সোমবার ১৮ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ৪ঠা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ই-পেপার   সোমবার ১৮ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ


কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে মাছ ধরার প্রাচীন ফাঁদ বড়শী
প্রকাশ: ২৫ জুন, ২০২০, ৮:২০ অপরাহ্ণ |
অনলাইন সংস্করণ

কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে মাছ ধরার প্রাচীন ফাঁদ বড়শী

সাব্বির আলম বাবুঃ
গ্রাম বাংলার মেঠোপথ ধরে চলার পথে হঠাৎ কোন হ্যাচকা টানের শব্দ অথবা চোখের সামনে ধরা পরে কোন নিরব শিকারী বড়শী হাতে পুকুর-খাল অথবা বাড়ীর পাশের পতিত কোন জলাশয়ের পাশে চুপচাপ বসে আছে ছিপ কেঁপে ওঠার আশায়।চুবা বা ডুবা কেঁপে উঠলেই আচমকা বড়শীতে টান দেয়, তখন হয়তো উঠে আসে বাহারী কোন রুপালী রঙের মাছ। জলাশয়ের পানির নীচে ঘুরে বেড়ানো কোন মাছ খাবারের খোঁজে সামনে লোভনীয় টোপ দেখে বড়শীতে গাঁথা খাবার ঠোঁকর দিলে পানির উপরে ভাসা চুবা বা ডুবা নড়ে উঠে। একে স্থানীয় ভাষায় পোটায় বলা হয়। তখন মাছ শিকারী বুঝতে পারে যে মাছ এসেছে। তখন সে হ্যাচকা টান দিলে মাছের মূখে বা কানে বড়শীর তীক্ষ্ণ ফলা গেঁথে যায়। তখন সহজেই এটি শিকার করা যায়। নগর সভ্যতার বেড়াজালে দিনে দিনে জলাশায় বা পুকুর কমতে থাকলেও এখন যা অবশিষ্ট আছে তাতে এখনো নিয়ম করে চলে ছিপ-বড়শী আর মাছের খেলা। শুধু টোপ, বড়শী আর ছিপই নয় মাছ শিকারে কঠিন অধ্যাবসায় আর অপরিসীম ধৈর্যও থাকতে হয়। এই কাজে যারা অভিজ্ঞ তারা জলশয়ের অবস্থা এবং পরিবেশ বুঝে প্রথমে বসার জায়গা নির্ধারন করে মাছের আকর্ষণ করার জন্য বিশেষ ধরনের চারি (মাছের খাবার) ব্যবহার করা হয়। তারপর টোপ, চুবা, ছিপ পানিতে ভেসে থাকা সেই চারির কাছাকাছি পাতা হয়। মাছ চারির ঘ্রানে সেগুলো খাওয়ার জন্য ছুটে এলে ভূল করে বড়শীতে গাঁথা খাবার গিলে ফেলে তখন শিকারী হ্যাচকা টান দিলে মাছ আটকে যায়। এই মাছ ধরার ফাঁদ বা বড়শী গ্রাম বাংলার সাধারন নিম্নবিত্ত পরিবারের জনগন থেকে শুরু করে উচ্চবিত্ত পরিবারের সদস্যরাও বড়শী দিয়ে মাছ শিকার করতো। বড়শী দিয়ে মাছ শিকারী ইউনুস জানান, ছোটবেলা থেকেই শখের বশে নিজে বড়শী দিয়ে মাছ শিকারের পাশাপাশি এর সরঞ্জাম ও তিনি বিক্রি করেন। নানা ধরনের ছোট বড় মাছের জন্য বিভিন্ন রকমের বড়শী, ছিপ, চুবা, সুতা, হুইলার ইত্যাদি তিনি বিক্রি করেন। ধরন অনুযায়ী একেকটার একেক রকমের দাম। গ্রামের দরিদ্র পরিবারের কেউ কেউ বড়শী দিয়ে ছোট ছোট মাছ যেমন- টাকি, পুঁটি, শোল, ঘুইঙ্গা, বাইন, কৈ ইত্যাদি ধরে বাজারে বিক্রি করে সংসার চালায় আবার কেউ বড় বড় পুরনো পুকুর -দীঘিতে সৌখিন ভাবে দলবদ্ধ হয়ে টিকেট কেটে বড় মাছ ধরে। কেউ মাছ ধরে পেটের তাগিদে আর কেউ মাছ ধরে সৌখিনতার জন্য তবে সবগুলোরই মাধ্যম কিন্তু বড়শী। কালের বিবর্তনে ও আধুনিকার ছোঁয়ায় বর্তমানে চাষাবাদের জমি সহ যত্রতত্র কীটনাশকের প্রয়োগ এবং খাল-বিল-পুকুর সহ অন্যান্য জলাশয় ভরাটের কারনে ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার প্রাচীন মাছ ধরার বড়শী।




এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি।

© বিডি ২৪ নিউজ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

  বরিশাল স্বাস্থ্যখাতে শত কোটি টাকার দুর্নীতি: পিপলাই পরিবারের টেন্ডার সিন্ডিকেট উন্মোচন   ইফতারে বৈষম্যের অভিযোগ: ভিআইপি ও সাধারণ কর্মচারীদের আলাদা মেন্যু, সমালোচনায় বরিশাল সিটি করপোরেশন   বরিশালের হলিমা খাতুন স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারী পরোয়ানা   পটুয়াখালী মেডিকেলে ৭৬ কোটি টাকার টেন্ডার বাতিল হলেও জড়িতরা বহাল তবিয়তে   রাজাপুর এলজিইডির প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদারের বিরুদ্ধে বিস্তর অনিয়মের অভিযোগ   বরিশালে বদলি ঠেকাতে ৩ শিক্ষকের গ্রেফতার নাটক   বরিশালের সেই বিতর্কিত এডলিন বিশ্বাষ পুলিশের হাতে আটক   না ফেরার দেশে বেগম খালেদা জিয়া   রাজশাহী গণপূর্তে টেন্ডারের আগেই ভাগ হচ্ছে কাজ : প্রশ্নের মুখে নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদুল ইসলাম   বরিশালের রুপাতলী ‘খাবার বাড়ি’ রেস্তোরাঁকে ১ লাখ টাকা জরিমানা   বাকেরগঞ্জে যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে গরু চুরির অভিযোগ   নলছিটিতে বৈদ্যুতিক ফাঁদে প্রাণ হারালেন কৃষক বাচ্চু মল্লিক   বদলি-নিয়োগ-দুর্নীতি, সিন্ডিকেটের দখলে প্রাথমিক শিক্ষাঅধিদপ্তর   উজিরপুরে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে বলৎকারের অভিযোগ,জুতা পেটা   বদলি-বাণিজ্য, ঘুষ নিয়ন্ত্রণ করতেন সিন্ডিকেটের মাধ্যমে, ছয় বছরের সাম্রাজ্য শাহজাহান আলীর   বরিশালে জামায়াত নেতাদের বিরুদ্ধে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের জায়গা দখল চেষ্টার অভিযোগ   বরিশালে বিসিক উদ্যোক্তা মেলায় স্টল বরাদ্দে অনিয়ম   বরিশাল কর অফিসের রতন মোল্লার হাতে আলাদিনের চেরাগ,একই কর্মস্থলে ১০ বছর   বরিশালের ১৬টি আসনে বিএনপির প্রার্থী যারা   বরিশালে অপসাংবাদিকতা বন্ধে ঐক্যবদ্ধ ৩৫ সংগঠন
Translate »