February 24, 2024, 12:15 pm
শিরোনাম:
মনোহরদীতে শীতার্তদের মাঝে মন্ত্রীপুত্রের শীতবস্ত্র বিতরণ মনোহরদীতে পাট চাষীদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত কক্সবাজারে অর্থের বিনিময়ে মেহেদী পত্রিকার বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ প্রচারের কলেজ ছাত্র সোহেল কে হয়রানির অভিযোগ মনোহরদীতে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে ছয় লাখ টাকা জরিমানাসহ গুড়িয়ে দেয়া হয়েছে ইটভাটা মনোহরদীতে মন্ত্রীপুত্রকে ফাঁসাতে মিথ্যা নাটক সাজানোর প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় যুবলীগ সাংগঠনিক সম্পাদকের বিরুদ্ধে মানববন্ধন অবৈধভাবে ইটভাটা পরিচালনা ও মাটি কাটার অপরাধে ৪ জনকে কারাদণ্ডসহ ৫ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড, এক্সক্যাভেটর আটক ফেসবুকে ভিডিও ভাইরাল, ইউপি চেয়ারম্যান কর্তৃক নৌকার ভোটারদের কেন্দ্রে প্রবেশে বাধা মনোহরদীতে দরিদ্র শিক্ষার্থীদের মাঝে পোশাক বিতরণ মনোহরদীতে শীতার্তদের মাঝে ইউএনও র শীতবস্ত্র বিতরণ মনোহরদীতে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন “আমরা মনোহরদীর সন্তান” এর ১যুগ পূর্তি উদযাপন

নরসিংদী মনোহরদীতে ড্রাগন ফল চাষ করে সফলতা পেয়েছেন মুখলেছুর রহমান

আল -গালিব সরকার
  • আপডেটের সময় : রবিবার, আগস্ট ২৩, ২০২০
  • 1573 দেখুন

বর্তমান কালে দেশে বিদেশে ড্রাগন ফলের জনপ্রিয়তা বেড়েই চলছে। বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানেও বহু পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ এই পুষ্টিকর ফল ড্রাগনের চাষ দিন দিন বেড়ে চলছে এবং সফলতাও পেয়েছে বিভিন্ন এলাকার ড্রাগন চাষীরা। ইউটিউবে ড্রাগন চাষে বিভিন্ন এলাকার চাষীদের সফলতার ভিডিও দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে ড্রাগন চাষ করেছেন নরসিংদী জেলার মনোহরদী উপজেলার মুখলেছুর রহমান।আর এই ড্রাগণ চাষেই নিজে অর্থনৈতিক দিক দিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি নিজের উপজেলায় ড্রাগণ চাষের বৈপ্লবিক পরিবর্তনের মাধ্যমে কৃষি ক্ষেত্রে অনন্য অবদান রাখার স্বপ্ন দেখছেন এই মুখলেছুর রহমান।নরসিংদী জেলার মনোহরদী উপজেলার শুকুন্দী ইউনিয়নের দীঘাকান্দী গ্রামের কৃষক তমিজ উদ্দিনের ঘরে জন্ম মুখলেছুর রহমানের। স্থানীয় এক কলেজ থেকে এইচ এস সি পাশ করার পর আর লেখা পড়া করা হইনি মুখলেছুর রহমানের। এইচ এস সি পাশ করার কিছুদিন পর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকুরী নেন তিনি। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে হার ভাঙ্গা খাটুনী অনুযায়ী পারিশ্রমিক কম থাকায় সেখানে নিজেকে খুব বেশি আবদ্ধ রাখতে মন চাননি নিজেকে। মানষিক অসস্থির সেই জায়গা থেকে নিজেকে মুক্ত করতে চাতক পাখির মত ছটফট করতে থাকে। এরই মাঝে ইউটিউব থেকে অত্যন্ত লাভজনক ফল ড্রাগন চাষের ভিডিও দেখে ড্রাগন চাষের প্রতি তার আগ্রহ বাড়ে। এবং ইউটিউব থেকেই ড্রাগন চাষের ব্যাপারে তথ্য নিতে থাকে। এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সে চাকুরি ছেড়ে দিয়ে নিজের উদ্যোগে গ্রামের বাড়িতে ড্রাগন বাগান গড়ে তুলার কাজ শুরু করে।ড্রাগন চাষের বিষয়ে নিজের বাগানে বসে কথা হয় মুখলেছুর রহমানের সাথে। তিনি জানান, চাকুরি ছেড়ে দিয়ে এসে প্রথমে প্রতিবেশি এক কৃষকের কাছ থেকে দুই বিঘা জামি লিজ নেই। দশ বছরের জন্য জমির মালিককে দিতে হয়েছে এক লক্ষ ষাট হাজার টাকা। এর পর পাশবর্তী উপজেলার আরেক সফল ড্রাগন চাষির পরামর্শক্রমে সে জমি প্রস্তুত করে। জমিতে নির্দিষ্ট পরিমাণ দূরত্ব বজায় রেখে মোট তিন’শ পঞ্চাশটি সিমেন্টের খুঁটি স্থাপন করে প্রত্যেক খুঁটির মাথায় একটি করে পরিত্যাক্ত ইজিবাইকের ট্রায়ার বেধেঁ দেয়া হয়।এর পর প্রতিটি খুঁটির সাইডে গর্ত করে কম্পোষ্ট সার প্রয়োগ কার হয়া। এরপর নাটোর থেকে আনা হয় মোট বারো হাজার টাকার ড্রাগনের ছোট চার গাছ। দুই বিঘা জমিতে মোট সাড়ে তিন’শ সিমেন্টের খুঁটির প্রত্যেকটি খুঁটির চার পাশের্^ চারটি চারা করে মোট চৌদ্দ’শ ড্রাগনের চারা রোপন করা হয়। ইতি মধ্যে বাগানের বয়স প্রায় পাঁচ মাস হয়। এতে বাগানে এ পর্যন্ত প্রায় দশ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে বলে জানায় ড্রাগন বাগানের স্বপ্ন সারথি মুখলেছুর রহমান।সরেজমিন বাগানটি পরিদর্শন করে দেখা যায়, ক্যাকটাস গাছের মতো দেখতে ড্রাগনের সবুজ গাছ গুলো বেড়ে ইতি মধ্যে সিমেন্টের খুঁটির মাথা ছুঁই ছুঁই করছে। ড্রাগন চাষের জন্য আবহাওয়া অনুকূলে থাকার কারণে ইতি মধ্যে ড্রাগনের চারাগগুলো বেশ পরিপক্কও হয়ে উঠেছে।এর জন্য চাষি মুখলেছুর রহমানকে বেশ পরিশ্রম করেতে হয়েঠেছ বলে জানান তিনি।মুখলেছুর রহমান জানান, ড্রাগন চারা রোপনের এক থেকে দেড় বছরের মধ্য গাছ ফুল আসে। ফুল আসার পর বিশ-পঁচিশ দিনের মধ্যে ফল হয়। ইংরেজি এপ্রিল থেকে মে মাসে ফুল আসার সময় হলেও অক্টোবর থেকে নভেম্বর মাসেও ফুল ধরে এবং এ সময় ফল উঠানো যায়।বারো-আঠারো মাস বয়সি গাছ হতে পাঁচ-বিশটি ফল উঠানো যায়। তবে প্রাপ্ত বয়স্ক একটি গাছ থেকে এক’শ টি পর্যন্ত ফল পওয়া যায়। প্রাতিটি ড্রাগন গাছ মোট বিশ বছর পর্যন্ত ফল দিয়ে থাকে। প্রতিটি ফলের ওজন হয় দুই’শ গ্রাম থেকে শুরু করে এক কেজি পর্যন্ত হয়।বর্তমান বাজারের আলোকে প্রাতি কেজি ড্রাগন ফল পাঁচ’শ টাকা থেকে শুরু করে সাত’শ টাকা পর্যন্ত বিক্রি কারা যায়। সেই পরিসংখ্যানের আলোকে ফলন ধরলেই এই বাগান থেকে প্রথমবার তিনি দশ থেকে পনের লক্ষ টাকার ড্রাগন বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেন। ড্রাগন গাছে তেমন রোগ বালাই না থাকার কারণে বাগানে খরচও কম হয়ে থাকে। এতে করে অল্প খরচে অধিক লাভের আশা করা যায়। অল্প কিছু দিনের ভিতরে এই দুই বিঘা জমির সাথে আরো দুই বিঘা জমি সংযুক্ত করে বাগান বৃদ্ধি করা হবে বলে জানান মুখলেছুর রহমান।মনোহরদী উপজেলা কৃষিকর্মকর্তা আয়েশা আক্তার জানান, এই এলাকার মাটি এবং আবহাওয়া ড্রাগন চাষের জন্য বেশ উপযোগী। আমরা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের পক্ষ থেকে সর্বদা বাগানটি পরিদর্শন করে চাষিকে উপযুক্ত পরামর্শও দিয়ে যাচ্ছি। আশা করি মুখলেছের মাধ্যমে উপজেলার কৃষিতে ড্রাগন দিয়ে নতুন সম্ভাবনার সূর্য উদয় হবে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর

https://bd24news.com © All rights reserved © 2022

Design & Develop BY Coder Boss
themesba-lates1749691102