বাংলাদেশের এ কালাকানুনের ব্যাপক অপব্যবহারের মাধ্যমে সাংবাদিক, শিক্ষক, সংস্কৃতিকর্মী, কার্টুনশিল্পী ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিন্নমত প্রকাশকারীসহ নাগরিকদের ওপর নিপীড়ন ও হয়রানির সমালোচনা করে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে সম্পর্কে লেখা হচ্ছে ‘ডিজিটাল হাইওয়ে বিকামস ডিজিটাল জেল’। গত বছর যে ৭৫ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অধীনে মামলা দায়ের করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৩২ জনকে।
তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারার যথেচ্ছ অপব্যবহারের মাধ্যমে সাংবাদিকসহ নাগরিকদের ব্যাপক হয়রানির বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা ও প্রতিবাদের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৮ সালে গৃহীত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাংলাদেশে পেশাদার সাংবাদিকতা ও নাগরিকদের স্বাধীন চিন্তা ও মতপ্রকাশের পথে আরও বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে উঠেছে। এ কালাকানুন প্রণয়নের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে ব্যাপক প্রতিবাদ হয়েছে, সরকারকে এই মর্মে সতর্ক করা হয়েছে যে আগের কালাকানুনটির চেয়েও কঠোর এ কালাকানুনের ব্যাপক অপব্যবহার হবে। তার ফলে জনগণের তথ্য জানার অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হবে, নাগরিক স্বাধীনতা খর্ব হবে। আমাদের সংবিধানে প্রদত্ত বাক্ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অধিকারের সুরক্ষা নিশ্চিত করে আইনটির সংশোধনের দাবি জানানো হয়েছে। কিন্তু সরকার কোনো কর্ণপাত করেনি। বরং দেখা যাচ্ছে যাঁরা এ আইনের অপব্যবহার করে ভিন্নমত দমন ও স্বাধীন সাংবাদিকতার পথ রুদ্ধ করতে চাইছেন, তাঁদের সম্মুখসারিতে আছেন ক্ষমতাসীন রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লোকজন। ২০২০ সালে এ আইনের অধীনে যে ১৯৮ মামলা হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে ১৯ মামলা দায়ের করেছেন ক্ষমতাসীন দলের সাংসদেরা নিজেই কিংবা তাঁদের ঘনিষ্ঠ লোকজন।
সাংবাদিক, লেখক, কার্টুনিস্টসহ যেসব নাগরিক ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের শিকার হয়েছেন এবং হচ্ছেন, তাঁদের অধিকাংশই জামিনে মুক্তির অধিকার থেকে অন্যায়ভাবে বঞ্চিত হচ্ছেন। কাউকে কাউকে রিমান্ডে নিয়ে শারীরিক-মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে, এমন অভিযোগ পাওয়া যায়।
কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস, রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস, ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব জার্নালিস্টস, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ অনেক আন্তর্জাতিক সংস্থা বাংলাদেশে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপব্যবহারের সমালোচনা করেছে। তার চেয়েও বড় কথা, আমাদের উচ্চ আদালত সরকারকে এই মর্মে কারণ দর্শাতে বলেছেন যে কেন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৫ ও ৩১ ধারা অসাংবিধানিক বলে বিবেচিত হবে না। কিন্তু সরকার এখন পর্যন্ত এর কারণ দর্শায়নি, এবং আইনটির বিশেষত ওই দুটি ধারার অপব্যবহার ক্রমাগত বেড়ে চলেছে।
আমরা আগে অনেকবার বলেছি, আবারও বলি, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অনেক ধারা বাংলাদেশের সংবিধানের মৌল চেতনা এবং মতপ্রকাশ, অবাধ তথ্যপ্রবাহ এবং মৌলিক মানবাধিকার-সম্পর্কিত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আইন ও বিধানের পরিপন্থী। সেই ধারাগুলো বাতিল করে সংবিধান ও আন্তর্জাতিক আইন-বিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে আইনটি সংশোধনের উদ্যোগ অবিলম্বে নেওয়া হোক।






বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা,আটকের দাবি : এ্যাংকর সিমেন্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অর্থপাচার, বিদেশে সম্পদের পাহাড় গড়ার অভিযোগ : তদন্তে দুদক ও ভ্যাট গোয়েন্দা
বড়ইয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন: চেয়ারম্যান পদে আলোচনার শীর্ষে আবুল বাশার
বরিশাল স্বাস্থ্যখাতে শত কোটি টাকার দুর্নীতি: পিপলাই পরিবারের টেন্ডার সিন্ডিকেট উন্মোচন
ইফতারে বৈষম্যের অভিযোগ: ভিআইপি ও সাধারণ কর্মচারীদের আলাদা মেন্যু, সমালোচনায় বরিশাল সিটি করপোরেশন
পিআইবিতে ভুয়া সেমিনারের নামে লাখো টাকা আত্মসাৎ, অনুসন্ধানে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য
পিআইবি: ভুয়া সেমিনার, জাল স্বাক্ষর ও ২৪ লাখ টাকার বিল – অনুসন্ধানে বড় দুর্নীতির ইঙ্গিত
পবিপ্রবির উপ-উপাচার্য ড. এস এম হেমায়েত জাহানের বিরুদ্ধে গুগল স্কলার সাইটেশন জালিয়াতির অভিযোগ