
বিডি ২৪ নিউজ অনলাইন:
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী পদে নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র উঠে এসেছে। সম্প্রতি চ্যানেল ২৪-এর অনুসন্ধানী অনুষ্ঠান সার্চলাইট-এ প্রচারিত এক প্রতিবেদনে এই অনিয়মের বিষয়টি উঠে আসে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৯ সালে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সহকারী প্রকৌশলী পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়। প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার পর ২০২১ সালের আগস্ট মাসে ৫৬ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্য থেকে প্রথম কয়েকজনের বিরুদ্ধে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে চাকরি নিশ্চিত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সার্চলাইট প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, এই অনিয়মের সঙ্গে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সাবেক গাড়িচালক “সৈয়দ আবেদ আলী” নামের এক প্রভাবশালী ব্যক্তি জড়িত ছিলেন। পিএসসিতে চাকরি নিজেই নিয়েছিলেন জালিয়াতি (ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার) করেন। প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় পিএসসির থেকে চাকরি হারান এবং কারাগারে ছিলেন, এখন জামিনে আছেন।
অনুসন্ধানে “আবেদ আলীর” হাতে নিয়োগ পাওয়া একাধিক প্রার্থীর সরাসরি যোগাযোগ ও অর্থ লেনদেনের প্রমাণ তুলে ধরা হয়। নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্য থেকে কয়েকজন মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে চাকরি পেয়েছেন। অনুসন্ধানে পাওয়া নথি ও ব্যাংক লেনদেনের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২২ সালে সম্পন্ন হওয়া শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী (পুর) পদে সরকারি কর্ম কমিশনের সরাসরি নন-ক্যাডার নিয়োগ পরীক্ষায় মেধাতালিকার প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়সহ অন্তত চারজন প্রার্থীর সঙ্গে আবেদ আলীর আর্থিক লেনদেন হয়েছে। এই চার কর্মকর্তা হলেন-শেরপুর জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী সানোয়ার হোসাইন, হবিগঞ্জ জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মো. আনিসুর রহমান, ঝালকাঠি জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মো. খাইরুল ইসলাম এবং মেহেরপুর জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মো. হাবিবুর রহমান।
অনিয়মের বিষয় জানতে চাইলে সহকারী প্রকৌশলী মো. আনিসুর রহমান মোবাইল যোগে বলেন, আর্থিক লেনদেন বা চেক কোনটাতেই আমি জরিত নই। আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে। এছারা সহকারী প্রকৌশলী মো. খায়রুল ইসলাম এবিষয় বক্তব্য দিতে চান নি। বাকী দুইজনের মধ্যে সহকারী প্রকৌশলী সানোয়ার হোসাইন ফোন বন্ধ পাওয়া যায় এবং সহকারী প্রকৌশলী হাবিবুর রহমানের নাম্বার শিক্ষা প্রকৌশল ওয়েবসাইটে পাওয়া যায় নি।
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. তারেক আনোয়ার জাহেদী মোবাইলে বক্তব্য না পাওয়া গেলেও শিক্ষা প্রকৌশলী পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) মো. হাফিজুর রহমান মোবাইল যোগে বলেন আমি নতুন জয়েন করেছি। এ বিষয়টি আমার জানা নেই। যদি এবিষয় আমাদের কাছে তথ্য আসে তাহলে প্রধান প্রকৌশলী পরামর্শক্রমে ব্যবস্থা নিবো।
শুধু শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর নয়, বিসিএস ক্যাডারসহ অন্যান্য সরকারি দপ্তরের নিয়োগেও একই ধরনের অনিয়মের অভিযোগ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এতে করে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।