
দুই বিড়ালকে নিয়ে কাহিনি। তারা দুজন মিলে এক প্যাকেট পনির চুরি করেছে। পনির তো পাওয়া গেল। এখন ভাগ–বাঁটোয়ারা কীভাবে হবে? কে কতখানি নেবে? এটা নিয়ে বাধল ঝামেলা। শুরু হলো চেঁচামেচি। কথা–কাটাকাটি। তুমুল ঝগড়া। কেউ কারও কথা মানতে নারাজ। কী করা যায়? শেষতক তারা মুরব্বি মানল বানরকে। সে যদি পনিরটা সমান ভাগে ভাগ করে দেয়, বেশ হয় তাহলে। বানরকে অনুরোধ করল দুজনই।
‘ভাই রে, আমাদের কাজটা তুমি করে দাও না একটু। তাহলে খুব উপকার হয়। কি, দেবে তো?’
বানর এ কাজ পেয়ে মহাখুশি। মিষ্টি হেসে বলে, ‘নিশ্চয়ই। কেন নয়? দাও তো দেখি। তোমাদের পনিরের প্যাকেটটা দাও আমার হাতে।’
তা–ই দেওয়া হলো।
বানর বলল, ‘বাছারা, তোমরা কোথাও থেকে একটা স্কেল খুঁজে পেতে আনো দেখি।’
এই ফাঁকে সে নিজেই কোত্থেকে একটা ছুরি জোগাড় করে নেয়। এখন শুরু হবে আসল কাজ। ভাগ করতে হবে পনির। দুই বিড়ালই গভীর আগ্রহে তাকিয়ে আছে। তারা ইতিমধ্যে একটা স্কেল নিয়ে এসেছে। বানর কী করল? পনিরটাকে সমান দুই ভাগে ভাগ না করে এক দিকে বেশি, অন্যদিকে কম ভাগ করল। ইচ্ছা করেই এমনটা করল সে। তারপর স্কেল দিয়ে মাপল। উহুঁ, হলো না। বানর আফসোস করে বিড়ালদের বলল,
‘ইশ, ঠিকমতো মাপজোখ হলো না। আচ্ছা এখন আমি দেখছি, কেমন করে পনিরটাকে সমান করা যায়। এই তো, এখুনি কাজটা হয়ে যাবে। একটু সবুর করো তোমরা, কেমন?’
বিড়ালেরা একে অপরের মুখের দিকে তাকায়। তারা বুঝতে পারছে না, আসলে কী ঘটছে! ভালো বিপদে পড়া গেছে। বানরের ভাবগতিক তো সুবিধার বলে মনে হচ্ছে না। কী করা যায়? তারা কি খাল কেটে কুমির নিয়ে এল?
যেদিকে পনিরের পরিমাণ বেশি, বানর এবার সেদিকে খেতে শুরু করে। খেতে খেতে সেই দিক কমে আসে।
.প্রথম ফোনালাপের গল্প.
বিড়ালেরা এবার স্পষ্ট বুঝতে পারে যে বানরের মতলব মোটেও ভালো নয়। গোটা পনিরই সে নিজের পেটে চালান করে দেওয়ার ফন্দি এঁটেছে। তারা ভাবে, বড্ড জ্বালা হলো তো। এখন তাহলে কী উপায় হবে?
ধৈর্য হারিয়ে এক বিড়াল বলেই ফেলে,
‘ঢের হয়েছে, বানর ভায়া। তোমাকে আর ভাগজোখ করতে হবে না, বাপু। পনিরের ভাগ আমরা নিজেরাই ঠিক করে নেব। দাও, পনির ফেরত দিয়ে দাও আমাদের। তুমি তোমার নিজের কাজে চলে যাও দয়া করে।’
বানর কিন্তু মজা পেয়ে গেছে। পেট পুরে পনির খাওয়া যাচ্ছে। এমন মওকা তো সহজে মেলে না। আজকের দিনটা আসলেই খুব ভালো।
সে মুচকি হেসে বলে,
‘না হে বাপু, সেটি হচ্ছে না। তোমরা এ কাজ করতে পারবে না। যদি পারতে, তাহলে আমাকে হাত লাগাতে হতো না। এখন তোমরা নিজেরা আবার বিচ্ছিরি ঝগড়া–ফ্যাসাদে জড়িয়ে পড়বে। তারপর বিষয়টা বনের রাজার কানে যাবে। ভীষণ বদনাম হয়ে যাবে আমার। সেটা আমি হতে দিই কী করে? তোমরাই বলো।’
এ কথা বলে সে বাকি পনিরটুকু সাবাড় করে ফেলে।
দুই বিড়াল এ দৃশ্য হাঁ করে তাকিয়ে দেখে।
এ ছাড়া আর উপায়ই–বা কী?
নিজেদের দোষেই তো সব হারাতে হলো তাদের।
.আষাঢ়ে গল্পের গল্প