মোবাইলে আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান নগদ লিমিটেডের ৭৮৬ কোটি ৩৯ হাজার ২৮৪ টাকার অবরুদ্ধ শেয়ার ছাড়িয়ে নিতে আদালতে আবেদন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
সোমবার ঢাকার মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতে এ আবেদনের ওপর শুনানির দিন ধার্য রয়েছে। তবে শেয়ার অবমুক্ত করার আবেদনের বিরোধিতা করবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
দুদকের সহকারী পরিচালক (কোর্ট) আমিনুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, নগদ অবরুদ্ধ শেয়ার ছেড়ে দেওয়ার জন্য আদালতে আবেদন করেছে। সোমবার শুনানির দিন ধার্য রয়েছে। নগদের অবরুদ্ধ শেয়ার যাতে ছেড়ে দেওয়া না হয়, সে জন্য দুদক লড়বে।
.
এর আগে দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১০ সেপ্টেম্বর নগদ লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর আহমেদ মিশুকসহ অভিযোগ–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে থাকা ৭৮৬ কোটি ৩৯ হাজার ২৮৪ টাকার শেয়ার অবরুদ্ধ করার আদেশ দেন ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. শাহজাহান কবির। দুদকের সহকারী পরিচালক ও অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহজাহান মিরাজের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত ওই আদেশ দেন।
দুদকের আবেদনে বলা হয়েছিল, অননুমোদিত ডিস্ট্রিবিউটরের মাধ্যমে সরকারি অর্থ সরিয়ে নেওয়া, বৈধ চ্যানেলে বৈদেশিক মুদ্রা না এনে অনাবাসী বিনিয়োগকারীদের অনুকূলে শেয়ার হস্তান্তর, জিরো কুপন বন্ডের অর্থ দিয়ে বিদেশি ঋণ পরিশোধ, বিদেশে অর্থ পাচার এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে তানভীর আহমেদ মিশুকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চলছে।
.
দুদকের অনুসন্ধানে প্রাথমিকভাবে দেখা গেছে, ২০২১ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নগদের মাধ্যমে বিতরণ করা সরকারি ভাতার অব্যবহৃত অর্থ সফটওয়্যার জালিয়াতির মাধ্যমে ২৪ হাজার ১৫৯টি ভুয়া উদ্যোক্তার ওয়ালেটে স্থানান্তর করা হয়। পরে ৬৪৮টি ভুয়া ডিএসও এবং ৩৪টি অননুমোদিত ডিস্ট্রিবিউটরের ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে এসব অর্থ সরিয়ে নেওয়া হয়।
দুদকের আবেদনে বলা হয়, এ প্রক্রিয়ায় প্রাথমিকভাবে ১ হাজার ৭০৬ কোটি ৩৮ লাখ ৫৪ হাজার ২২৯ টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া গেছে। আত্মসাৎ করা অর্থ বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তরের মাধ্যমে থার্ড ওয়েভ টেকনোলজিস লিমিটেডের ১৬ কোটি ৮৪ লাখ ৩৪ হাজার ১২৭টি শেয়ার কেনায় ব্যবহার করা হয়েছে। নগদের আগের নাম ছিল থার্ড ওয়েভ টেকনোলজিস লিমিটেড।
.
দুদকের আরও অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা শেয়ারগুলো বিক্রি বা হস্তান্তরের চেষ্টা করছেন। এসব শেয়ার বিক্রি করে অর্থ বিদেশে পাচারের আশঙ্কা রয়েছে। শেয়ার কেনার জন্য সংশ্লিষ্ট বিদেশি প্রতিষ্ঠান ও নাগরিকেরা বিদেশ থেকে বৈধভাবে অর্থ এনেছেন, এমন তথ্যও অনুসন্ধানে পাওয়া যায়নি।
দুদকের আবেদনে বলা হয়েছিল, অনুসন্ধান শেষ হওয়ার আগে শেয়ারগুলো হস্তান্তর, স্থানান্তর বা বিক্রি হয়ে গেলে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ও দুদক বিধিমালা অনুযায়ী শেয়ারগুলো অবরুদ্ধ করা প্রয়োজন। এবার সেই অবরুদ্ধ শেয়ার ছাড়িয়ে নিতে নগদের আবেদনের ওপর আদালতে শুনানি হতে যাচ্ছে।
সম্পাদক ও সিইও: মামুনুর রশীদ নোমানী ।
যোগাযোগ: ইমেইল: [email protected] মোবাইল: 01713799669 / 01712596354
কপিরাইট © সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত Bd24news.com