
ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের কৌশল ঠিক না ভুল, আচরণ গণতান্ত্রিক না স্বৈরতান্ত্রিক, তা নিয়ে বিতর্ক হতেই পারে। সরকারের নির্ধারণ করে দেওয়া স্থানে কেন জনগণ বিক্ষোভ দেখাতে পারবে না, সেই প্রশ্নও তোলা যেতে পারে। তবে ঘটনা হলো, ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফা ও এসআইআর প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে গতকাল শনিবার ‘তেলাপোকা’ ও তাদের সহযোগীদের যন্তর মন্তর অভিযান পণ্ড করে দিতে কেন্দ্রীয় সরকার যে পণ করেছিল, দিনের শেষে তাতে তারা সফল।
যদিও সেই সাফল্য অর্জনের জন্য গতকাল রাজধানী দিল্লিকে পুরোপুরি অচল করে ফেলেছিল কেন্দ্রীয় সরকার নিজেই। জনজীবন স্তব্ধ করে দিয়েছিল। সুদূর অতীতেও রাজধানীর এমন দশা কেউ কখনো দেখেনি।
যন্তর মন্তরকে কেন্দ্র করে ৫ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে গতকাল মোতায়েন করা হয়েছিল ৩৫ হাজার পুলিশ, র্যাফ ও আধা সামরিক বাহিনীর জওয়ান। যন্তর মন্তরকে ঘিরে তৈরি করা হয় সাতস্তরীয় ব্যারিকেড। বসানো হয় ৩ হাজার সিসি ক্যামেরা। দিল্লি মেট্রোর ৪৫টি স্টেশন শুক্রবার রাত থেকে গতকাল দিনভর যাত্রীদের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছিল। সেখান থেকে কাউকে নামতে বা উঠতে দেওয়া হয়নি।
শুধু তা-ই নয়, দিল্লির রেলস্টেশনগামী ২৫০টি দূরপাল্লার ট্রেনযাত্রা বাতিল করে দেওয়া হয়। উদ্দেশ্য, ভিন রাজ্য থেকে ট্রেনে চেপে কোনো আন্দোলনকারী যাতে গতকাল দিল্লি আসতে না পারেন। বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলোতে দিল্লিগামী ট্রেন থেকে নামিয়ে আটক করা হয়েছে কয়েক শ যাত্রীকে, যাঁরা দিল্লি আসছিলেন বিক্ষোভে অংশ নিতে। রাজধানীর লুটেন্স দিল্লি বলে পরিচিত এলাকা, যার মধ্যে রয়েছে যন্তর মন্তর, কনট প্লেস, নির্বাচন সদন, সংসদ ভবন—সেখানে গতকাল সকাল থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয় ইন্টারনেট পরিষেবা। উদ্দেশ্য, বিক্ষোভের সরাসরি সম্প্রচার যাতে সম্ভবপর না হয়।
এত বজ্র আঁটুনি সত্ত্বেও অকুতোভয় যাঁরা পুলিশের চোখ রাঙানি উপেক্ষা করে বিক্ষোভে শামিল হয়েছিলেন, পুলিশ তাঁদের আটক করে নিয়ে যায় বিভিন্ন স্টেডিয়ামে। এসব স্টেডিয়ামকে আটক কেন্দ্র হিসেবে আগেই তৈরি রাখা হয়েছিল।
সিজেপির আন্দোলন ছিল অহিংস। কোথাও বিক্ষোভকারীরা পুলিশের প্রতি সহিংস আচরণ দেখাননি। তারপরও নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের ট্রেন, উড়োজাহাজ, রাজপথ যেখানেই পেয়েছে, আটক করেছে। সর্বশেষ খবরে জানা যাচ্ছে, সরকার সিজেপির যন্তর মন্তর আন্দোলন ঠেকাতে গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত শুধু দিল্লিতেই অন্তত ৬ হাজার ব্যক্তিকে আটক করেছে। এ ছাড়া মহারাষ্ট্রের মুম্বাইসহ বিভিন্ন রাজ্যে অনেককে আটক করা হয়েছে। এভাবে আটক ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন চার রাজ্যের সাবেক চার মুখ্যমন্ত্রী—কেরলমের অশীতিপর সিপিএম নেতা পিনারাই বিজয়ন, পশ্চিমবঙ্গের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, ত্রিপুরার মানিক সরকার ও দিল্লির অরবিন্দ কেজরিওয়াল। বিজয়ন ও কেজরিওয়াল যন্তর মন্তর অভিমুখে যেতে গিয়ে আটক হন, মমতাকে আটক করা হয় তাঁর বাসস্থানের সামনে থেকে। মানিক সরকারও দিল্লিতে আটক হন।
যন্তর মন্তরে যাওয়া অসম্ভব দেখে মমতা সাউথ অ্যাভিনিউয়ে তাঁর ভাতিজা অভিষেকের সরকারি আবাসের সামনে বাস ছাউনিতে অবস্থান শুরু করেন। সেখান থেকে তাঁকে ও তাঁর সঙ্গী সংসদ সদস্য দোলা সেন, প্রতিমা মণ্ডল, সামিরুল ইসলাম, সাকেত গোখলে ও ডেরেক ও’ব্রায়ানকে আটক করে পুলিশ।
গতকাল সকালে বেঙ্গালুরু থেকে দিল্লি পৌঁছানো মাত্র উড়োজাহাজের ভেতরে গিয়ে আটক করা হয় ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) তিন নেতা অভিজিৎ দিপকে, আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসকে। এর আগে গুরুগ্রামের বাড়ি থেকে আটক করা হয় জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকে। মাত্র তিন দিন আগে জার্মানি থেকে তিনি ভারতে আসেন ‘তেলাপোকাদের’ আন্দোলনে শরিক হতে। সিজেপির লিগ্যাল সেলের নেত্রী রত্না সিংকেও দিল্লি পুলিশ আটক করেছে।
গ্রেপ্তারের আগে অভিজিৎ দিপকে জানিয়ে দেন, তাঁদের অনুপস্থিতিতে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেবেন অজিঙ্ক শিন্ডে। এর মধ্য দিয়ে সিজেপি বুঝিয়ে দিল, আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। দিনের শেষে সিজেপির নেতাদের মুখে দিপকের কথারই প্রতিধ্বনি শোনা গেছে। ধরপাকড় আর দমন–পীড়ন সত্ত্বেও ‘জ্ঞানেশ হটাও’ আন্দোলন চলবে। গত রাতে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস–এর খবরে জানানো হয়, আজ রোববারও যন্তর মন্তরে কর্মসূচি দিয়েছে সিজেপি। গতকাল সিজেপির ভেরিফায়েড এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে দেওয়া এক পোস্টে অজিঙ্ক শিন্ডে লেখেন, ‘মোদি সরকার ভয় পাচ্ছে। আমরা আবার একজোট হলে তাদের ক্ষমতার গদি টলে যেতে পারে। কিন্তু আমরা পিছু হটছি না! আগামীকাল (আজ) আবার যন্তর মন্তরের উদ্দেশে মিছিল করব। আমাদের সব দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করব।’
আটক করা হয়েছে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্ক্সবাদী-লেনিনবাদী) লিবারেশন বা সিপিআই (এমএল) লিবারেশনের ছাত্রসংগঠন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (এআইএসএ) সভাপতি নেহা বোরাকে। যন্তর মন্তরে যেতে বাধা পেতে হবে দেখে সিপিআই (এমএল) লিবারেশনের ছাত্রসংগঠন ‘আইসা’র নেত্রী নেহা সমর্থক ও সহযোগীদের নিয়ে মিছিল বের করেন দক্ষিণ দিল্লির আইএনএ মার্কেটের কাছে জনপ্রিয় দিল্লি হাটের সামনে। পুলিশ সেখান থেকে তাঁকে আটক করে। অবশ্য পরে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
নেহা বোরা অভিযোগ করেছেন, দিল্লি পুলিশ তাঁর মুঠোফোন ছিনিয়ে নিয়ে কিছু সময়ের জন্য রেখে দিয়েছিল। পরে অবশ্য তাঁকে ফোন ফেরত দেওয়া হয়। নেহা ছাড়াও মিছিল থেকে আটক করা হয়েছে সিপিআই (এমএল) লিবারেশনের সাধারণ সম্পাদক দীপংকর ভট্টাচার্য, সমাজকর্মী যোগেন্দ্র যাদব, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণসহ শতাধিক বিক্ষোভকারীকে।
সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের আইনজীবীরা মিছিল করে যন্তর মন্তরে যাওয়ার পথে আটক হন। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তর হস্তক্ষেপে সামান্য সময়ের পরেই অবশ্য তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। সরকারের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে আরও অনেকে নানা পথে যন্তর মন্তর অভিমুখে যেতে গিয়ে বাধা পান। প্রত্যেককেই বাসে চাপিয়ে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।
মুম্বাইয়ের আগস্ট ক্রান্তি ময়দান বিক্ষোভের সময় অভিনেতা ইমরান খানকে আটক করা হয়েছে। আটকের পর পুলিশ ভ্যান থেকে সেলফি পোস্ট করে তিনি লিখেছেন, ‘মনে হচ্ছে আমি ড্রাইভে যাচ্ছি।’
তবে গতকাল রাত সাড়ে ১০টার দিকে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস–এর খবরে বলা হয়, সিজেপির প্রথম সারির নেতাদের ছাড়া আটক সবাইকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এর আগেই সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ও কেজরিওয়ালকে ছেড়ে দেওয়ার কথা জানা যায়। তারও আগে নেহা বোরাকে ছেড়ে দেয় পুলিশ। মুক্তি পাওয়ার পর নেহা এক্স হ্যান্ডলে লেখেন, ‘পুলিশ আমার ফোন নিয়ে নিয়েছিল। সেটা ফেরত পেয়েছি।’
বিক্ষোভ ঘিরে আটক সবাইকে আজ রোববারের মধ্যে মুক্তি দিতে হবে। না হলে অনশন বা পদযাত্রা কর্মসূচির কথা বিবেচনা করবেন বলে জানিয়েছেন শিক্ষাবিদ ও পরিবেশ আন্দোলনকর্মী সোনম ওয়াংচুক।
ম্যাগসাইসাই পুরস্কারজয়ী এই শিক্ষাবিদ গতকাল এক এক্স বার্তায় লিখেছেন, ‘গতকাল যখন আমি আজকের বিক্ষোভে ঐক্য ও শান্তির জন্য আবেদন জানিয়ে একটি বার্তা পোস্ট করেছিলাম, তখন কল্পনাও করতে পারিনি, বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র একটি অঘোষিত জরুরি অবস্থার মধ্যে পড়বে।’
শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক আন্দোলন দমাতে নরেন্দ্র মোদির সরকার ও দিল্লির পুলিশ-প্রশাসন দমন-পীড়ন এবং পেশিশক্তি ও ভীতি প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে জনজীবন অচল করার যে নজির রাখল, দিল্লিবাসীর কাছে তা অভূতপূর্ব। এটা যেন দমন-পীড়নের সেই ১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থার স্মৃতি ফিরিয়ে আনছে। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী নাগরিক স্বাধীনতা খর্ব করেছিলেন, সংবাদপত্রের ওপর সেন্সরশিপ আরোপ করেছিলেন এবং রাজনৈতিক বিরোধীদের কারাগারে পাঠিয়েছিলেন।
দিল্লির আদি বাসিন্দারা অবশ্য ১৯৮৩-৮৪ সালের খালিস্তানি আন্দোলন দেখেছে, ১৯৮৮ সালের কৃষক বিক্ষোভও। তৎকালীন সরকার সেই দুই আন্দোলন সামাল দিয়েছিল তার মতো করে।
কৃষকনেতা মহেন্দ্র সিং টিকায়েত এক সপ্তাহ দিল্লির ইন্ডিয়া গেট বরাবর প্রশস্ত বোট ক্লাবের দুই ধার দখল করে নিয়েছিলেন; কিন্তু তা সত্ত্বেও সে সময় জনজীবন এভাবে স্তব্ধ করা হয়নি। ‘তেলাপোকাদের’ ঠেকাতে এবার মোদি সরকার যা করল, দিল্লিবাসী অতীতে তা দেখেনি।
বোট ক্লাবই ছিল দিল্লির গণতান্ত্রিক শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ দেখানোর জায়গা। ১৯৯৩ সালে প্রধানমন্ত্রী নরসিমা রাওয়ের আমলে বোট ক্লাবের বদলে যন্তর মন্তরকে বেছে নেওয়া হয় গণতান্ত্রিক বিক্ষোভস্থল হিসেবে। এবার সম্ভবত তারও বদল ঘটতে চলেছে।
এখন প্রশ্ন, অতঃপর কী। অভিজিৎ দিপকেরা অবশ্যই থামবেন না। এত দিন ধরে তাঁদের কথাবার্তা ও আচরণই তা বোঝাচ্ছে। অজিঙ্ক শিন্ডেকে দায়িত্ব দেওয়া তার আরও এক প্রমাণ। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীও চেন্নাই থেকে ভিডিও বার্তায় বলেছেন, ‘যুবসমাজ, প্রতিবাদ চালিয়ে যাও। আমি তোমাদের নিয়ে গর্বিত।’
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে রাহুল বলেন, ‘মি. মোদি, আপনার যা খুশি করুন। সব পুলিশকে ডাকুন: ১০ হাজার, ২০ হাজার, ৫০ হাজার, আপনার যা ইচ্ছা। সব নেতাকে গ্রেপ্তার করুন। সব তরুণকে গ্রেপ্তার করুন। আমাদের সবাইকে গ্রেপ্তার করুন।’
তোলাপোকারা দ্বিতীয় দফার যন্তর মন্তর আন্দোলনের ডাক দিয়েছিলেন সরকারি ছুটির দিনে। পরবর্তী আন্দোলন কাজের দিনে দিলে সরকার কি আবার এভাবে জনজীবন অচল করে রাখবে? যদি লাগাতার আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়? কী করবে সরকার?
‘ইন্ডিয়া’ জোট আগেই জানিয়ে রেখেছে, সোমবার তারা সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে দরবার করবে। ‘ইন্ডিয়া’ ও সিজেপির লক্ষ্য অভিন্ন হলেও কেউ এখন পর্যন্ত যৌথ আন্দোলনে আগ্রহী নয়। সরকারের কাছে এটা স্বস্তির বিষয়। কিন্তু অস্বস্তি চরমে উঠবে দুই পক্ষ জোটবদ্ধ হয়ে গেলে এবং অবশ্যই সুপ্রিম কোর্ট এ-সংক্রান্ত মামলায় বিরূপ রায় দিলে। আগামী দিনগুলোর ঘটনাপ্রবাহ তাই গুরুত্বপূর্ণ।
সাবেক নির্বাচন কমিশনাররা যেভাবে জ্ঞানেশ কুমারের কর্মপদ্ধতি ও সিদ্ধান্তের সমালোচনা করছেন, বিরোধীরা সমস্বরে প্রতিবাদী হয়ে উঠছেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যেভাবে ইসি, বিজেপি ও সরকারবিরোধী জনমত গড়ে তুলছে, তাতে সরকার ক্রমেই কোণঠাসা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে আরএসএস, সংঘ পরিবার, বিজেপি ও মোদি সরকার এই আন্দোলনকে দেশপ্রেমিক বনাম দেশদ্রোহী, রাষ্ট্রবাদী বনাম বিচ্ছিন্নতাবাদী, স্বদেশ বনাম বিদেশি চক্রান্তকারীদের লড়াইয়ের রূপ দিতে চাইছে। বিজেপির সভাপতি নিতিন নবীন গতকাল সরাসরি জানিয়ে দিতে ভোলেননি, দেশকে দুর্বল করার এই দেশি-বিদেশি চক্রান্ত তাঁরা ব্যর্থ করে দেবেন।
কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা গ্রহণ যতটা সহজ ছিল, সিইসি জ্ঞানেশ কুমারকে ইস্তফার ইঙ্গিত দেওয়া তাঁর নিয়োগকর্তার পক্ষে ততটাই কঠিন। তাই সরকার ও বিরোধীদের এই লড়াই যে আরও জটিল পরিস্থিতির দিকে যাচ্ছে, এটা বলাই যায়। আর সিজেপির আজকের কর্মসূচি ঠেকাতে প্রস্তুতির কথা গত রাতেই জানিয়ে দিয়েছে পুলিশ। ফলে আজও হয়তো মোদি সরকার ও দিল্লি পুলিশ-প্রশাসনের দমন-পীড়ন এবং পেশিশক্তির নজির দেখবে সবাই।