
বিডি ২৪ নিউজ অনলাইন: স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ঘিরে আবারও উঠেছে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ। আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফিরোজ আলম তালুকদার। তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী উপসহকারী প্রকৌশলী শেখ রাজিবকে সঙ্গে নিয়ে তিনি এলজিইডির বিভিন্ন প্রকল্পে বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন।
সূত্র জানায়, ফিরোজ আলম তালুকদার ও রাজিব একসঙ্গে মিলে একপ্রকার ‘লুটের রাজত্ব’ গড়ে তুলেছিলেন। শেখ রাজিবের স্ত্রী পুলিশ সদস্য হিসেবে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গণভবনে দায়িত্বে ছিলেন। তার প্রভাবের কারণে অফিসের অনেকেই রাজিবের মুখের কথাকেই “গণভবনের নির্দেশ” বলে ধরে নিত। এই সম্পর্কের সুযোগে ফিরোজ-রাজিব জুটি বিভিন্ন প্রকল্পের টাকা আত্মসাত করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সাবেক আওয়ামী সরকারের পতনের পর তাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটে। এলজিইডি ভবনের কর্মচারী ও ঠিকাদাররা ফিরোজ আলম তালুকদারকে লাঞ্ছিত করে অফিস থেকে বের করে দেয়। এমনকি তার জামাকাপড় ছিঁড়ে ফেলার ঘটনাও ঘটে বলে জানা যায়। ওই সময়ের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। পরে তিনি গোপনে মাঝে মাঝে অফিসে যেতেন। বর্তমানে তাকে এলজিইডির প্রধান কার্যালয়ে বদলি করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে একাধিক প্রকল্পে অনিয়মের প্রমাণ। GDP-03 প্রকল্পের অধীনে ঢাকা জেলার দোহার উপজেলার দেবীনগর আজর আলী মোল্লার বাড়ি থেকে হাশেম মাদবর-করিম মোল্লা সড়কের (দৈর্ঘ্য ৬৩০ মিটার) ঠিকাদার ছিলেন মেসার্স নুর এন্টারপ্রাইজের প্রোপাইটর গাজী হাফিজুর রহমান। প্রকল্পের চুক্তিমূল্য ৬৭,০০,০০০ টাকা হলেও কাজ না করেই অতিরিক্ত ৩৭ লাখ টাকা বিল তোলা হয়। এ ঘটনায় উপসহকারী প্রকৌশলী শেখ রাজিব ও নির্বাহী প্রকৌশলী ফিরোজ আলম তালুকদারের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে।
তাছাড়া, IRIDP-3 প্রকল্পের অধীনে দোহার উপজেলার রাধানগর কৃষ্ণদেবপুর স্যাটেলাইট স্কুল সড়কের কাজের দায়িত্বে ছিল বিসমিল্লাহ কনস্ট্রাকশন, যার প্রোপাইটর আবুল কালাম আজাদ। ১ কোটি ২২ লাখ টাকার এই কাজেও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যায়। নির্ধারিত সময়ের আগেই ৮৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার অতিরিক্ত বিল পরিশোধ করা হলেও কাজ অসম্পূর্ণ থেকে যায়, ফলে প্রকল্পটি ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে বাতিল করা হয়।
এ ছাড়া নবাবগঞ্জ উপজেলার বান্দুরা-বারুয়া খালি শিকারীপাড়া রোড উন্নয়ন প্রকল্পেও অনিয়মের প্রমাণ মেলে। এস এম ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল নামে প্রতিষ্ঠানের প্রোপাইটর সাইফুল ইসলামের নামে ৯২০,৭৮,৫৩,৩০০ টাকার কাজের চুক্তি হয়। কিন্তু কাজ শুরু না করেই ৩২ লাখ টাকা অগ্রিম বিল নেওয়া হয়। সময়মতো কাজ সম্পন্ন না করায় ৪ মে ২০২৫ তারিখে এই প্রকল্পও বাতিল করা হয়।
এলজিইডি সদর দপ্তরের কর্মীদের দাবি, বর্তমানে ফিরোজ আলম তালুকদার রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে নানা তদবির বাণিজ্যে লিপ্ত রয়েছেন এবং বিরোধীদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন।