
বিডি ২৪ নিউজ অনলাইন: সুন্দরবনে ডলফিন সংরক্ষণে ইউনাইটেড নেশনস ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামসের (ইউএনডিপি) অর্থায়নে করা প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। বনজীবী ও পরিবেশবাদী সংগঠন বলছে, বরাদ্দের ১৩ লাখ ডলার বন বিভাগ ও দুটি এনজিওর কর্মকর্তাদের যোগসাজশে নয়-ছয় হয়েছে। সহায়তা পাননি প্রকৃত বনজীবীরা। এখনও অভয়ারণ্যে মাছ ধরায় নির্ভরশীল তারা। তবে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের দাবি, বিকল্প কমসংস্থানেই ব্যয় হয়েছে অর্থ।
লবণাক্ত পানিতে ইরাবতি ডলফিন আর মিষ্টি পানিতে গাঙ্গেয় ডলফিনের আবাস। তবে এই দুই প্রজাতির ডলফিনই রয়েছে সুন্দরবনে।
বিলুপ্তপ্রায় এসব ডলফিন রক্ষায় সংরক্ষিত এলাকায় মাছ ধরা বন্ধে, জেলে ও বনজীবীদের বিকল্প কর্মসংস্থানে সরকারকে প্রায় ১৬ কোটি টাকা দেয় ইউএনডিপি। ২০১৮ থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বনবিভাগ এবং ২টি বেসরকারি সংস্থা বাস্তবায়ন করে প্রকল্প।
অভিযোগ উঠেছে, বরাদ্দের বড় অংশই বনজীবী ও জেলেদের দেওয়া হয়নি। বন বিভাগ ও এনজিওর কর্মকর্তাদের যোগসাজশে আত্মসাৎ করা হয় টাকা।
স্থানীয় এক বাসিন্দার অভিযোগ, ‘আমাদের পানিতে নামা যাবে না, সুন্দরবনে পাস ছাড়া যাওয়া যাবে না। এ রকম করলে আমরা চলব কীভাবে?’
আরেক বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, ‘আমাকে ওই প্রকল্পের পক্ষ থেকে একটা ভ্যান দিয়েছিল। তবে সেটা ভালো না। আমি সেটা বিক্রি করে একটা ট্রলার আর একটা জাল কিনেছি।’
এ নিয়ে ডলফিন সংরক্ষণ প্রকল্পের দলনেতা মো. ইসরাফিল বয়াতি বলেন, জেলে, বাওয়ালিদের যে তালিকা প্রস্তুত করা হয়, সেখানে অনিয়মের কারণে অনেকের নাম দেওয়া হয় যারা বনজীবী নন।
তবে অর্থ বণ্টনে অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেন কোডেকের প্রোগ্রাম অর্গানাইজার জয়নাল আবেদীন জয়। বলেন, এক হাজার বনজীবীকে ৪০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে। আরেকটি এনজিও সিএনআরএসের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ নিয়ে বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম চৌধুরীর দাবি, প্রকল্পের আওতায় বনজীবী ও জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।