● ●


অবশেষে ট্রাম্পবাদের মরণঘণ্টা বাজল
প্রকাশ: ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:২৬ অপরাহ্ণ |
অনলাইন সংস্করণ

অবশেষে ট্রাম্পবাদের মরণঘণ্টা বাজল

কম প্রত্যাশার মধ্যে একধরনের স্বাধীনতা থাকে। মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে যাওয়ার আগে রিপাবলিকানদের জন্য পূর্বাভাসগুলো এতটাই হতাশাজনক ছিল যে মতামত জরিপ পর্যবেক্ষণকারীরা একপ্রকার রসিকতা শুরু করেছিলেন—এই ফলাফলের অর্থ হবে হয় ট্রাম্প–যুগের অবসান, না হয় জরিপ ব্যবস্থার অবসান।

এমন পূর্বাভাসের মধ্যে রিপাবলিকানদের যেকোনো জয়কেই এক অলৌকিক ঘটনা বলে মনে হতো। প্রত্যাশা ছিল ডেমোক্র্যাটরা বিপুল ব্যবধানে জয়ী হবে; আর রিপাবলিকানরা ভেবেছিল যে মূল গণনা কিছুটা মিশ্র হলেও তারা অন্তত দাবি করার সুযোগ পাবে যে সবাই যতটা খারাপ ভেবেছিল তারা ততটা খারাপ করেনি।

তবে আজকে আর সেই দাবিগুলোর মূল্য দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ভোটাররা ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রতি অসন্তোষের স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন এবং তাঁর ক্ষমতা খর্ব করার পক্ষে একচ্ছত্র রায় দিয়েছেন।

এখন সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় ডেমোক্র্যাটরা প্রেসিডেন্ট ও তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যদের বিরুদ্ধে তদন্ত চালাতে পারবেন, তাদের নিজস্ব এজেন্ডাগুলোকে প্রকাশ্যে আনতে পারবেন, কংগ্রেসের সাংবিধানিক অধিকার বজায় রাখতে পারবেন এবং রিপাবলিকানদের বিচারক নিয়োগের প্রক্রিয়া আটকে দিতে পারবেন।

.ট্রাম্প কি মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল মানবেন.মধ্যবর্তী নির্বাচনেই কি শেষ হবে ট্রাম্প-যুগ .

আগামী দিন এবং সপ্তাহগুলোয় ট্রাম্প কখনো বলবেন যে রিপাবলিকানদের এই পরাজয় আসলে ভুয়া—এটি ডেমোক্র্যাট এবং অবৈধ অভিবাসীদের এক গোপন চক্রান্তের ফল। আবার কখনো বলবেন পরাজয় সত্যি, তবে দোষটা অন্য কারও।

তাঁর প্রশাসন গত কয়েক সপ্তাহে ইঙ্গিত দিয়েছে যে বিশেষ করে আলাস্কার মতো তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সিনেট আসনগুলোর ফলাফল প্রত্যয়ন বন্ধ করার চেষ্টা করা হতে পারে।

তবে সেই পরিকল্পনার গতি এখন হয়তো অনেকটাই থেমে গেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মঙ্গলবার রাতে নিউইয়র্ক টাইমসকে জানিয়েছেন, তিনি এই মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল মেনে নেবেন। এটি নিশ্চিত যে তিনি মাইকের সামনে চিৎকার করবেন এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় বড় অক্ষরের লেখা দিয়ে রাগ প্রকাশ করবেন। কিন্তু এতে বিশেষ কোনো লাভ হবে না। কারণ, মঙ্গলবার রাতে—২০১৬ সালে হিলারি ক্লিনটনের বিরুদ্ধে অপ্রত্যাশিত জয়ের ঠিক ১০ বছর পর—ট্রাম্প যুগের কার্যকর অবসান ঘটেছে।

.

আগামী দুই বছর গত দুই বছরের মতো একেবারেই হবে না। ক্ষমতায় ফেরার প্রথম কয়েক মাসে, যখন তার নিয়ন্ত্রণে ছিল একচ্ছত্র সরকার এবং বলা হচ্ছিল যে ব্যাপক সামাজিক অসন্তোষ ও ‘অ্যান্টি-ওক’ ভাবাবেগের ওপর ভর করে তিনি ২০২৪ সালে আবার ক্ষমতায় এসেছেন, তখন মনে হয়েছিল ডোনাল্ড ট্রাম্প হয়তো আমেরিকায় একটি কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থা জোরদার করতে সফল হবেন।

তিনি সরকারি প্রশাসনিক কাঠামো ঢেলে সাজিয়েছিলেন, শত শত চাকরি বিলুপ্ত করেছিলেন এবং হাজার হাজার পদ নিজের অনুগত ও অযোগ্য ব্যক্তিদের দিয়ে পূর্ণ করেছিলেন। তিনি বড় প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মতো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নিজের সামাজিক এজেন্ডা চাপিয়ে দিয়েছিলেন—যেগুলো ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতিশোধের ভয়ে তা মেনে নিয়েছিল।

তিনি কংগ্রেসের অর্থ বরাদ্দের ক্ষমতা ছিনিয়ে নিয়েছিলেন এবং জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের তোয়াক্কা না করে ইচ্ছেমতো করদাতাদের টাকার পুনর্বিন্যাস করেছিলেন।

.ট্রাম্প কেন ইসলামাবাদকে ‘ধন্যবাদ পাকিস্তান’ বার্তা পাঠাচ্ছেন .সৌদি যুবরাজকে আবারও কেন হতাশ করলেন ট্রাম্প.

আর তিনি এই সবকিছু করতে সক্ষম হয়েছিলেন, কারণ তাকে শক্তিশালী মনে হয়েছিল এবং বিরোধী পক্ষকে মনে হয়েছিল দুর্বল। নিজের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম বছরে তিনি ধরে নিয়েছিলেন যে মানুষকে তার কথা মেনে চলতে বাধ্য করা যাবে, কারণ অমান্য করলে শাস্তির হুমকি দেওয়ার ক্ষমতা তার ছিল, আর ডেমোক্র্যাটদের তা ঠেকানোর শক্তি ছিল না।

এখন সেই ক্ষমতার চিত্রটা সম্পূর্ণ উল্টে গেছে। ২০২৪ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পুনর্নির্বাচন এখন কোনো ব্যাপক সাংস্কৃতিক পরিবর্তন বলে মনে হয় না, বরং তা মূলত মূল্যস্ফীতির মতো বস্তুগত কারণগুলোর ফল ছিল। সেই একই অর্থনৈতিক ও সামাজিক কারণগুলো এখন রিপাবলিকানদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। গ্যাসের উচ্চমূল্য, ভোক্তাদের অসহায়ত্ব, ধারাবাহিক বেকারত্ব এবং চোখে পড়ার মতো বৈষম্য ভোটারদের ক্রুদ্ধ করে তুলেছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সমস্যাগুলোর বিষয়ে উদাসীন ও অসচেতন ছিলেন—এমনকি অনেক ক্ষেত্রে তিনি পরিস্থিতি আরও জটিল করেছেন। ইরানের সঙ্গে তার অপ্রয়োজনীয় ও বেপরোয়া যুদ্ধকে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির মূল কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

.

এদিকে ট্রাম্প ব্যস্ত ছিলেন সরকারি ভবনে নিজের সুবিশাল ব্যানার টাঙাতে, হোয়াইট হাউসকে সোনায় মুড়ে নতুন রূপ দিতে এবং রাজনৈতিক মঞ্চে পুরুষ রাজনীতিবিদদের পিঠ ও পশ্চাদ্দেশ নিয়ে অদ্ভুত সব কটূক্তি করতে। তাঁকে দেখে মনে হয় তিনি একজন অহেতুক ও বাস্তবতা বিচ্ছিন্ন মানুষ, যেন সস্তা পরচুলা পরা মেরি অ্যান্টোয়ানেট।

ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৭ সালে পদার্পণ করবেন একটি শত্রুভাবাপন্ন কংগ্রেস, লক্ষণীয়ভাবে হ্রাস পাওয়া মানসিক ও শারীরিক সক্ষমতা, তলানিতে ঠেকে যাওয়া জনপ্রিয়তা এবং নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষের বাধ্যবাধকতা নিয়ে।

তদুপরি, তিনি নতুন বছরে পা দেবেন এক বিভক্ত জোটের মুখোমুখি হয়ে: ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার সিদ্ধান্তে তার ভেতরের ঘনিষ্ঠ বলয়ে ফাটল ধরেছে এবং দলের সাধারণ কর্মীদের কাছে তার নির্ভরযোগ্যতা নষ্ট হয়েছে, যাদের কাছে ২০১৬ সালে তার ‘কোনো নতুন যুদ্ধ নয়’ প্রতিশ্রুতিটি নব্য–রক্ষণশীলদের নীতি থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দিয়েছিল।

.৯/১১ পরবর্তী ‘ওয়ার অন টেরর’র ধাক্কা আমেরিকা এখন টের পাচ্ছে কি .মার্কিন রাজনীতিতে ইসরায়েলবিরোধী শক্তির উত্থান.

উচ্চাভিলাষী ও অপেক্ষাকৃত তরুণ রিপাবলিকানরা ক্ষমতার এই দুর্বলতা বুঝতে পারবেন। নিজেদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ রক্ষা করতে তারা ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যেতে শুরু করবেন; আর ট্রাম্পও কিছু ক্ষমতাহীন ও করুণ রাজাদের মতো তাদের এই বিশ্বাসঘাতকতায় ক্ষুব্ধ হয়ে নিজের রাজনৈতিক ভিত্তিকে সংগঠিত করার চেষ্টা করবেন। তবে কাউকে নতুন নেতা বানানো বা প্রতিশোধ নেওয়ার তার সেই ক্ষমতা আজকের পর অনেকটাই কমে যাবে।

ট্রাম্পের মূলশক্তি ছিল রিপাবলিকান সমর্থকদের ওপর তার অন্ধ প্রভাব—যার কারণে ভোটাররা তাকে চোখ বন্ধ করে অনুসরণ করত। মঙ্গলবার রাতের ডেমোক্র্যাটদের জয়ের ব্যবধান যদি কোনো সংকেত হয়, তবে ভোটাররা আর তাকে আগের মতো অনুসরণ করছে না।

  • মইরা ডনিগান দ্য গার্ডিয়ান ইউএস-এর একজন কলামিস্ট। দ্য গার্ডিয়ান থেকে সংক্ষেপে অনূদিত।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি।

© বিডি ২৪ নিউজ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

  বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা,আটকের দাবি : এ্যাংকর সিমেন্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অর্থপাচার, বিদেশে সম্পদের পাহাড় গড়ার অভিযোগ : তদন্তে দুদক ও ভ্যাট গোয়েন্দা   বরিশাল স্বাস্থ্যখাতে শত কোটি টাকার দুর্নীতি: পিপলাই পরিবারের টেন্ডার সিন্ডিকেট উন্মোচন   ইফতারে বৈষম্যের অভিযোগ: ভিআইপি ও সাধারণ কর্মচারীদের আলাদা মেন্যু, সমালোচনায় বরিশাল সিটি করপোরেশন   বরিশালের হলিমা খাতুন স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারী পরোয়ানা   পটুয়াখালী মেডিকেলে ৭৬ কোটি টাকার টেন্ডার বাতিল হলেও জড়িতরা বহাল তবিয়তে   রাজাপুর এলজিইডির প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদারের বিরুদ্ধে বিস্তর অনিয়মের অভিযোগ   বরিশালে বদলি ঠেকাতে ৩ শিক্ষকের গ্রেফতার নাটক   বরিশালের সেই বিতর্কিত এডলিন বিশ্বাষ পুলিশের হাতে আটক   না ফেরার দেশে বেগম খালেদা জিয়া   রাজশাহী গণপূর্তে টেন্ডারের আগেই ভাগ হচ্ছে কাজ : প্রশ্নের মুখে নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদুল ইসলাম   বরিশালের রুপাতলী ‘খাবার বাড়ি’ রেস্তোরাঁকে ১ লাখ টাকা জরিমানা   বাকেরগঞ্জে যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে গরু চুরির অভিযোগ   নলছিটিতে বৈদ্যুতিক ফাঁদে প্রাণ হারালেন কৃষক বাচ্চু মল্লিক   বদলি-নিয়োগ-দুর্নীতি, সিন্ডিকেটের দখলে প্রাথমিক শিক্ষাঅধিদপ্তর   উজিরপুরে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে বলৎকারের অভিযোগ,জুতা পেটা   বদলি-বাণিজ্য, ঘুষ নিয়ন্ত্রণ করতেন সিন্ডিকেটের মাধ্যমে, ছয় বছরের সাম্রাজ্য শাহজাহান আলীর   বরিশালে জামায়াত নেতাদের বিরুদ্ধে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের জায়গা দখল চেষ্টার অভিযোগ   বরিশালে বিসিক উদ্যোক্তা মেলায় স্টল বরাদ্দে অনিয়ম   বরিশাল কর অফিসের রতন মোল্লার হাতে আলাদিনের চেরাগ,একই কর্মস্থলে ১০ বছর   বরিশালের ১৬টি আসনে বিএনপির প্রার্থী যারা
Translate »