
বিডি ২৪ নিউজ অনলাইন: গণপূর্ত অধিদপ্তরের ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৩ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো: মইনুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঠিকাদারের কাছ থেকে কমিশন নিয়ে ঠিকাদারের ত্রুটিপূর্ণ কাগজপত্রে কাজ দেওয়ার সুপারিশের অভিযোগ উঠেছে। “দেশের বিভিন্ন স্থানে বাংলাদেশ পুলিশের থানার প্রশাসনিক কাম ব্যারাক ভবন নির্মাণ” প্রকল্পের আওতায় ঢাকা জেলার দক্ষিণ ও উত্তর কেরাণীগঞ্জ থানার নতুন দুটি ভবন নির্মাণ কাজের দরপত্রে মইনুল কমিশন নিয়ে এই জালিয়াতির আশ্রয় নিতে চেয়েছিলেন বলে জানা যায়।
অনুসন্ধানে জানা যায়, “দেশের বিভিন্ন স্থানে বাংলাদেশ পুলিশের থানার প্রশাসনিক কাম ব্যারাক ভবন নির্মাণ” প্রকল্পের আওতায় দক্ষিন কেরানীগঞ্জ থানার নতুন ভবন নির্মাণের জন্য ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৩ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো: মইনুল ইসলাম ১১৬৩৯৩৪ নম্বর দরপত্র আহবান করেন। উক্ত দরপত্রে ৮ জন ঠিকাদার দরপত্র দাখিল করেছিলেন। প্রাথমিক মূল্যায়নে ৫ জন ঠিকাদার রেস্পন্সিভ দরদাতা হতে MKT & BC (JV)-কে বিজয়ী হিসেবে কার্যাদেশ দেওয়ার জন্য গণপূর্তের প্রধান প্রকৌশলী বরাবর মইনুল নথি পাঠান। প্রধান প্রকৌশলী মো: খালেকুজ্জামান চৌধুরী নথিতে জয়েন্ট ভেঞ্চারের কাগজে ত্রুটি দেখতে পেয়ে তা ফেরত পাঠান। এরপর ২৬.৩৬.০০০০.২৪২.১৪.৪৪৩.২০২৫/১১৪৩ স্মারকে ১৪/১২/২০২৫ তারিখে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী উন্নয়ন ঢাকা TEC এর সুপারিশ গ্রহণ না করে নির্বাগী প্রকৌশলীর দপ্তরে ফেরত দেন এবং পুনর্মূল্যায়নের নির্দেশ দেন।
একই ঘটনা ঘটে “দেশের বিভিন্ন স্থানে বাংলাদেশ পুলিশের থানার প্রশাসনিক কাম ব্যারাক ভবন নির্মাণ” প্রকল্পের আওতায় উত্তর কেরানীগঞ্জ থানার নতুন ভবন নির্মাণের দরপত্রের ক্ষেত্রে। এই ভবন নির্মাণের জন্য ১১৬৩৯৫১ নং দরপত্র আহবান করেন মইনুল। দরপত্রে ৯জন ঠিকাদার অংশগ্রহণ করেছিলেন। এরমধ্যে মূল্যায়নে ৮ জন ঠিকাদার রেস্পন্সিভ দরদাতা হতে AKAMIN-QC (JV)-কে মইনুল বিজয়ী ঘোষণা করে নথি পাঠান। এই নথিতেও জয়েন্ট ভেঞ্চারের কাগজে ত্রুটি দেখতে পেয়ে তা ফেরত পাঠান প্রধান প্রকৌশলী এবং ২৬.৩৬.০০০০.২৪২.১৪.৪৪৩.২০২৫/১১৪২ স্মারকে ১৪/১২/২০২৫ তারিখে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী উন্নয়ন ঢাকা TEC এর সুপারিশ গ্রহণ না করে নির্বাগী প্রকৌশলীর দপ্তরে ফেরত দেন এবং পুনর্মূল্যায়নের নির্দেশ দেন।
এই দুটি দরপত্রে কাজ যথাক্রমে দশ কোটি পনের লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা ও দশ কোটি তের লক্ষ একত্রিশ হাজার চারশত পঞ্চাশ দশমিক পাঁচ শূন্য চার টাকা। অভিযোগ আছে, মইনুল ঠিকাদার MKT & BC JV ও AKAMIN-QC (JV)-এর কাছ থেকে মোটা অংকের কমিশন নিয়েই প্রাথমিক বাছাইয়ের পর ত্রুটিপূর্ণ কাগজ থাকা সত্ত্বেও প্রধান প্রকৌশলীর কাছে সুপারিশ পাঠান। সাধারণত প্রাথমিক কাগজপত্র বাছাইয়ের কাজ নির্বাহী প্রকৌশলীই করে থাকেন। আর যেহেতু নির্বাহী প্রকৌশলী সকল কাগজ ঠিকভাবে পরীক্ষা করে সুপারিশ করেন তাইও তার সুপারিশের উপর প্রধান প্রকৌশলী অনুমোদন দিয়ে দেন। আর এই সুযোগকেই কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছিলেন মইনুল বলে জানা যায়। এতে মোটা কমিশনের লেনদেন হয়েছে বলে জানান গণপূর্ত সংশ্লিষ্টরা।
জানা যায়, প্রধান প্রকৌশলী মো: খালেকুজ্জামান চৌধুরী দরপত্র দুটির কার্যাদেশ দেওয়ার সুপারিশ দেখে সন্ধিহান হন। তিনি কাগজপত্র নিজে যাচাই করে দুটি দরপত্রে জমাকৃত নথিতে একই ত্রুটি দেখতে পান। পরে তিনি সুপারিশ বাতিল করে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী উন্নয়ন ঢাকা-কে দিয়ে দুটি দরপত্রই পুনর্মূল্যায়নের নির্দেশ দেন।
গণপূর্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, মইনুলের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলতে পারেনা। তিনি এতোটাই ক্ষমতাধর যে কেউ তার বিরুদ্ধে গেলেই তিনি তার পিছনে লেগে পরেন। ক্ষমতার জোড়ে বা টাকার জোড়ে যেভাবেই হোক থাকে শায়েস্তা করার চেষ্টা করেন। এই ক্ষমতার জোড়েই তিনি এই দুটি দরপত্রে এতো বড় জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন বলেও জানান তারা। তার অনিয়ম দুর্নীতি, টেন্ডার বাণিজ্যের সংবাদ যদি কোন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয় তাহলে তিনি সেই গণমাধ্যমের ডিক্লেয়ারেশন বাতিলের হুমকিও দেন বলে জানা যায়।
এবিষয়ে ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৩ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মইনুল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।