● ●


জন–আস্থা অর্জনই এখন পুলিশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ
প্রকাশ: ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:০০ পূর্বাহ্ণ |
অনলাইন সংস্করণ

জন–আস্থা অর্জনই এখন পুলিশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ

পুলিশের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ জনগণের আস্থা অর্জন—মনে করেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। তাঁর মতে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর ভেঙে পড়া পুলিশ বাহিনী ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। আইনশৃঙ্খলা, পুলিশ সংস্কার, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পদায়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বিশেষ প্রতিবেদক নজরুল ইসলাম।

দেশের আইনশৃঙ্খলার তো সেভাবে উন্নতি হলো না। কী মনে করছেন?

আইজিপি: আমি মনে করি, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের চেয়ে বর্তমান নির্বাচিত সরকারের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ এক বছরের সঙ্গে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের এক বছরের তুলনা করলে দেশে ১০ ধরনের মধ্যে ৮ ধরনের (খুন, ডাকাতি, দস্যুতা, দাঙ্গা, নারী ও শিশু নির্যাতন, অপহরণ, পুলিশ আক্রান্ত ও দ্রুত বিচার আইনের মামলা) অপরাধ কমেছে। বর্তমান সরকারের সময় (১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হিসাবে) দেশে মোট মামলা হয়েছে ১ লাখ ২৩ হাজার ৪৮০টি। এর আগের বছর একই সময় মামলা হয়েছে ১ লাখ ৮ হাজার ৬৭৮টি; অর্থাৎ নির্বাচিত সরকারের সময় ১৪ হাজার ৮০২টি মামলা বেড়েছে। আমি মনে করি, মানুষ থানায় মামলা করার বেশি সুযোগ পাওয়ায় এবং পুলিশের অভিযানে মাদক দ্রব্য বেশি উদ্ধার হওয়ায় মামলার সংখ্যা বেড়েছে।

সম্প্রতি রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বরে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে, এরপর ইসিবি চত্বরের কাছে নিউগিনি প্রপার্টিজে হামলা, ভাঙচুর হয়েছে। একইভাবে বাড়ি ও জমি দখলের উদ্দেশ্যে হামলা হয়েছে আদাবর ও মোহাম্মদপুরে। আলোচিত এই চার ঘটনার কোনোটিই পুলিশ ঠেকাতে পারেনি। এ নিয়ে কী বলবেন?

আইজিপি: প্রথমেই বলতে চাই, রাজধানীতে জমি ও বাড়ির দখলকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক হামলা ও ভাঙচুর ঘটনাগুলো পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। এসব ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তবে এটিও স্পষ্ট করা প্রয়োজন যে এসব ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর গৃহীত আইনগত ব্যবস্থার পাশাপাশি অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশের প্রস্তুতি ও দায়িত্ব পালনের বিষয়টিও বিবেচনায় নিয়েছি। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের গাফিলতি ছিল কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা মামলায় এখন পর্যন্ত ১৯ জন সন্দিগ্ধ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। নিউগিনি প্রপার্টিজে হামলার ঘটনায়ও করা মামলায় এজাহারনামীয় আসামিসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটন এবং জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। আদাবরের ঘটনায় বাড়ির মালিকানা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ও মামলা চলমান ছিল। এ ঘটনায় আদাবর থানায় হওয়া মামলায় এখন পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যানে জমি দখলকে কেন্দ্র করে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগের বিষয়েও জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লিখিত ঘটনাগুলোর ক্ষেত্রে একটি সাধারণ বিষয় লক্ষণীয়—প্রতিটি ঘটনাই জমি বা সম্পত্তিসংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে ঘটেছে বলে জানা যাচ্ছে। এ ধরনের বিরোধের সুযোগ নিয়ে কেউ যেন হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট কিংবা জোরপূর্বক দখলের মতো অপরাধ সংঘটিত করতে না পারে, এ বিষয়ে পুলিশকে আরও সতর্ক ও সক্রিয় থাকতে হবে।

এখানে আমি একটি বিষয় বিশেষভাবে বলতে চাই, অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর মামলা গ্রহণ, আসামি গ্রেপ্তার ও আলামত উদ্ধারের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া পুলিশের দায়িত্বের একটি অংশ। একই সঙ্গে অপরাধ সংঘটিত হওয়ার আগেই সম্ভাব্য ঝুঁকি শনাক্ত করা, আগাম তথ্য সংগ্রহ, গোয়েন্দা নজরদারি এবং প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করাও পুলিশের দায়িত্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর পরিপ্রেক্ষিতে এসব কার্যক্রম আরও জোরদার করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট ঘটনায় দায়িত্ব পালনে পুলিশের কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে অবহেলা বা গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে তাঁর বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অতীতে কারও সম্পত্তি অন্যায়ভাবে দখল হয়ে থাকলে সেটি অবশ্যই আইনসম্মত প্রক্রিয়ায় পুনরুদ্ধারের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু অতীতের অন্যায়ের প্রতিকার করতে গিয়ে নতুন করে আইন লঙ্ঘনের সুযোগ নেই। কোনো রাজনৈতিক পরিচয়, প্রভাব কিংবা অতীতের অন্যায়ের অজুহাতে কেউ জোরপূর্বক দখল, হামলা বা ভাঙচুর করতে পারবে না।

পুলিশের অবস্থান সুস্পষ্ট—জমি বা বাড়ির মালিকানা নিয়ে বিরোধের নিষ্পত্তি হবে আইন অনুযায়ী; পেশিশক্তি বা জোরজবরদস্তির মাধ্যমে নয়। অপরাধের সঙ্গে যে–ই জড়িত থাকুক, তার রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয় বিবেচনা না করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মাঝেমধ্যেই বিভিন্ন স্থানে ককটেল-বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এমনকি থানার কাছেও ককটেল ফাটানো হয়েছে। বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটছে। এসব কারা ঘটাচ্ছে? পরিস্থিতি মোকাবিলায় কী ব্যবস্থা নিয়েছেন?

আইজিপি: যারা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে, পুলিশ বেশির ভাগ ঘটনায় তাদের পরিচয় নিশ্চিত করতে পেরেছে। ইতিমধ্যে অনেককে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। তবে এতে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। গত স্বৈরাচারী সরকারের যে ১৭ বছরের কার্যক্রম আপনারা অবলোকন করেছেন, সেখান থেকে দেশের মানুষ অনেকটাই মুক্ত হতে পেরেছে। কিন্তু তারা দেশকে অকার্যকর করার জন্য অনলাইনে ব্যাপক প্রচারণা করছে। ফেসবুক ও অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার করছে। আমি মনে করি, প্রচারণা অনুযায়ী সেই সক্ষমতা তাদের নেই। অন্যান্য বাহিনীকে নিয়ে পুলিশ বাহিনী এটা সঠিকভাবে এবং আইন অনুযায়ী মানবাধিকার সংরক্ষণ করে সেটা প্রতিরোধ করতে সক্ষম হয়েছে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।

ঢাকা, খুলনা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রায়ই খুনখারাবি, চুরি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, গুলিসহ সহিংস অপরাধের ঘটনা ঘটছে। মব সৃষ্টি করে হামলা হচ্ছে। পুলিশও আক্রমণের শিকার হচ্ছে। মানুষের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। এসব অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কী ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছেন, এর দৃশ্যমান ফল কী?

আইজিপি: অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ রি–অ্যাকটিভ (প্রতিক্রিয়াশীল) পুলিশিং থেকে প্রিভেন্টিভ (প্রতিরোধমূলক) পুলিশিংয়ের মাধ্যমে অপরাধীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রমের মাধ্যমে জন–আস্থা অর্জনে পুলিশ ১৫ থেকে ১৬ ক্যাটাগরিতে কার্যক্রম শুরু করেছে। এ নিয়ে সারা দেশে মাদক প্রতিরোধের জন্য ২ হাজার ৪৬৫টি মোটিভেশনাল প্রোগ্রাম, কিশোর গ্যাং প্রতিরোধের জন্য ৪ হাজার ৫০৪টি, মব সহিংসতা প্রতিরোধে ৫৭৪টি, ইভ টিজিং প্রতিরোধে ৩০৮টি, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে ৯৯১টি এবং নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে ১২৮টি, মাদক প্রতিরোধে ২ হাজার ৪৬৫টি, নিখোঁজ শিশু উদ্ধার প্রতিরোধের জন্য ৭৯টি এবং সাইবার অপরাধ প্রতিরোধের জন্য ৫৪৮টি সভা করা হয়েছে।

খুন, ছিনতাই, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, মাদক, অবৈধ অস্ত্র ও সংঘবদ্ধ অপরাধপ্রবণ এলাকা বা হটস্পট চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট ইউনিটকে নির্দিষ্ট দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। মহানগর ও জেলা পর্যায়ে অপরাধপ্রবণতা নিয়মিত পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

শুধু কতজনকে গ্রেপ্তার করা হলো, সেটি দিয়ে পুলিশের সাফল্য বিচার করা ঠিক হবে না। অপরাধ কতটা কমল, কতজন বারবার অপরাধে জড়াচ্ছে, অভিযোগপত্রের মান কেমন এবং আদালতে মামলার ফল কী হচ্ছে—এসবও দেখতে হবে। এর পাশাপাশি নাগরিকের অভিযোগ, পুলিশের রেসপন্স টাইম এবং জনমতও মূল্যায়ন করতে চাই।

গণ-অভ্যুত্থানের পর দুই বছরের বেশি সময় পেরিয়েছে। পুলিশ বাহিনী এখন কতটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে, আর সবচেয়ে বড় দুর্বলতা কোথায় রয়ে গেছে?

আইজিপি: ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর পুলিশ বাহিনী ছিল পুরোপুরি একটা বিশৃঙ্খল অবস্থায়। বাহিনীতে মনোবল বলতে কিছু ছিল না। ধীরে ধীরে সেই অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে এবং বাহিনীতে শৃঙ্খলা, মনোবল ফিরে এসেছে। পুলিশের সদস্যরা সব ধরনের দ্বিধা–ভয় থেকে বেরিয়ে এসে এখন পূর্ণ আত্মবিশ্বাস ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন।

পুড়ে যাওয়া ক্ষতিগ্রস্ত থানাগুলোর বেশির ভাগই সংস্কার করা হয়েছে। নতুন যানবাহন যুক্ত করে সেগুলো দাপ্তরিক কার্যক্রম পুরোদমে চালু করা হয়েছে। লুট হওয়া বেশির ভাগ অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। সম্ভবত ১ হাজার ২০০ অস্ত্র এখনো বাইরে রয়ে গেছে।১৭ বছর ধরে পুলিশ যে বৈষম্য তৈরি হয়েছে, অভ্যন্তরীণ সংস্কারের মাধ্যমে সেটা দূর করতে পেরেছি। এসবের মাধ্যমে পুলিশ ভালোভাবেই ঘুরে দাঁড়িয়েছে। আগামী দিনে পুলিশ বাহিনী আরও ভালো করবে বলে আমি আশাবাদী। আমার মূল্যায়নে পুলিশ এখন পুনর্গঠনের ধাপে অনেকটা এগিয়ে রয়েছে।

সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ জন–আস্থা বৃদ্ধিকরণ, সেটা যে পর্যায়ে থাকার কথা ছিল, এখনো সেই পর্যায়ে আসেনি। পুলিশের সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ জনগণ পুলিশের ওপর আস্থা ও বিশ্বাস রাখতে পারছে কি না। পুলিশ যে নিরপেক্ষভাবে, পেশাদারত্বের সঙ্গে এবং আইনের ভিত্তিতে কাজ করছে—এই বিশ্বাস মানুষের মধ্যে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আমার মনে হয়, সেখানে হয়তো পুলিশ ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ পেরেছে। বাকিটা কাজের মাধ্যমে অর্জন করতে হবে।

থানায় গিয়ে মানুষ কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছে না, আগের মতো এখনো অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। থানাগুলো সেবাবান্ধব করার কোনো ব্যবস্থা নিয়েছেন? আপনি দায়িত্ব নেওয়ার পর নাগরিকদের ভোগান্তি কমেছে—এমন কোনো উদাহরণ কি দেওয়া যায়?

আইজিপি: আমি থানাকে জনগণের আস্থার জায়গা হিসেবে দেখতে চাই। দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশের সব মডেল থানা ও সদর থানাকে ‘জিরো কমপ্লেন’ বা অভিযোগশূন্য থানা করার লক্ষ্য দিয়েছি।

কেউ মামলা, সাধারণ ডায়েরি বা অন্য কোনো সমস্যা নিয়ে থানায় গেলে তার সঙ্গে ভালো আচরণ করতে হবে, কথা শুনতে হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে—এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আগে বলা হতো, থানার ওসি কারও কথা শোনেন না। এখন ওসিদের জনবান্ধব হতে বলা হয়েছে। তবে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে অনেক সময় মানুষ রাগের মাথায় মামলা করতে যান। সে ক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে ঘটনার সত্যতা যাচাই করে মামলা গ্রহণের ক্ষমতা ওসিকে দেওয়া হয়েছে। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে মামলা না নেওয়ার জন্য এই ক্ষমতার অপব্যবহারও হচ্ছে।

পুলিশের প্রকৃত পরিবর্তন বোঝা যাবে তখনই, যখন একজন নাগরিক মামলা বা জিডি করতে থানায় গিয়ে সম্মানের সঙ্গে গ্রহণযোগ্য আচরণ পাবে এবং তার অভিযোগ যথাযথভাবে নথিভুক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শুধু পুলিশের বক্তব্য যথেষ্ট নয়। অভিযোগ গ্রহণের হার, জিডি ও মামলা নিষ্পত্তি, তদন্তের অগ্রগতি, থানার বিরুদ্ধে অভিযোগ এবং নিষ্পত্তিতে কত সময় লাগছে—এসব সূচক দিয়ে সেবার মান পরিমাপ করতে চাই। নাগরিকের অভিজ্ঞতাই শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। মডেল থানাগুলোতে প্রথা চালু করা হয়েছে, যাঁরা মডেল থানায় আসবেন, তাঁরা যেন সন্তুষ্ট না অসন্তুষ্ট, এ ব্যাপারে মন্তব্য থানায় লিখে রেখে যান।

উগ্রপন্থীরা কি আবার ভেতরে-ভেতরে সংগঠিত হচ্ছে? কেরানীগঞ্জের এক মাদ্রাসায় বোমা বিস্ফোরণের পর আরও অনেকগুলো ঘটনা ঘটল, পুলিশ ১৭-১৮ জনকে গ্রেপ্তার এবং অনেক বোমা ও বিস্ফোরক উদ্ধারও করেছে।

আইজিপি: শোনেন, বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। সোশ্যাল মিডিয়ার কারণে পৃথিবীব্যাপী বিভিন্ন ধরনের উগ্রবাদ, বিভিন্ন ধরনের ধর্মীয় রাজনৈতিক গ্রুপের বিস্তার আছে।

সচেতনতার অভাবে কেউ কেউ উগ্রবাদে সম্পৃক্ত হয়ে যায়। তবে দেশে এখনো উগ্রবাদের কোনো ব্যাপক বিস্তৃতি ঘটেনি। অঙ্কুরেই তাদের বিনষ্ট করার পরিকল্পনা রয়েছে পুলিশের। সেই সক্ষমতা ও প্রস্তুতি আছে পুলিশের। এ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। এখন পর্যন্ত উগ্রবাদ প্রতিরোধ ৩৭৪টি সভা করা হয়েছে। কমিউনিটি পুলিশিংয়ের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায় থেকে সুষ্ঠু জাতি গঠনের জন্য তরুণ প্রজন্মকে উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসবাদ থেকে দূরে রাখতে কার্যক্রম চলছে।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে পুলিশের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী বলপ্রয়োগ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগগুলোর তদন্তে কি অগ্রগতি হয়েছে? মাঠপর্যায়ের সদস্যদের পাশাপাশি নির্দেশদাতাদের দায় নির্ধারণে কী করা হচ্ছে?

আইজিপি: ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঘটনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর তাদের অনুসন্ধানে নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের তথ্য নথিভুক্ত করেছে এবং স্বাধীন তদন্ত ও জবাবদিহির প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছে।

বাংলাদেশ পুলিশের অবস্থান পরিষ্কার—অভিযোগ থাকলে তদন্ত হবে। প্রমাণ পাওয়া গেলে দায় নির্ধারণ এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ক্ষেত্রে শুধু মাঠপর্যায়ের সদস্যের ভূমিকা দেখলেই হবে না। কোনো ঘটনায় যদি প্রমাণ পাওয়া যায় যে নির্দেশ, পরিকল্পনা, কমান্ড বা সুপারভাইজারি পর্যায়ে অপরাধমূলক দায় ছিল, সেটিও তদন্তের আওতায় আসতে হবে। তবে দায় নির্ধারণ হবে প্রমাণের ভিত্তিতে, পদমর্যাদা বা অনুমানের ভিত্তিতে নয়।

জুলাইয়ের আন্দোলনের সময়ে অনেক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুম, অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনায়  পুলিশের অন্তত দেড় শ কর্মকর্তাকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। তাঁদের অনেকে কারাগারে আছেন, অনেকের বিরুদ্ধে বিচার হয়েছে এবং অনেকে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। হতাহতের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।

পুলিশের বিরুদ্ধে ঘুষ, চাঁদাবাজিতে যোগসাজশ বা হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ উঠলে নিরপেক্ষ তদন্ত কীভাবে নিশ্চিত করবেন? আপনার দায়িত্ব গ্রহণের পর কতজনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তি এবং কতজনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা হয়েছে?

আইজিপি: পুলিশের সদস্যের বিরুদ্ধে ঘুষ, চাঁদাবাজি ও হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে, তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ১৩৫ জনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ২৫ জনকে চাকরিচ্যুত, ২৭ জনকে অব্যাহতি, ২৭ জনকে বিভিন্ন ধরনের শাস্তি, ৯ জনকে সাময়িক বরখাস্ত ও ২২ জনকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। সার্বিকভাবে বাহিনীর প্রধান হিসেবে আমি আশ্বস্ত করে বলতে চাই, এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের শৈথিল্য বা কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হচ্ছে না।

পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ে পদায়নের ক্ষেত্রে নানা রকম তদবির ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ শোনা যায়। থানায় ওসি নিয়োগে অর্থ লেনদেনের কথাও শোনা যাচ্ছে। এ বিষয়ে কী বলবেন?

আইজিপি: পুলিশ বাহিনীর উচ্চপর্যায় থেকে নিম্নপর্যায় পর্যন্ত এ ব্যাপারে খুবই উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। আগের সরকারের সময় কঠিন তদবিরের মুখোমুখি হতে হতো পুলিশকে। পুলিশ সদস্যদের পদায়নের ক্ষেত্রে এখন একটি কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী, এমপি, পলিটিক্যাল লোক, সাংবাদিক ও সাধারণ লোক—যিনিই আসুন, তদবিরকারীর নাম ওই কমিটির কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে তদবিরকারী সম্পর্কে তথ্য নেওয়া হয়। কমিটি পদায়নপ্রত্যাশী পুলিশ সদস্যের পটভূমি ও দক্ষতা যাচাই–বাছাই করে পদায়নের সুপারিশ করে। পরে সেই ভিত্তিতে তাঁকে পদায়ন করা হয়। রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখতে এই পদ্ধতি ডেভেলপ করা হবে।

ক্ষমতাসীন দলের কোনো নেতা বা সরকারের প্রভাবশালী কোনো ব্যক্তি মামলা, গ্রেপ্তার কিংবা তদন্তে বেআইনি নির্দেশ দিলে পুলিশ কী করবে?

আইজিপি: এখন গণতান্ত্রিক সরকারের কোনো নেতা বা কোনো এমপি, মন্ত্রী বা কোনো পলিটিক্যাল পদধারী লোক পুলিশকে কোনো অবৈধ আদেশ দেন না। পুলিশ এখন স্বাধীনভাবে কাজ করছে।

সুনির্দিষ্ট সম্পৃক্ততার প্রমাণ ছাড়া কাউকে মামলায় আসামি করা বা গ্রেপ্তার ঠেকাতে কী ব্যবস্থা নিয়েছেন? কোনো কর্মকর্তা হয়রানিমূলক মামলা বা গ্রেপ্তারে জড়িত হলে তাঁর জবাবদিহি কীভাবে নিশ্চিত করা হবে?

আইজিপি: কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা বা গ্রেপ্তার যেন তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়, ব্যক্তিগত বিরোধ বা অন্য কোনো অপ্রাসঙ্গিক কারণে না হয়, সেটি নিশ্চিত করা জরুরি।

তদন্ত কর্মকর্তাকে অভিযোগের সঙ্গে সুনির্দিষ্ট সম্পৃক্ততার প্রমাণ যাচাই করতে হবে। শুধু কারও নাম এসেছে বা অন্য কেউ অভিযোগ করেছে—এটিকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অপরাধের প্রমাণ হিসেবে দেখা যাবে না। গ্রেপ্তারও আইনি শর্ত ও প্রয়োজনীয়তার ভিত্তিতে হতে হবে।

পুলিশের কোনো কর্মকর্তা ইচ্ছাকৃতভাবে হয়রানিমূলক মামলা, বেআইনি গ্রেপ্তার বা ক্ষমতার অপব্যবহার করলে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সুপারভাইজিং অফিসাররা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাজ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করেন।

পুলিশ সংস্কার কমিশনের সুপারিশগুলোর মধ্যে কোনগুলো বাস্তবায়িত হয়েছে, কোনগুলো আটকে আছে? নিয়োগ, পদায়ন ও বদলিকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করতে কী পরিবর্তন প্রয়োজন বলে মনে করেন?

আইজিপি: পুলিশের সদস্যদের পদায়নে কমিটি গঠনের মধ্য দিয়ে সংস্কার বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। সংস্কার কমিশনের আশু বাস্তবায়নযোগ্য সুপারিশের অধিকাংশ বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

পুলিশের মাধ্যমে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হলে তাৎক্ষণিক প্রতিকারের জন্য নতুন হেল্পলাইন বা ৯৯৯-এ বিশেষ সেবার সুপারিশ ছিল। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। এটি ৫০০টি ওয়ার্কস্টেশনে সম্প্রসারণের একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া পুলিশ ভেরিফিকেশন সহজ করা এবং তল্লাশির সময় পুলিশ কর্মকর্তার পরিচয় নিশ্চিত করার মতো কিছু বিষয় কার্যকর করা হয়েছে।

কিছু সুপারিশ বাস্তবায়নের সঙ্গে একাধিক মন্ত্রণালয় জড়িত এবং বড় অঙ্কের অর্থ প্রয়োজন। আবার কিছু সুপারিশ বাস্তবায়নযোগ্য নয়। তবে বাস্তবায়নযোগ্য সুপারিশগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।

বদলি ও পদায়নকে রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত প্রভাবমুক্ত করতে হলে অবজেকটিভ অ্যানালাইসিসের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ওসি ও পুলিশ সুপার থেকে তদূর্ধ্ব পর্যায়ের পদে পদায়নের জন্য ফিটলিস্ট তৈরিতে পৃথক কমিটি কাজ শুরু করেছে। এর মাধ্যমে পদায়নে শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও প্রয়োজনভিত্তিক সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।

দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, মানসিক চাপ ও আবাসনসংকট সমাধানে মাঠপর্যায়ের পুলিশের সদস্যদের জন্য কী করেছেন, তাঁদের মনোবল ও পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে কোন কাজটি সবচেয়ে জরুরি?

আইজিপি: পুলিশের আবাসনসংকট সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলোর একটি। জেলা পর্যায় পর্যন্ত পুলিশের সদস্যদের পরিবার নিয়ে থাকার জন্য আবাসিক ভবন নির্মাণের প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের কাজ শেষ হলে সংকট অনেকটাই কমবে।

দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পুলিশের সদস্যরা অনেক সময় সহিংসতা, ট্রমা ও ব্যক্তিগত ক্ষতির মুখে পড়েন। অনেক থানায় অল্প জনবল নিয়ে কাজ করতে হয়। এতে কর্মঘণ্টা বাড়ে এবং শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব পড়ে।

উন্নত অবকাঠামো, পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা ও ভালো কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার বিকল্প নেই। পুলিশের সদস্যদের কল্যাণ ও মানসিক সুস্থতার বিষয়টিতে এখন অনেক বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

আগামী ছয় মাসে কোন তিনটি দৃশ্যমান পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দেবেন? যেগুলোর ভিত্তিতে মানুষ আপনার কাজের মূল্যায়ন করতে পারবে। লক্ষ্য পূরণ না হলে সেই ব্যর্থতার দায় কি আপনি নেবেন?

আইজিপি: জনগণের আস্থা অর্জন, পুলিশের সক্ষমতা ও মনোবল বৃদ্ধি এবং দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য দেশব্যাপী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য। সব বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে পুলিশ একযোগে কাজ করছে।

পুলিশের নেতৃত্বের দায়িত্ব হলো ফলাফলের দায় নেওয়া, ঘাটতি চিহ্নিত করা এবং প্রয়োজনীয় সংশোধন করা।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি।

© বিডি ২৪ নিউজ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

  বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা,আটকের দাবি : এ্যাংকর সিমেন্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অর্থপাচার, বিদেশে সম্পদের পাহাড় গড়ার অভিযোগ : তদন্তে দুদক ও ভ্যাট গোয়েন্দা   বরিশাল স্বাস্থ্যখাতে শত কোটি টাকার দুর্নীতি: পিপলাই পরিবারের টেন্ডার সিন্ডিকেট উন্মোচন   ইফতারে বৈষম্যের অভিযোগ: ভিআইপি ও সাধারণ কর্মচারীদের আলাদা মেন্যু, সমালোচনায় বরিশাল সিটি করপোরেশন   বরিশালের হলিমা খাতুন স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারী পরোয়ানা   পটুয়াখালী মেডিকেলে ৭৬ কোটি টাকার টেন্ডার বাতিল হলেও জড়িতরা বহাল তবিয়তে   রাজাপুর এলজিইডির প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদারের বিরুদ্ধে বিস্তর অনিয়মের অভিযোগ   বরিশালে বদলি ঠেকাতে ৩ শিক্ষকের গ্রেফতার নাটক   বরিশালের সেই বিতর্কিত এডলিন বিশ্বাষ পুলিশের হাতে আটক   না ফেরার দেশে বেগম খালেদা জিয়া   রাজশাহী গণপূর্তে টেন্ডারের আগেই ভাগ হচ্ছে কাজ : প্রশ্নের মুখে নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদুল ইসলাম   বরিশালের রুপাতলী ‘খাবার বাড়ি’ রেস্তোরাঁকে ১ লাখ টাকা জরিমানা   বাকেরগঞ্জে যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে গরু চুরির অভিযোগ   নলছিটিতে বৈদ্যুতিক ফাঁদে প্রাণ হারালেন কৃষক বাচ্চু মল্লিক   বদলি-নিয়োগ-দুর্নীতি, সিন্ডিকেটের দখলে প্রাথমিক শিক্ষাঅধিদপ্তর   উজিরপুরে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে বলৎকারের অভিযোগ,জুতা পেটা   বদলি-বাণিজ্য, ঘুষ নিয়ন্ত্রণ করতেন সিন্ডিকেটের মাধ্যমে, ছয় বছরের সাম্রাজ্য শাহজাহান আলীর   বরিশালে জামায়াত নেতাদের বিরুদ্ধে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের জায়গা দখল চেষ্টার অভিযোগ   বরিশালে বিসিক উদ্যোক্তা মেলায় স্টল বরাদ্দে অনিয়ম   বরিশাল কর অফিসের রতন মোল্লার হাতে আলাদিনের চেরাগ,একই কর্মস্থলে ১০ বছর   বরিশালের ১৬টি আসনে বিএনপির প্রার্থী যারা
Translate »