভাব্য কোনো মহাপ্রলয় থেকে বাঁচতে নিজেদের জন্য গোপন বাংকার ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে রাখছেন।
লিংকডইনের সহপ্রতিষ্ঠাতা রিড হফম্যান একবার বলেছিলেন, কেউ যদি বলে সে নিউজিল্যান্ডে বাড়ি কিনছে, তবে বুঝে নিতে হবে এটি একটি গোপন ইশারা। এর বেশি কিছু বলার দরকার নেই। বাংকার কেনার বিষয়টি ঠিক তেমনি এক গোপনীয় বিষয়।
.১৭ বছর বয়সী কিশোরের কোম্পানি মহাকাশের বড় সমস্যার সমাধান করেছে.
এসব কি কেবল অহেতুক আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা
ক্যামব্রিজ ইউনিভার্সিটির মেশিন লার্নিং বিষয়ের অধ্যাপক নীল লরেন্সের মতে, এই পুরো বিতর্কটি আসলে একদম অর্থহীন। তিনি যুক্তি দিয়ে বলেন, ‘কৃত্রিম সাধারণ বুদ্ধিমত্তা বা এজিআইয়ের ধারণাটি ঠিক ততটাই অযৌক্তিক, যতটা অযৌক্তিক হতে পারে কৃত্রিম সর্বজনীন যানবাহনের ধারণা।
কোন গাড়ি বা যানটি উপযুক্ত, তা নির্ভর করে পরিস্থিতির ওপর। কেনিয়ায় যাওয়ার জন্য আমি প্লেন ব্যবহার করি, প্রতিদিন বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার জন্য গাড়ি চালাই, আবার ক্যাফেটেরিয়ায় যাওয়ার জন্য হেঁটে যাই। এমন কোনো একটিমাত্র যান নেই, যা এই সব কাজ একসঙ্গে করতে পারে।
তাঁর মতে, এজিআই নিয়ে এই আলোচনা কেবল মানুষের মনোযোগ অন্যদিকে সরানোর একটি চাল মাত্র। আমরা ইতিমধ্যে যে প্রযুক্তি তৈরি করেছি, তা প্রথমবারের মতো সাধারণ মানুষকে সরাসরি কোনো যন্ত্রের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ করে দিয়েছে। মানুষ যা চায়, যন্ত্রটি তা করতে সক্ষম এটি সত্যিই দারুণ এবং অভাবনীয় একটি পরিবর্তন।
সবচেয়ে ভয়ের বিষয় হলো, বড় বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ছড়ানো এজিআই–সংক্রান্ত কথায় আমরা এতটাই মেতে আছি যে মানুষের সাধারণ জীবনযাত্রার মান বাড়ানোর আসল উপায়গুলো আমাদের নজর এড়িয়ে যাচ্ছে।
বর্তমান যুগের এআই টুলগুলো বিশাল পরিমাণ তথ্য বা ডেটার ওপর ভিত্তি করে কাজ করে। স্ক্যান রিপোর্টে টিউমার খুঁজে বের করা কিংবা পরবর্তী শব্দ কী হবে, তা অনুমান করার মতো প্যাটার্ন বা ধরন শনাক্ত করতে এগুলো দারুণ দক্ষ। তবে এদের প্রতিক্রিয়া যতই জাদুকরি মনে হোক না কেন, আসলে এদের কোনো অনুভূতি নেই।
প্রযুক্তিবিদ বাবাক হোদজাত বলেন, লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল বা চ্যাটবটগুলোকে এমনভাবে তৈরি করা হয় যাতে দেখে মনে হয়, সেগুলোর ভালো স্মৃতিশক্তি আছে বা তারা নতুন কিছু শিখছে। তবে এগুলো আসলে একধরনের চালাকি বা কৌশল মাত্র। মানুষের বুদ্ধিমত্তার তুলনায় এগুলো এখনো অনেক নিম্নমানের।
.বিশ্বের তৃতীয় দীর্ঘতম নদী ইয়াংজিতে কেন মাছ ধরা নিষিদ্ধ.
চেতনাবিহীন বুদ্ধি
কিছু ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের মস্তিষ্ককে পেছনে ফেলে দিয়েছে। একটি এআই টুল মুহূর্তের মধ্যে মধ্যযুগের ইতিহাসের পণ্ডিত হয়ে উঠতে পারে। আবার পরের মুহূর্তেই জটিল কোনো অঙ্কের সমাধান করে দিতে পারে।
কিছু প্রযুক্তি কোম্পানি স্বীকার করেছে তাদের তৈরি এআই সিস্টেমগুলো নির্দিষ্ট কোনো উপায়ে কেন প্রতিক্রিয়া দেখায়, তা তারা নিজেরাও সবসময় বুঝতে পারে না। মেটা জানিয়েছে, তাদের এআই সিস্টেমগুলোর মধ্যে নিজেদের নিজেই উন্নত করার কিছু লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।
তবে শেষ পর্যন্ত, যন্ত্র যতই বুদ্ধিমান হোক না কেন, জৈবিক দিক থেকে মানুষের মস্তিষ্কই সবার সেরা। মানুষের মস্তিষ্কে প্রায় ৮৬ বিলিয়ন নিউরন এবং ৬০০ ট্রিলিয়ন সিন্যাপস রয়েছে, যা কৃত্রিম যেকোনো ব্যবস্থার চেয়ে বহুগুণ শক্তিশালী।
গবেষকেরা চেতনা বা বুদ্ধিমত্তা সম্পর্কে আরও ভালোভাবে জানতে মানুষের মস্তিষ্ক নিয়ে নানা গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
মানুষের মস্তিষ্ককে কোনো তথ্য বোঝার জন্য থামতে হয় না। এটি চোখের পলকে নতুন তথ্যের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেয়।
প্রযুক্তিবিদ বাবাক হোদজাত বলেন, যদি কোনো মানুষকে বলা হয় অন্য কোনো গ্রহে প্রাণের খোঁজ মিলেছে, তবে সে সঙ্গে সঙ্গে তা বুঝে যাবে এবং তা তার ভবিষ্যৎ ভাবনাকে বদলে দেবে। কিন্তু একটি এআই বা চ্যাটবটের ক্ষেত্রে, এটি কেবল ততটুকুই জানবে বা মনে রাখবে, যতক্ষণ আপনি বারবার তাকে কথাটি সত্য বলে মনে করিয়ে দেবেন।
এআই চ্যাটবটগুলোর নিজস্ব কোনো চেতনা নেই; অর্থাৎ এরা আসলে কী জানে আর কী জানে না, তা তারা নিজেরাও বোঝে না। মানুষের মধ্যে নিজের ভেতরটা নিজে বোঝার এক অদ্ভুত ক্ষমতা আছে। যাকে আমরা চেতনা বলি। এটি তাদের জ্ঞান ও পরিস্থিতি সম্পর্কে সজাগ থাকতে সাহায্য করে।
এটি মানুষের বুদ্ধিমত্তার এক দারুণ ও মৌলিক দিক, যা এখনো কোনো গবেষণাগারে কৃত্রিম উপায়ে তৈরি করা সম্ভব হয়নি। তাই যাদের টাকা খরচের আর জায়গা নেই, তারা না হয় বাংকার বানিয়ে ও নিজের দ্বীপ কিনে টাকা ওড়াক।
.১ ট্রিলিয়ন ডলার দিয়ে ইলন মাস্ক যা যা করতে পারবেন
সম্পাদক ও সিইও: মামুনুর রশীদ নোমানী ।
যোগাযোগ: ইমেইল: [email protected] মোবাইল: 01713799669 / 01712596354
কপিরাইট © সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত Bd24news.com