
ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কৌঁসুলিরা আরও অভিযোগ আনতে পারেন বলে জানিয়েছে সিবিএস।
সিবিএসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ দম্পতির বিরুদ্ধে ভেনেজুয়েলার কারাগারে আটক মার্কিনদের ওপর নির্যাতনের ঘটনায় ভূমিকা রাখার নতুন অভিযোগ আনা হচ্ছে।
গত ৩ জানুয়ারি রাতে এক নাটকীয় অভিযানে মার্কিন বিশেষ বাহিনীর সদস্যরা ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে অভিযান চালিয়ে মাদুরো ও ফ্লোরেসকে তাঁদের বাসভবন থেকে আটক করে। এরপর অস্ত্র ও মাদকসংক্রান্ত অপরাধের অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি করতে তাঁদের নিউইয়র্কে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। যদিও তাঁরা তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য বিবিসি মাদুরোর আইনজীবী ও মাদুরোর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা ম্যানহাটানের মার্কিন অ্যাটর্নির কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।
মাদুরোর শাসনামলে ভেনেজুয়েলায় অন্যায়ভাবে ১২ জনের বেশি মার্কিনকে আটক করে রাখা এবং তাঁদের ওপর নির্যাতনের ঘটনায় আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হতে পারে বলে সিবিএস জানিয়েছে।
মাদুরোর আইনজীবী ব্যারি পোলাক সিবিএসকে বলেছেন, নতুন কোনো অভিযোগ আনার বিষয়ে তাঁকে কিছু জানানো হয়নি।
এদিকে আজ বৃহস্পতিবার জামিন শুনানির জন্য ফ্লোরেসকে নিউইয়র্কের ফেডারেল আদালতে হাজির করা হবে। তাঁর বিরুদ্ধে মাদক পাচার ও অস্ত্রসংক্রান্ত অভিযোগ আনা হয়েছে।
মাদুরো ও ফ্লোরেস—দুজনেরই বিচার আগামী বছরের জুন মাসে শুরু হওয়ার কথা। যুক্তরাষ্ট্র মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক-সন্ত্রাসবাদের ষড়যন্ত্র, কোকেন আমদানির ষড়যন্ত্র এবং মেশিনগান ও বিস্ফোরক সরঞ্জাম রাখার অভিযোগ এনেছে। ২০২০ সালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে মাদুরো ছাড়াও আরও ১৪ জনের বিরুদ্ধে এ–সংক্রান্ত প্রথম অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
মার্কিন কৌঁসুলিদের অভিযোগ, মাদুরো, তাঁর স্ত্রী ও ছেলে এবং তাঁদের সহযোগীরা কোকেন পাচারের ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন এবং সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত কয়েকটি মাদক চক্রের সঙ্গে অংশীদারত্ব গড়ে তোলেন।
কৌঁসুলিদের আরও অভিযোগ, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ওপর জনগণ আস্থা রেখেছিল। কিন্তু তাঁরা তাঁদের পদের অপব্যবহার করেছেন এবং একসময় বৈধ প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্নীতিগ্রস্ত করে যুক্তরাষ্ট্রে টন টন কোকেন পাচার করেছেন।
মাদুরো এর আগে এমন অভিযোগকে ভেনেজুয়েলার বিপুল তেলসম্পদের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সাম্রাজ্যবাদী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের হাতিয়ার হিসেবে উল্লেখ করেন।
মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীর আইনজীবীরা অভিযোগগুলো খারিজ করার জন্য আদালতের কাছে আবেদন করেছেন। তাঁদের যুক্তি, মাদুরো একটি সার্বভৌম দেশের নেতা হওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা চালানোর ক্ষেত্রে তাঁর দায়মুক্তি রয়েছে।
এই আইনজীবীরা আরও দাবি করেছেন, মাদুরোকে জোর করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া বেআইনি। বিচারক এখনো তাঁদের আবেদনের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত দেননি।