
মামুনুর রশীদ নোমানী: ইসলাম ধর্মালম্বীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাস মাহে রমজান। পবিত্র এই মাসে সিয়াম সাধনার মাধ্যমে জাগতিক সব আরাম-আয়েশ থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন রাখা এবং মনকে স্থির রাখার সংকল্প নিয়ে যাত্রা শুরু হয়। রমজান মাসটি সহনশীলতার মাস, সংযমের মাস। সাওম পালন করলে মানুষ পরস্পরের প্রতি সহানুভূতিশীল হন। এই মাসে সামাজিক বন্ধন বৃদ্ধি পায়। ধনী ও গরিবের মধ্যে ভেদাভেদ ভুলে মানুষ সবাই একই কাতারে চলে আসেন। অর্থবানরা নিম্ন আয়ের মানুষদের অনাহারে থাকার কষ্টটা অনুধাবন করতে পারেন। ফলে তারা তাদের পাশে দাঁড়াতে উৎসাহিত হন।
অথচ ইফতারে বরিশাল সিটি করপোরেশনের কর্তারা ধনী ও গরিবের মধ্যে পার্থক্য করলেন ইফতারের মেন্যুতেই। তারা সহানিভূতিশীল হতে পারেন নি।ইফতারেও ভেদাভেদ ভুলতে পারেন নি।সৃষ্টি করলেন বৈষম্য আর হিংসা ও বিবেধ।পার্থক্য করলেন শ্রেনীর। তৃতীয় ও চতর্থ শ্রেনী কর্মচারীদের আলাদা মেন্যুর কারনে ইফতারের স্বাদ যেন বিশ্বাদে পরিনত হয়েছে। আনন্দের জায়গায় পেয়েছে কস্ট। খুশির জায়গায় হয়েছে অপমানিত। বরিশাল সিটি করপোরেশনের একাধিক সুত্র ও ইফতার মাহফিলে অংশ নেয়া লোকজন জানিয়েছে,বরিশাল সিটি করপোরেশনের আয়োজনে ৪ মার্চ বুধবার শহীদ মিনার সংলগ্ন সিটি করপোরেশনের অডিটরিয়ামে পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে ইফতার ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা করে। ইফতার মেন্যুতে ভিভিআইপি ও ভিআইপিদের জন্য ডাবের পানি,শরবত,মাম পানি,মাছ ফ্রাই,মুরগীর টিক্কা,জুস,কাচ্চি বিরিয়ানী,খেজুর,বুট,পিয়াজু,বেগুনী,মুড়ি সহ বিভিন্ন খাবার পরিবেশ করা হয়। অথচ তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেনীর করামচারীদের জন্য স্রেফ এসএমসির এক প্যাকেট জুস, এক বোতল মাম পানি,খেজুর ও এক প্যাকেট তেহারী দেয়া হয় ইফতারির জন্য।এ দিকে পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের দাওয়াতই দেয়া হয়নি ইফতারিতে। ইফতারির মেন্যুতে বড় ধরনের বৈষম্য ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের ইফতারে আমন্ত্রন না করায় সিটি করপোরেশনে অসন্তোষ বিরাজ করছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিটি করপোরেশনের এক কর্মকর্তা জানান,ইফতারের নামে সিটি করপোরেশন বিবেধ ও বৈষম্য সৃষ্টি করেছে যা দুঃখজনক।ইফতারে বৈষম্য এটা মারাত্ম অন্যায় ও গর্হিত কাজ। শ্রেণি বিভেদ সৃষ্টি করাটা ঠিক হয়নি। আরেক কর্মকর্তা জানান, সিটি করপোরেশন তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেনীর কর্মচারীদের ইফতার মেন্যুর নামে যা দিয়েছে তা লজ্জাজনক কি বলবো। বলার ভাষা নেই।
ইফতারে ভাঙি রোজা, ভাঙি বৈষম্য’। ইফতারে শুধু রোজা না ভাঙি, ভাঙি বৈষম্য’—এই স্লোগানটি ভুল প্রমান করেছে বরিশাল সিটি করপোরেশন। সমাজে বিদ্যমান সুবিধাবঞ্চিত ও সুবিধাপ্রাপ্ত মানুষদের মধ্যে ভেদাভেদ না ভুলে আলাদা মেন্যুতে ইফতার করে শ্রেনী বিদ্বেষ সৃষ্টি করেছে বরিশাল সিটি করপোরেশন।