বিডি ২৪ নিউজ অনলাইন: পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) সিএসই অনুষদের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইনফরমেশন টেকনোলজি বিভাগের শিক্ষক এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় আইসিটি বিষয়ক উপকমিটির অধীন “আইসিটি টাস্কফোর্স”–এর সদস্য মো. মাহবুবুর রহমানকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। গত ১১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত পবিপ্রবির ৫৭তম রিজেন্ট বোর্ড সভায় তাকে অবৈধভাবে সহকারী অধ্যাপক থেকে সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি দেয়া হয়। এই পদোন্নতির খবরে ক্যাম্পাসজুড়ে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ ও নিন্দা দেখা দিয়েছে।
খোজ নিয়া জানা গেছে, আইসিটি টাস্কফোর্সে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামী লীগপন্থী শিক্ষক ও আইটি বিশেষজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে পবিপ্রবির একমাত্র প্রতিনিধি ছিলেন মো. মাহবুবুর রহমান। আওয়ামী লীগের একটি সূত্র জানায়, দলীয় প্রচার ও প্রসারে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার, পরিকল্পনা ও নীতিনির্ধারণের পাশাপাশি বিরোধীদলের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক–কর্মকর্তাদের গোপন তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণেও এই টাস্কফোর্স কাজ করে থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক ও কর্মকর্তা অভিযোগ করেছেন, প্রভাষক পদে নিয়োগ পাওয়ার সময় তিনি পবিপ্রবির সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও বর্তমানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম সায়মনের মাধ্যমে প্রায় ১৮ লাখ টাকা উৎকোচ দিয়ে তৎকালীন ভিসি ড. মো. হারুন অর রশিদের কাছ থেকে নিয়োগ পান।
অভিযোগ রয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্নীতিপরায়ন ভিসি ড. হারুনর রশীদ এর নিজ এলাকার বাসিন্দা হওয়ায় পরবর্তীতে তিনি ক্যাম্পাসে তার ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত ব্যক্তি হিসেবে প্রভাবশালী অবস্থান তৈরি করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের দুজন শিক্ষক অভিযোগ করেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার টেকনিক্যাল কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি টানা প্রায় ৭ বছরে প্রতি বছর ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা ভুয়া খরচ দেখিয়ে আত্মসাৎ করেন। আইটি সেকশনের পরিচালক থাকাকালে তখন ঐ সেকশন ও ভর্তি পরীক্ষায় ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগও ওঠে তার বিরুদ্ধে। ওই সময় সহকারী প্রোগ্রামার মাহমুদুল হাসানের সঙ্গে ভর্তি পরীক্ষার অর্থ ভাগাভাগি সংক্রান্ত একটি অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে বিশ্ববিদ্যালয় জুড়ে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনা সৃষ্টি হয়। তখন তার বিরুদ্ধে চাকরিচ্যুতির দাবিও ওঠে। তবে রাজনৈতিক তদবির ও প্রভাব খাটিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।
সিএসই অনুষদের বর্তমান ডিন ড. মো. খোকন হোসেনসহ কয়েকজন শিক্ষকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিভিন্ন সময় অসদাচরণের ঘটনাও আলোচিত হয়েছে। তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট মহলে তার ছাত্রজীবনে এক ছাত্রীকে জোরপূর্বক নিয়ে গিয়ে বিবাহ করার অভিযোগ আলোচনায় রয়েছে। তার এক সহপাঠীর কাছ থেকে জানা গেছে, ঝালকাঠির কাঠালিয়া উপজেলায় আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তিনি ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করেন। সেখানে বিএনপি ও জামায়াতপন্থীদের জমি দখলসহ নানা অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এর মহাপরিচালক (প্রশাসন) মো. আবু হেনা মোস্তফা জামান বলেন,“যে কোনো সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ, পদোন্নতি কিংবা ভর্তি পরীক্ষায় দুর্নীতির অভিযোগ এলে দুদক গুরুত্বের সঙ্গে বিষয়টি দেখে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও তথ্য পাওয়া গেলে কমিশন আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে বাধ্য।”
ইউনিভার্সিটি গ্র্যান্টস কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. মো. তানজিম উদ্দিন খান বলেন,“বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও নৈতিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ থাকলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন করা। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপি পন্থী শিক্ষকদের সংগঠন ইউট্যাব এর দু’জন শিক্ষক, জিয়া পরিষদের কর্মকর্তারা ও শিক্ষার্থীদের একাংশ প্রশ্ন তুলেছেন—এতসব অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও একজন শিক্ষক কীভাবে চাকুরিতে বহাল থাকেন এবং আবার পদোন্নতিও পান? তারা দ্রুত স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে সিএসই অনুষদের একজন সিনিয়র শিক্ষক বলেন,“মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ উঠেছে, সেগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ফোরামে আলোচিত হয়েছে।পবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলামের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, “পএিকায় সংবাদ প্রকাশিত হলে এবং লিখিত অভিযোগ পেলে আমরা যথাযথ ব্যবস্হা গ্রহণ করবো”।
সম্পাদক ও সিইও: মামুনুর রশীদ নোমানী ।
যোগাযোগ: ইমেইল: nomanibsl@gmail.com মোবাইল: 01713799669 / 01712596354
কপিরাইট © সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত Bd24news.com