কর বিভাগে ঘুসের রাজা
খুলনার কর কর্মকর্তা নেফাউলের বিরুদ্ধে ১০ কোটি টাকা ঘুস নেয়ার অভিযোগ
প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর, ২০২৫, ১১:৩২ পূর্বাহ্ণ |
অনলাইন সংস্করণ

খুলনার কর কর্মকর্তা নেফাউলের বিরুদ্ধে ১০ কোটি টাকা ঘুস নেয়ার অভিযোগ

মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল : বরিশালের সাবেক উপ কর কমিশনার মোঃ নেফাউল ইসলাম সরকারের বিরুদ্ধে দশ কোটি টাকা ঘুস নেয়ার অভিযোগে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ডাঃ এনামুল হক নামে একজন ব্যক্তি এনবিআরের চেয়ারম্যানের নিকট এই লিখিত অভিযোগ দেন।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়,৩৩ ব্যাচের উপ কর কমিশনার মোঃ নেফাউল ইসলাম সরকার সরকারি রাজস্ব আদায়ের টার্গেট নয় তিনি নিজের জন্য ডাক্তার ও ব্যবসায়ীদের টার্গেট করে ভয়ংকর পদ্ধতি অবলম্ভন করে ঘুস নিতেন।বরিশাল কর অঞ্চলে কর্মরত থাকাকালিন সময়ে মানুষকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে কর আদায়ের নামে ঘুস নেয়া ছিল নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার।
বরিশালের একজন করদাতা মোঃ জহিরুল ইসলাম উপ কর কমিশনার নেফাউল ইসলামকে নিয়ে একটি কবিতাও লিখেছিলেন। কবিতার শিরোনাম ছিল “কষ্ট করিয়া আমি আয় করি,ধনি হয় নেফাউল” ।কবিতার শিরোনামেই প্রকাশ পেয়েছিল নেফাউলের ভয়ংকর দুর্নীতির চিত্র।

ডাঃ এনামুল হকের দেয়া লিখিত অভিযোগ থেকে জানা গেছে,ঝালকাঠির মেসার্স জাবেদ ফ্লাওয়ার মিলসটির ফাইল ছিল বরিশাল সার্কেল -১(কোম্পানীজ) এ ।২০১৬-২০১৭ করবর্ষ থেকে ছয় বছরের ব্যাংক তল্লাশি দিয়ে ১৬০০ কোটি টাকা ব্যাংকে জমা পাওয়া যায়।ব্যাংকে কিভাবে এত টাকা জমা হলো এবং নামমাত্র কর দিয়ে কিভাবে রেহাই পেল যা তদন্ত করলে সকল গোমড় ফাঁস হবে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।নামমাত্র করধার্য্য করার কারনে এই মিল মালিক থেকে উপ কর কমিশনার মোঃ নেফাউল ইসলাম নিয়েছেন ঘুস হিসেবে দশ কোটি টাকা। এছাড়া অভিযোগে বরিশালের আরিফ মেমোরিয়াল ক্লিনিক এর নজরুল ইসলাম,নাসরিন জাহান ও আরিফ মেমোরিয়াল ক্লিনিক এন্ড হসপিটাল নামের এই তিনটি ফাইলের ব্যাপারেও পরীক্ষা করার আবেদন করা হয়।
নেফাউল ইসলাম সরকার বরিশালে থাকাকালিন সময়ে ডাক্তার ও ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। করদাতাদের কাছে আতংকের এক নাম উপ কর কমিশনার মোঃ নেফাউল ইসলাম সরকার। তার কাছে করদাতার ফাইল মানেই মোটা অংকের ঘুষ। তিনি সেসব স্থানে কর্মরত ছিলেন সেসব স্থানের সকল ফাইল পরিক্ষা -নীরিক্ষা ও নেফাউল ইসলাম সরকারের বিরুদ্ধে তদন্ত পুর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের আবেদন জানানো হয়।মোঃ নেফাউল ইসলাম সরকার ২০১৪ সালে সহকারি কর কমিশার পদে চট্রগ্রাম কর অঞ্চল -৩ এ যোগদান করেন।তিনি বরিশালে কর্মরত ছিলেন সার্কেল -৮,৯ সহ বিভিন্ন সার্কেলে।বরিশালে তিনি কর বিভাগে ঘুসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন।

বরিশাল থেকে তাকে ২০২৩ সালের ১ নভেম্বর ঢাকা কর অঞ্চল -১৫ তে বদলী করা হয়।ঢাকায় কর অঞ্চল ১৫ এর অধীনে সার্কেল ৩১৬,৩১০ (কোম্পানীজ) তে কর্মরত থাকাকালীন ব্যক্তি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান রোষানলের শিকার হয়েছেন।তিনি কর কর্মকর্তাদের এক নেতা ছিলেন।সম্প্রতি তিনি পদত্যাগও করেছেন।তিনি রাজস্ব আদায়ের থেকে নিজের সহায় সম্পদ বাড়াতে ঘুসের জন্য ছিলেন বেপরোয়া।তাকে ঢাকা থেকে খুলনায় বদলী করা হয়েছে।খুলনা কর কমিশনার কার্যালয়ের অধীনে সার্কেল -১ (কোম্পানীজ),সার্কেল -৮ (খুলনা সদর) এ উপ কর কমিশনার পদে কর্মরত রয়েছেন।

এনবিআর বিলুপ্ত করে মে মাসে রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ জারির পর শুরু হওয়া আন্দোলনের অন্যতম নায়ক ছিলেন নেফাউল ইসলাম সরকার। অধ্যাদেশ জারির পরে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামেন নেফাউল ইসলামসহ বিতর্কিত কর্মকর্তারা।অনেককে বাধ্যতামুলক অবসর দেয়া হলেও নেফাউলের বিরুদ্ধে নেয়া হয়নি কোন ব্যবস্থা। নেফাউলের বিরুদ্ধে তখন সরকার বিরোধী আন্দোলনে জনমত গঠনেরও অভিযোগ উঠেছিল। এনবিআর চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলনের নেপথ্যের নায়ক ছিলেন এ নেফাউল ইসলাম সরকার।তিনি কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসুচীর সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন।

নেফাউল ইসলাম সরকারকে নিয়ে বরিশালের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মোঃ জহিরুল ইসলাম তার ফেসবুকে একটি লেখা প্রকাশ করেন। লেখাটি হুবহু দেয়া হল-
কষ্ট করিয়া আমি আয় করি
ধনি হয় নেফাউল।
২০২৩ সালে বরিশালের আয়কর বিভাগের এই লোকের ঘুষ নির্যাতনের শিকার হয়ে ক্ষোভ, রাগ, দুঃখ ও অসহায়ত্ব নিয়ে এই ছড়াটি লিখেছিলাম। সোহেল এর ছড়া এবং কবিতা: আয়কর নোটিস ২০২৩ তখন বরিশালে অগনিত লোক এর ঘুষ নির্যাতনের শিকার হয়েছিলো। পরবর্তী নির্যাতনের ভয়ে কেউই মুখ খোলেনি। আমাদের কাছে ১০ লাখ টাকা ঘুষ চেয়েছে। ঘুষ দেইনি বলে কল্পিত আয় ধরে যেই আয়কর ধার্য করেছিলো, সেটা পরিশোধ করতে ব্যংক লোন নিতে হয়েছে। আয়কর বিভাগের উপরে, ঘুষখোরের উপরে ঘেন্না ধরে গিয়েছিলো। তৎকালীন চেয়ারম্যন রহমাতুল মোমেনিনও এসব এড়িয়ে গেছে। জানিনা এদের বিচার হবে কিনা। তবে শিক্ষিত এসব কুলাঙ্গার দেশের জন্য সবচেয়ে বেশী ক্ষতিকর। এদের বিচার না হলে সাধারন মানুষকেও এদের ঘুষের টাকা জোগার করতে, বাধ্য হয়ে অনিয়ম করতে হয়। দৃষ্টান্তমুলক বিচার হোক এদের, বৈষম্যহীন হোক আয়কর আইন, ঘুষখোরহীন ও জনবান্ধব হোক রাজস্ব বিভাগ।

মোঃ নেফাউল ইসলাম সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগের ব্যাপারে তার মোবাইলে কল করা হলে নম্বরটি বন্ধ পাওয়া গেছে।ফলে তার বক্তব্য গ্রহন করা সম্ভব হয়নি।




এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি।

© বিডি ২৪ নিউজ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

  বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা,আটকের দাবি : এ্যাংকর সিমেন্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অর্থপাচার, বিদেশে সম্পদের পাহাড় গড়ার অভিযোগ : তদন্তে দুদক ও ভ্যাট গোয়েন্দা   বরিশাল স্বাস্থ্যখাতে শত কোটি টাকার দুর্নীতি: পিপলাই পরিবারের টেন্ডার সিন্ডিকেট উন্মোচন   ইফতারে বৈষম্যের অভিযোগ: ভিআইপি ও সাধারণ কর্মচারীদের আলাদা মেন্যু, সমালোচনায় বরিশাল সিটি করপোরেশন   বরিশালের হলিমা খাতুন স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারী পরোয়ানা   পটুয়াখালী মেডিকেলে ৭৬ কোটি টাকার টেন্ডার বাতিল হলেও জড়িতরা বহাল তবিয়তে   রাজাপুর এলজিইডির প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদারের বিরুদ্ধে বিস্তর অনিয়মের অভিযোগ   বরিশালে বদলি ঠেকাতে ৩ শিক্ষকের গ্রেফতার নাটক   বরিশালের সেই বিতর্কিত এডলিন বিশ্বাষ পুলিশের হাতে আটক   না ফেরার দেশে বেগম খালেদা জিয়া   রাজশাহী গণপূর্তে টেন্ডারের আগেই ভাগ হচ্ছে কাজ : প্রশ্নের মুখে নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদুল ইসলাম   বরিশালের রুপাতলী ‘খাবার বাড়ি’ রেস্তোরাঁকে ১ লাখ টাকা জরিমানা   বাকেরগঞ্জে যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে গরু চুরির অভিযোগ   নলছিটিতে বৈদ্যুতিক ফাঁদে প্রাণ হারালেন কৃষক বাচ্চু মল্লিক   বদলি-নিয়োগ-দুর্নীতি, সিন্ডিকেটের দখলে প্রাথমিক শিক্ষাঅধিদপ্তর   উজিরপুরে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে বলৎকারের অভিযোগ,জুতা পেটা   বদলি-বাণিজ্য, ঘুষ নিয়ন্ত্রণ করতেন সিন্ডিকেটের মাধ্যমে, ছয় বছরের সাম্রাজ্য শাহজাহান আলীর   বরিশালে জামায়াত নেতাদের বিরুদ্ধে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের জায়গা দখল চেষ্টার অভিযোগ   বরিশালে বিসিক উদ্যোক্তা মেলায় স্টল বরাদ্দে অনিয়ম   বরিশাল কর অফিসের রতন মোল্লার হাতে আলাদিনের চেরাগ,একই কর্মস্থলে ১০ বছর   বরিশালের ১৬টি আসনে বিএনপির প্রার্থী যারা
Translate »