সোমবার ১৮ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ৪ঠা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ই-পেপার   সোমবার ১৮ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ


আধুনিকতার যাতাকলে হারিয়ে যাচ্ছে বাংলার ঐতিহ্যবাহী নবান্নের উৎসব
প্রকাশ: ১১ জুন, ২০২০, ৩:১৫ অপরাহ্ণ |
অনলাইন সংস্করণ

আধুনিকতার যাতাকলে হারিয়ে যাচ্ছে বাংলার ঐতিহ্যবাহী নবান্নের উৎসব

সাব্বির আলম বাবুঃ
ভাঁপা পীঠারে…তোরে খাইতে গিয়া হা…আমার মুখটা পুইরা গেছে রে… জনপ্রিয় এই গানের রেশ ধরে আমাদের মনের গহীন কোনে ভেসে ওঠে বাঙ্গালীর শীত কালীন নবান্নের পীঠা উৎসবের কথা। এক সময়ে ভাওইয়া-ভাটিয়ালী-মুর্শীদি গান গুন গুন করে গাইতে গাইতে অগ্রহায়ন মাসে মাঠ ভর্তি সোনালী রংয়ের পাকা ধান কাটায় ব্যস্ত থাকতো কৃষক। মাথায় করে ধানের আঁটি বয়ে এনে বাড়ীর আঙ্গিনায় জড়ো করে পরে গরু দিয়ে তা মাড়াই করে ধান ও খড়-কুটা আলাদা করতো। সেই খড়-কুটা দিয়ে কেউ ঘরের ছাউনী দিত আবার কেউ গরুর খাবার হিসেবে সংরক্ষন করতো। এরপরই কৃষানীদের কাজ শুরু হয়ে যেত, যেন সাজ সাজ রব পড়েছে, তারা সংসারের দ্বায়িত্ব সামলে কিছু ধান বিক্রি বা সংসারের চাল-ভাতের জন্য গরম পানিতে সিদ্ধ করতো আবার কিছু ধান পীঠা তৈরীর জন্য সিদ্ধ ছাড়া রেখে দিতো যাকে স্থানীয় ভাষায় (আলবা) ধান বলা হয়। কিছু ধান আবার জমিতে পরবর্তী ধানের চারা রোপনের জন্য বীজতলা হিসাবে সংরক্ষন করতো। এসকল কর্মকান্ডের সঙ্গে গ্রামের কৃষানীরা আলবা ধানকে ঢেঁকিতে ছেঁটে ঘরে-ঘরে, বাড়ীতে-বাড়ীতে নব অন্নের বাহারী নকশার পুস্টিমান সম্পন্ন পীঠা তৈরী করা বা নবান্নের উৎসব চলতো। বিকাল থেকে রাত ব্যাপী নাচ-গানের পাশাপাশি একজন আরেক জনের ঘরে বা বাড়ীতে বেড়াতে যেত অথবা পীঠা পাঠাতো। এতে নিজেদের মাঝে আন্তরিকতা-হৃদ্যতা প্রকাশ পেতো। কিন্তু কালের বিবর্তনে আধুনিকতার যাতাকলে বাংলার বহুদিনের ঐতিহ্যবাহী নবান্ন উৎসব আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। ইরি-বোরো ধান, সার-কীট নাশকের আগ্রাসনে মুনাফা লোভী কৃষকের কারনে আউস, আমন, গীয়স, কালিজিরা সহ বিভিন্ন জাতের পুস্টিমান সমৃদ্ধ ধান কম মুনাফা বিধায় এগুলো চাষে অনাগ্রহী। উপরোন্তু প্রযুক্তির উৎকর্ষকায় উরকা, ট্রাকটর সহ নানা মেশিনের সাহায্যে কম খরচে, স্বল্প সময়ে ক্ষেত হতে ধান কাটা থেকে শুরু করে বাড়ীতে চাল হয়ে পৌছানো পর্যন্ত সকল প্রক্রিয়াই মেশিনে হয় এমন কি পীঠা তেরীর চালের গুড়াও মেশিনে হয়। তাই সেই নবান্নের আমেজ এখন আর পাওয়া যায় না। অপর দিকে যত্রতত্র অতিরিক্ত রাসায়নিক সার, কীটনাশক প্রয়োগের ফলে জমির উর্বর শক্তি ক্রমেই নস্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে বিভিন্ন ফসলের উৎপাদন দিনে দিনে কমে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে অদূর ভবিষ্যতে বাংলার সুজলা-সুফলা-শস্য-শ্যামলা মাটি মরুভূমিতে রুপান্তর হবে। তাই সরকারী ও বেসরকারী সংস্থাগুলোর এ বিষয়ে কাজ করা জরুরী বলে মনে করেন সুশীল সমাজ।




এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি।

© বিডি ২৪ নিউজ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

  বরিশাল স্বাস্থ্যখাতে শত কোটি টাকার দুর্নীতি: পিপলাই পরিবারের টেন্ডার সিন্ডিকেট উন্মোচন   ইফতারে বৈষম্যের অভিযোগ: ভিআইপি ও সাধারণ কর্মচারীদের আলাদা মেন্যু, সমালোচনায় বরিশাল সিটি করপোরেশন   বরিশালের হলিমা খাতুন স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারী পরোয়ানা   পটুয়াখালী মেডিকেলে ৭৬ কোটি টাকার টেন্ডার বাতিল হলেও জড়িতরা বহাল তবিয়তে   রাজাপুর এলজিইডির প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদারের বিরুদ্ধে বিস্তর অনিয়মের অভিযোগ   বরিশালে বদলি ঠেকাতে ৩ শিক্ষকের গ্রেফতার নাটক   বরিশালের সেই বিতর্কিত এডলিন বিশ্বাষ পুলিশের হাতে আটক   না ফেরার দেশে বেগম খালেদা জিয়া   রাজশাহী গণপূর্তে টেন্ডারের আগেই ভাগ হচ্ছে কাজ : প্রশ্নের মুখে নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদুল ইসলাম   বরিশালের রুপাতলী ‘খাবার বাড়ি’ রেস্তোরাঁকে ১ লাখ টাকা জরিমানা   বাকেরগঞ্জে যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে গরু চুরির অভিযোগ   নলছিটিতে বৈদ্যুতিক ফাঁদে প্রাণ হারালেন কৃষক বাচ্চু মল্লিক   বদলি-নিয়োগ-দুর্নীতি, সিন্ডিকেটের দখলে প্রাথমিক শিক্ষাঅধিদপ্তর   উজিরপুরে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে বলৎকারের অভিযোগ,জুতা পেটা   বদলি-বাণিজ্য, ঘুষ নিয়ন্ত্রণ করতেন সিন্ডিকেটের মাধ্যমে, ছয় বছরের সাম্রাজ্য শাহজাহান আলীর   বরিশালে জামায়াত নেতাদের বিরুদ্ধে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের জায়গা দখল চেষ্টার অভিযোগ   বরিশালে বিসিক উদ্যোক্তা মেলায় স্টল বরাদ্দে অনিয়ম   বরিশাল কর অফিসের রতন মোল্লার হাতে আলাদিনের চেরাগ,একই কর্মস্থলে ১০ বছর   বরিশালের ১৬টি আসনে বিএনপির প্রার্থী যারা   বরিশালে অপসাংবাদিকতা বন্ধে ঐক্যবদ্ধ ৩৫ সংগঠন
Translate »