অনলাইন ডেস্ক: সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে তার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়। এ ছাড়া বৈঠকে বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশন আইন, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য উন্নয়ন নীতিমালা, মন্ত্রিসভার বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের বিষয়ে ২০১৯ সালের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনও (এপ্রিল-জুন) অনুমোদন করা হয়েছে।
বৈঠক শেষে সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম।
তিনি বলেন, উড়োজাহাজে ভ্রমণের সময় দুর্ঘটনায় কোনো যাত্রীর মৃত্যু হলে বা আঘাতপ্রাপ্ত হলে, ব্যাগেজ পেতে দেরি হলে বা হারিয়ে গেলে বা ক্ষয়ক্ষতি হলে; কার্গো পেতে দেরি হলে, হারিয়ে গেলে বা ক্ষয়ক্ষতি হলে এ আইনের মাধ্যমে প্রতিকার পাওয়া যাবে।
দুর্ঘটনায় যাত্রীর মৃত্যুর ক্ষেত্রে এ আইনের আওতায় প্রথম ধাপে আদায়যোগ্য অর্থের পরিমাণ হবে এক লাখ ৬০ হাজার ডলার, এখন যার পরিমাণ অনেক কম। ক্ষতিপূরণ না দিলে বিমান কোম্পানিকে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড বা ১০০ কোটি টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড পেতে হবে।
শফিউল আলম বলেন, আমরা মন্ট্রিল কনভেনশন সিগনেটরি কিন্তু বিষয়টি আইনে পরিণত করা হয়নি। যাত্রীদের সুরক্ষা দেয়ার জন্য আইনটি প্রস্তাব করা হয়েছে। এ আইনের মধ্যে মোটামুটিভাবে মন্ট্রিল কনভেনশনের প্রভিশনগুলো নিয়ে আসা হয়েছে।
নেপালে বাংলাদেশের ইউএস-বাংলার একটা বিমান দুর্ঘটনায় পড়েছিল, তারা যে ক্ষতিপূরণ পেয়েছে তা খুবই সামান্য। এটা কনভেনশনের আওতায় হলে অনেকগুণ; কমপক্ষে জনপ্রতি (মৃতের পরিবার) এক কোটি ৪০ লাখ টাকার মতো পেত। কিন্তু সেটা পায়নি, ১২ হাজার ডলারের মতো পেয়েছে।
আকাশপথে যাত্রী-ব্যাগেজ এবং কার্গো পরিবহনের ক্ষেত্রে এয়ারলাইন্সগুলোর দায়-দায়িত্ব খসড়া আইনে সুস্পষ্ট করা হয়েছে জানিয়ে শফিউল আলম বলেন, আঘাতে যাত্রীর মৃত্যুর ক্ষেত্রে প্রথম ধাপে আদায়যোগ্য অর্থের পরিমাণ এক লাখ এসডিআর (স্পেশাল ড্রয়িং রাইটস, যা আইএমএফের নিজস্ব মুদ্রা), যা এক লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ।
ইন্টারন্যাশনাল সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশনের (আইসিএও) নির্ধারিত এটা। মৃত্যুর ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ হবে ২ লাখ ৫০ হাজার ফ্রাঙ্ক, যেখানে এক ফ্রাঙ্ক সমান ৯০০ সহস্রাংশ বিশুদ্ধতার সাড়ে ৬৫ মিলিগ্রাম স্বর্ণের মূল্য। এটা অঙ্ক করে হিসাব করতে হবে। মোটামুটি ২২ ক্যারটের সোনার সাড়ে ৬৫ মিলিগ্রামের মূল্যমান হচ্ছে এক ফ্রাঙ্ক।
এটা ২ লাখ ৫০ হাজার দিয়ে গুণ দিয়ে যা হয় তা পাবে। এ ছাড়া ব্যাগেজের ক্ষেত্রে আগে ক্ষতিপূরণ ছিল প্রতি কেজিতে ২৫ ডলার এখন তা ৭০ ডলার করা হচ্ছে। কার্গো ক্ষেত্রে প্রতি কেজিতে ২৫ ডলারের পরিবর্তে ক্ষতিপূরণ ২৭ ডলার হচ্ছে।
ক্ষতিপূরণ এয়ারলাইন্সকে দিতে হবে জানিয়ে সচিব বলেন, এয়ারলাইন্সকে যাত্রীদের ইন্স্যুরেন্স করতে হবে। ইন্স্যুরেন্স করলে তাদের সুবিধা। তারা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির কাছ থেকে অর্থ নিয়ে ক্ষতিপূরণ দেবে।
কোনো ব্যক্তি আইন বা আইনের অধীন প্রণীত বিধি বা প্রবিধানের কোনো বিধান লঙ্ঘন করলে অপরাধ হবে, সে ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ১০০ কোটি টাকা অর্থদণ্ড দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে খসড়া আইনে।
মন্ট্রিল কনভেনশনে যে ক্ষতিপূরণ ধার্য করা হয়েছে তা না দিলে বিমান কোম্পানিকে এই শাস্তি পেতে হবে। দেশি-বিদেশি যত এয়ারলাইন্স বাংলাদেশের ভূখণ্ডে চলাচল করবে তারা এ আইনের আওতায় আসবে। এ আইন কার্যকর হলে বিমান ভাড়া বাড়বে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিমান ভাড়ার সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই। এটা যাত্রীকে সুরক্ষিত করার জন্য।
মিথ্যা তথ্যে হাউজ বিল্ডিং লোনে ৫ বছরের শাস্তি : এ প্রসঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলম বলেন, ১৯৭৩ সালে প্রেসিডেনশিয়াল অর্ডার দিয়ে ‘দ্য বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশন অর্ডার ১৯৭৩’ করা হয়েছিল এবং এর ওপর ভিত্তি করে এ প্রতিষ্ঠান চলছিল।
আইনের পরিবর্তন খুবই কম উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগের শাস্তি বাড়ানো হয়েছে। কর্পোরেশনের কাছ থেকে কেউ যদি ঋণ গ্রহণে ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা বিবরণী দেন বা জেনেশুনে মিথ্যা বিবরণী ব্যবহার করেন বা কর্পোরেশনে যে কোনো ধরনের জামানত গ্রহণে প্রবৃত্ত করেন তাহলে দু’বছর কারাদণ্ড দুই হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতেন।
এখন বাড়িয়ে পাঁচ বছর কারাদণ্ড এবং জরিমানা পাঁচ লাখ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। কর্পোরেশনের লিখিত সম্মতি ছাড়া যদি কেউ নাম প্রসপেক্টাসে বা বিজ্ঞাপনে ব্যবহার করেন তাহলে তার জন্য শাস্তি আগে ছয় মাস কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা জরিমানা ছিল। এখন ছয় মাস কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানার প্রস্তাব করা হয়েছে।
চামড়া পণ্য উন্নয়ন নীতিমালা : প্রণোদনার সুযোগ রেখে মন্ত্রিসভা ‘চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য উন্নয়ন নীতিমালা-২০১৯’-এর খসড়া অনুমোদন দিয়েছে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এই নীতিমালার আলোকে ট্যানারি শিল্প মালিকদের ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে সুবিধা হবে। প্রণোদনা পাওয়ার ক্ষেত্রে সুবিধা হবে।