বিডি ২৪ নিউজ অনলাইন: পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া পৌরসভার নাগরিকদের সুপেয় পানি প্রকল্পের ফাইল গায়েব করা হয়েছে।উন্নয়ন প্রকল্পের এ ফাইল গায়েবের ঘটনায় ইতোমধ্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক আবদুল কাইয়ূম সহ ৩ জনকে শোকজ করা হয়েছে। এরা হলেন সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুস ছালেক,নক্সাকারক সেলিম মল্লিক ও টিউবওয়েল মেকানিক বাবুল মিয়া।এ ৩ জনের মধ্যে নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুস ছালেক বর্তমানে গৌরনদী পৌরসভায় কর্মরত রয়েছেন। টিউবওয়েল মেকানিক বাবুল মিয়া অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে বাধ্যতামূলক অবসরে এবং নক্সাকারক সেলিম মল্লিক বর্তমানে বহাল তবিয়তে মঠবাড়িয়া পৌরসভায় কর্মরত রয়েছেন।
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ সরকার ও এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কারিগরি সহায়তায় “উপকূলীয় শহরে পরিবেশগত অবকাঠামো প্রকল্প”এর বিগত ২০১৬-২০১৭ ও ২০২০-২০২১ অর্থবছরে ৫১,৪২,০৩,০৭৫/= (একান্ন কোটি বিয়াল্লিশ লক্ষ তিন হাজার পচাঁত্তর) টাকা ব্যয়ে সুপেয় পানি সরবরাহের লক্ষ্যে গ্রাউন্ড ওয়াটার রিজার্ভার,পাম্পহাউজ, দুটি ওভার হেড ট্যাংক,পাইপ লাইন নেটওয়ার্কসহ ‘সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট,দুটি সুউচ্চ জলাধারসহ পানি সরবরাহ পাইপলাইন নির্মান প্রকল্প’সহ প্রায় ৬ কিঃ মিঃ এম এস পাইপ দিয়ে একটি অখ্যাত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান উক্ত প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করেন।
ওই সময় পৌর মেয়র এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রফিউদ্দিন আহমেদ ফেরদৌস এবং নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুস ছালেক পরষ্পর যোগসাজশে ঢাকার ধোলাইখালে ড্রেজার কাজে ব্যবহার করা জীর্নশীর্ন পুরাতন এমএস পাইপ জোড়াতালি দিয়ে রং করে ব্যবহার করে। যুদ্বকালীন কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মজিবুল হক খান মজনু জানান, উপজেলা আঃলীগ সভাপতি ও পৌর মেয়র রফিউদ্দিন আহমেদ ফেরদৌস এর দায়িত্ব পালনের সময় পৌরসভাটি ছিল দূর্নীতির আখড়া।সাবেক পৌর মেয়র রফিউদ্দিন আহমেদ ফেরদৌস ও নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুস ছালেক অনিয়ম ও দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে এ প্রকল্প থেকে প্রায় ২০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুস ছালেক বরিশাল শহরে অত্যাধুনিক বাড়ি নির্মাণ করেন।বর্তমানে তিনি দুদকের মামলার আতঙ্কে রয়েছেন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা ইয়াকুব আলী জানান, ২০২১ সালে পানি সরবরাহের ২ বছর যেতে না যেতেই এমএস পাইপ লিক হতে থাকে।পৌরসভা থেকে ৬ কি.মি. দূরে সূর্যমণি বধ্যভূমির পাশে ১০ একর জমির মধ্যে কিছু জমি অধিগ্রহণ করে বাকি জমি দখল করে অধিগ্রহন দেখিয়ে সরকারের ৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে। এরমধ্যে কিছু খাস জমিও রয়েছে। এছাড়াও বিদ্যুতের বিকল্প হিসেবে ৫০ লাখ টাকার ১টি জেনারেটর কিনে ১ কোটি টাকা ভাউচার দেখানো হয়েছে। আর এসব অপকর্ম ঢাকতেই ফাইল গায়েব করা হয়েছে।এ ব্যাপারে নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুস ছালেককের মুঠোফোনে (০১৭১৮-৩০২০৮৮) একাধিকবার ফোন দিয়েও কথা বলা সম্ভব হয়নি।
সম্পাদক ও সিইও: মামুনুর রশীদ নোমানী ।
যোগাযোগ: ইমেইল: nomanibsl@gmail.com মোবাইল: 01713799669 / 01712596354
কপিরাইট © সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত Bd24news.com