
বিডি ২৪ নিউজ অনলাইন: ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর উপজেলার আঙ্গারিয়া আলিম মাদ্রাসায় গভর্নিং বডি গঠনকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের লক্ষ্য মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. আফজাল হোসেন, যাকে প্রতিষ্ঠাতা সদস্য আলহাজ ফরিদুজ্জামান তালুকদার বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, স্থানীয় সরকারকে অবহিত না করে গোপনভাবে একটি ‘পকেট কমিটি’ গঠন করা হয়েছে এবং সেটি বোর্ডে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগকারী দাবি করেছেন, ভূয়া অভিভাবক দেখিয়ে ভোটার তালিকা তৈরি করা হয়েছে, একক প্রার্থী দেখিয়ে একাধিক অভিভাবক, প্রস্তাবক ও সমর্থকের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। ভোটার তালিকা দেখতে চাইলে অধ্যক্ষ তা দেখাতে অস্বীকৃতি জানান, যার ফলে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, মাসে ৬,২০,২৯২ টাকা উত্তোলনসহ নানা ধরনের আর্থিক অনিয়ম ঘটছে। কয়েকজন সহকারী শিক্ষক জানান, তাদের বেতন থেকে ১০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত টাকা কেটে নেওয়া হয়। এছাড়া ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল খালি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার মতো অভিযোগও এসেছে। শিক্ষকরা দাবি করেন, অধ্যক্ষ নিয়মিত উপস্থিত না থেকেও হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে বেতন গ্রহণ করেন।
মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকাটি ছেঁড়া অবস্থায় দেখা গেছে। স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যেখানে জাতীয় পতাকাও সম্মান পায় না, সেখানে প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা ও সুশাসন কোথায়?
অভিযোগের তদন্তে ২ ডিসেম্বর মাদ্রাসায় যান উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা সঞ্জীব মজুমদার। দুই পক্ষের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে তিনি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত সম্পন্ন করতে পারেননি এবং আংশিক প্রতিবেদন নিয়ে ফিরে যান। তিনি জানান, পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন শীঘ্রই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়া হবে।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, বেতন কর্তন ও দুর্নীতির কারণে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ব্যাপক হারে কমেছে। শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় মাদ্রাসার সুনামও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
প্রতিষ্ঠাতা সদস্য আলহাজ ফরিদুজ্জামান তালুকদার বলেন, অধ্যক্ষ আফজাল হোসেন দীর্ঘদিন ধরে মাদ্রাসাটি নিজের মতো করে পরিচালনা করছেন। অনিয়ম ও দুর্নীতি চরমে পৌঁছেছে। সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছি।
অন্যদিকে অধ্যক্ষ আফজাল হোসেন সাংবাদিকদের কাছে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি শুধুমাত্র বলেন, আপনারা যা ইচ্ছে লিখুন, চাকরি গেলে যাক, আমি কিছু বলব না।
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড জানিয়েছে, অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেলে গভর্নিং বডি পুনর্গঠনসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।