● ●


রাঙ্গাবালীর জল কপাটের বেহাল দশা, দুশ্চিন্তায় কৃষকরা!
প্রকাশ: ১৯ আগস্ট, ২০২২, ১:৫০ অপরাহ্ণ |
অনলাইন সংস্করণ

রাঙ্গাবালীর জল কপাটের বেহাল দশা, দুশ্চিন্তায় কৃষকরা!

রাঙ্গাবালী(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি

ভেঙ্গে গেছে কপাট, দেবে গেছে গেট। র্দীঘদিন ধরে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে
অকার্যকর রাঙ্গাবালীর উপজেলার বেশির ভাগ স্লুইস গেট(জল কপাট)। পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীর উপজেলার ছয় ইউনিয়নে বিভিন্ন নদ-নদী ও খালের ওপর নির্মিত বেশির ভাগ স্লুইস গেট অকেজো হয়ে পড়ে আছে কয়েকবছর ধরে । এতে ক্ষতির মুখে কৃষকের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারা । প্রাকৃতিক
দুর্যোগ ও জলোচ্ছ্বাস থেকে সম্পদ ও মানুষের জীবন রক্ষার জন্য স্লুইস- কালবার্ড বসানো হয়েছিল। কিন্তু সংষ্কার না করা, অবৈদ দখল, পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়ায়, অনেক গুলো স্লুইস কালবার্ড অকার্যকর হয়ে পড়েছে। এতে বর্ষা মৌসুমে জলবদ্ধতার শস্কায় ধানসহ অন্যান্য ফসল চাষ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছে উপজেলার কৃষকরা।

কৃষকরা বলছেন ,লবণাক্ত পানির প্রবেশে তাদের ক্ষেতের ফসল নষ্ট হয়ে যায় এমনকি ফসলি জমিও চাষের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। প্রতি বছরে প্রতিটি ফসলের সময় যদি এভাবে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়,তাহলে তো কৃষক বাঁচবে না। সে জন্যই এই অকেজো স্লুইস গেটগুলো অতি দ্রুত সংস্কারের দাবি জানান কৃষকরা । তারা আরও বলেন, স্লুইস বসানোর পর থেকেই পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এখন পর্যন্ত স্লুইস মেরামত করেনি। অনেক গুলি কপাট নষ্ট হয়ে গেছে, খাল খনন না করায় পলি পরে স্লুইজের অনেক কপাট অকেজো হয়ে পড়েছে। এক কপাটের স্লুইসগুলো অনেকটাই নষ্ট হয়ে গেছে। এলাকাবাসীর উদ্যোগে মাঝে মধ্যে মেরামত করে স্লুইসগুলি সচল রাখছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক কৃষক বলেন, প্রভাবশালীরা মাছ ধরার জন্য জল কপাট দখল করে রেখেছেন। খালগুলোতে মাছ শিকারের জন্য তাদের ইচ্ছে মতো (সুবিধামতো) পানি উঠায় এবং নামায় নিজেদের সুবিধার জন্য এবং আর্থিকভাবে লাভমান হওয়ার জন্য বর্ষায় জলাবদ্ধতা তৈরি করে রাখে। তাই বড় ধরনের ক্ষতির শিকার হচ্ছেন হাজারো কৃষক।আমাদেও একটাই দাবি জল
কপাটে মাছ ধরা বন্ধ করা হউক।

রাঙ্গাবালী উপজেলায় প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জলোচ্ছ্বাস থেকে মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) প্রায় ২০০ কিলোমিটার বেড়িবাদ নির্মাণ করে। এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ১৪৭ কিলোমিটার নির্মাণ করেছে। বাঁধের অভ্যন্তরীণ জনপদ ও আবাদি জমিতে বর্ষায় জমে থাকা অতিরিক্ত পানি অপসারণ ও লবণাক্ত পানি নিয়ন্ত্রনের জন্য বেড়িবাঁধে ১৮০টি ছোট-বড় স্লুইসগেট নির্মাণ করে (পাউবো)।

সরেজমিনে দেখাযায়, প্রায় দুইযুগ আগের ছোট-বড় স্লুইস বসানো হয়েছে। স্থানীয় প্রভাবশালীরা নিজেদের সুবিধামতো স্লুইসগেট নিয়ত্রন করে। এবং তাদের ছত্র ছায়ায় প্রতিটি খালে দেখাযায় ১০-১৫ টি করে ধর্মজাল পেতে পোনা মাছ থেকে শুরু করে ছোট বড় সব ধরনের মাছ শিকার করা হচ্ছে। এবং ছোট ফাসের জালের কারনে খালের পানি আটকে থাকে এবং জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।এদিকে এলজিইডি ১৪৭ কিলোমিটার সড়কের কজ করেছে সড়কের দু-পাশের খাল বিলের পানি নিষ্কাশনের জন্য যে কয়টি ছোট বড় কালর্বাড করেছে। তাও অনেক গুলি কালবার্ডের মুখের সামনে বাদ দিয়ে কেউ করেছে পুকুর আবার কেউ করেছে বাড়ি ঘরের ভিটা এই অপরিকল্পিত বাড়ি ও পুকুর করার কারনে জমিতে পানি আটকে থাকায় কৃষি কাজ করতে পারছে না কৃষকরা।

উপজেলার কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়,অধিকাংশ স্লুইসগেট দেখাশুনা (নিয়ন্ত্রন) করে স্থানীয় প্রভাবশালীরা। খালগুলোতে মাছ শিকারের জন্য তাদের ইচ্ছে মতো (সুবিধামতো) পানি উঠায় এবং নামায় নিজেদের সুবিধার জন্য এবং আর্থিকভাবে লাভমান হওয়ার জন্য বর্ষায় জলাবদ্ধতা তৈরি
করে রাখে। তাই বড় ধরনের ক্ষতির শিকার হচ্ছেন হাজারো কৃষক। সময় মতো পানি নামতে পারেনা। যার ফলে সময় মতো কৃষকেরা চাষাবাদ করতে পারেনা,কেউ কেউ ধানের চারা রোপন করলে ও জলাবদ্ধতার কারনে তাও নষ্ট হয়ে যায়। অতিরিক্ত পলি জমে খাল এবং স্লুইস ভরাট হয়ে যায়। স্লুইসের লোহার গেট মরিচা পরে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় লবণাক্ত পানি অসময়ে ঢুকে পরে। এতে কোটি টাকার উপরে ক্ষতি হয় সাধারন কৃষকের। যার প্রোভাব পরে আমাদের
জাতীয় অর্থনীতিতে।

রাঙ্গাবালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ইকবাল আহম্মেদ বলেন, বৃষ্টির কারণে যে জলবদ্ধতা হবে সেই পানিটা আমরা বেড় করে দিবো ,আবার জোয়ারের লবণাক্ত পানিটা ভিতরে না ঢুকতে পারে এটা নিয়ন্ত্রণের জন্য স্লুইস গেট । কিন্তু উপজেলার অনেক স্লুইসগেট অকেজো যার ফলে বাইরে জলবদ্ধতার কারণে পানি বেড় করে দিতে পাড়ছে না ,এতে করে কৃষকের দুই ধরনের ক্ষতিতে পড়তে হচ্ছে। যদি এই স্লুইস গেটগুলো পুনরায় সংস্কার করা

যায় ,তাহলে আমাদের একদিকে যেমন নোনা পানি উঠবে না ,জলবদ্ধতা নিরসন করে কৃষির উন্নয়নের পাশাপাশি সামগ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা সম্ভব হবে ।
উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড (ভারপ্রাপ্ত) কর্মকর্তা সুমন বলেন, রাঙ্গাবালী উপজেলায় ১৮০ টি স্লুইস আছে। এর মধ্যে কিছু কার্যকার আছে আবার কিছু অকার্যকার আছে। এর মধ্যে ১৪২ টি কার্যকার ও ৩৮ অকার্যকার আছে। এর মধ্যে কিছু কিছু স্লুইস একেবারে নষ্ট হয়ে গেছে। ওই স্লুইস গুলো আবার নতুন করে করতে হবে। তবে এ বছর আমাদের হাতে কোন বাজেট নাই।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি।

© বিডি ২৪ নিউজ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

  বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা,আটকের দাবি : এ্যাংকর সিমেন্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অর্থপাচার, বিদেশে সম্পদের পাহাড় গড়ার অভিযোগ : তদন্তে দুদক ও ভ্যাট গোয়েন্দা   বরিশাল স্বাস্থ্যখাতে শত কোটি টাকার দুর্নীতি: পিপলাই পরিবারের টেন্ডার সিন্ডিকেট উন্মোচন   ইফতারে বৈষম্যের অভিযোগ: ভিআইপি ও সাধারণ কর্মচারীদের আলাদা মেন্যু, সমালোচনায় বরিশাল সিটি করপোরেশন   বরিশালের হলিমা খাতুন স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারী পরোয়ানা   পটুয়াখালী মেডিকেলে ৭৬ কোটি টাকার টেন্ডার বাতিল হলেও জড়িতরা বহাল তবিয়তে   রাজাপুর এলজিইডির প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদারের বিরুদ্ধে বিস্তর অনিয়মের অভিযোগ   বরিশালে বদলি ঠেকাতে ৩ শিক্ষকের গ্রেফতার নাটক   বরিশালের সেই বিতর্কিত এডলিন বিশ্বাষ পুলিশের হাতে আটক   না ফেরার দেশে বেগম খালেদা জিয়া   রাজশাহী গণপূর্তে টেন্ডারের আগেই ভাগ হচ্ছে কাজ : প্রশ্নের মুখে নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদুল ইসলাম   বরিশালের রুপাতলী ‘খাবার বাড়ি’ রেস্তোরাঁকে ১ লাখ টাকা জরিমানা   বাকেরগঞ্জে যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে গরু চুরির অভিযোগ   নলছিটিতে বৈদ্যুতিক ফাঁদে প্রাণ হারালেন কৃষক বাচ্চু মল্লিক   বদলি-নিয়োগ-দুর্নীতি, সিন্ডিকেটের দখলে প্রাথমিক শিক্ষাঅধিদপ্তর   উজিরপুরে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে বলৎকারের অভিযোগ,জুতা পেটা   বদলি-বাণিজ্য, ঘুষ নিয়ন্ত্রণ করতেন সিন্ডিকেটের মাধ্যমে, ছয় বছরের সাম্রাজ্য শাহজাহান আলীর   বরিশালে জামায়াত নেতাদের বিরুদ্ধে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের জায়গা দখল চেষ্টার অভিযোগ   বরিশালে বিসিক উদ্যোক্তা মেলায় স্টল বরাদ্দে অনিয়ম   বরিশাল কর অফিসের রতন মোল্লার হাতে আলাদিনের চেরাগ,একই কর্মস্থলে ১০ বছর   বরিশালের ১৬টি আসনে বিএনপির প্রার্থী যারা
Translate »