● ●


দুই দফা মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার চেষ্টা থেকে বেঁচে ফেরা ক্রিস্টা চেতনা ফেরার পর কী বলেছেন
প্রকাশ: ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:০০ অপরাহ্ণ |
অনলাইন সংস্করণ

দুই দফা মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার চেষ্টা থেকে বেঁচে ফেরা ক্রিস্টা চেতনা ফেরার পর কী বলেছেন

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে প্রাণঘাতী ইনজেকশনের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার চেষ্টায় অলৌকিকভাবে বেঁচে যাওয়া আসামি ক্রিস্টা পাইক হাসপাতালে জ্ঞান ফেরার পর কথা বলেছেন। তিনি ক্ষুব্ধ ও বিভ্রান্ত বলে জানিয়েছেন তাঁর একজন আইনজীবী।

হাসপাতালে জ্ঞান ফেরার পর ক্রিস্টা পাইকের প্রথম কথা ছিল, ‘আমি কোথায়?’ এবং ‘আপনি কে?’ গতকাল বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তাঁর আইনজীবী র‍্যান্ডি স্পাইভি।

১৯৯৫ সালে তৎকালীন প্রেমিকের সঙ্গে মিলে কোলিন স্লেমারকে হত্যার দায়ে ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ড হয়েছিল। গত ৩০ সেপ্টেম্বর প্রাণঘাতী ইনজেকশন দিয়ে দুই দফায় তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার চেষ্টা করা হয়। এরপরও তিনি বেঁচে যান।

বিশেষজ্ঞ ও পাইকের আইনজীবীরা বলছেন, ক্রিস্টা পাইকের বেঁচে যাওয়ার ঘটনা নজিরবিহীন। এর আগে কোনো আসামি মৃত্যুদণ্ড কার্যকরকারীদের দেওয়া প্রাণঘাতী ইনজেকশন থেকে বেঁচে ফেরেননি।

গতকাল একটি আদালত ব্যর্থ মৃত্যুদণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব আলামত সংরক্ষণের জন্য টেনেসি অঙ্গরাজ্যকে নির্দেশ দিয়েছেন।

৫০ বছর বয়সী ক্রিস্টা পাইকের অবস্থা এখনো আশঙ্কাজনক। হাসপাতালে তাঁর নিবিড় চিকিৎসা চলছে। গতকাল আদালতে শুনানির পর আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তাঁর আইনজীবীরা বলেন, হাসপাতালের বিছানায় তাঁর হাত ও পা বেঁধে রাখা হয়েছে।

আইনজীবী র‍্যান্ডি স্পাইভি বলেন, কয়েক দিন ধরে তাঁদের ধারণা ছিল, ক্রিস্টা পাইকের ‘ব্রেন ডেথ’ হয়েছে। যেকোনো সময় তাঁর লাইফ সাপোর্ট সরিয়ে নেওয়া হতে পারে। কিন্তু সবাইকে চমকে দিয়ে গত মঙ্গলবার তিনি কথা বলতে শুরু করেছেন। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টার ঘটনা সম্পর্কে তাঁর খুব বেশি কিছু মনে নেই।

স্পাইভি বলেন, ক্রিস্টা পাইক প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেওয়ার জন্য তাঁর হাতের রগ খুঁজে পেতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরকারী দলের সদস্যদের সাহায্য করেছিলেন। সে সময় তিনি নম্র আচরণও করেন।

এরপর হাসপাতালের একটি কক্ষে জ্ঞান ফেরে ক্রিস্টার। গলায় তখন একটি নল লাগানো ছিল। আশপাশে ছিলেন অপরিচিত লোকজন। স্পাইভি বলেন, তাঁর দুই বাহুই এখন ‘ভীষণ ফুলে আছে’।

স্পাইভি আরও বলেন, পাইকের একটি বাহুতে রক্ত জমাট বেঁধেছে। তাঁর নিউমোনিয়াও হয়েছে। তিনি খাবার বা পানি গিলতে পারছেন না।

স্পাইভি বলেন, ‘পুরো ঘটনা তাঁর মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর কেমন প্রভাব ফেলবে, তা আমরা জানি না।’ তিনি জানান, এ ঘটনায় পাইক ‘ক্ষুব্ধ ও বিভ্রান্ত’ হয়ে পড়েছেন।

ধারণা করা হচ্ছে প্রাণঘাতী ইনজেকশন দিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার চেষ্টা থেকে বেঁচে যাওয়া একমাত্র ব্যক্তি হলেন পাইক।

ইনজেকশনের মাধ্যমে দুই দফা প্রাণঘাতী ওষুধ প্রয়োগের পরও পাইকের মৃত্যু না হওয়ায় তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। কয়েক দিন তিনি অচেতন ছিলেন। এ সময় চিকিৎসকেরা তাঁর শরীর থেকে ওই ওষুধ অপসারণের চেষ্টা করেন।

গতকাল দিনের শুরুতে জরুরি শুনানিতে বিচারকের সামনে হাজির হন পাইকের আইনজীবীরা। সেখানে ব্যর্থ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব আলামত সংরক্ষণের আবেদন জানান তাঁরা।

এ আলামত ভবিষ্যতে অঙ্গরাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে করা মামলার ভিত্তি তৈরি করতে পারে।

পাইকের আইনজীবীদের একজন লুক ইনেন শুনানির শুরুতে বলেন, তাঁর মক্কেলের সঙ্গে যোগাযোগ করতে নানা ধরনের ‘বাধার’ মুখে পড়তে হয়েছে।

বিচারক আই’শিয়া মাইলসকে এই আইনজীবী বলেন, ‘গতকাল পর্যন্ত আমাদের মক্কেল অচেতন ছিলেন এবং যোগাযোগ করতে পারছিলেন না। এখন তিনি একটু একটু কথা বলতে পারছেন।’

টেনেসির সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল উইল আয়রস আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, এখানে প্রক্রিয়াগতভাবে অস্বাভাবিক একটি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিচারকও এ বিষয়ে একমত হন।

আয়রসের যুক্তি, জরুরিভিত্তিতে আলামত সংরক্ষণের জন্য নতুন করে আদালতের আদেশের প্রয়োজন নেই। কারণ, আইন অনুযায়ী অঙ্গরাজ্য এমনিতেই এসব আলামত সংরক্ষণ করতে বাধ্য।

তারপরও বিচারক নির্দেশ দেন, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার চেষ্টার সময় মূল কক্ষে থাকা সবকিছু সংরক্ষণ করতে ও যথাযথভাবে রাখতে হবে। এর মধ্যে শিরায় ওষুধ দেওয়ার নল, সিরিঞ্জ ও ফেলে দেওয়া বিভিন্ন জিনিসও থাকবে।

৩০ সেপ্টেম্বর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার চেষ্টার আগে, ওই সময় এবং পরে পাইকের মানসিক অবস্থার বিস্তারিত তথ্য দিতেও অঙ্গরাজ্য সরকারকে নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো তথ্য যেন হারিয়ে না যায় বা ভুল করে মুছে না ফেলা হয়, সে বিষয়ে অঙ্গরাজ্যকে ‘বিশেষ সতর্ক’ থাকার পরামর্শ দেন তিনি।

পাইকের মৃত্যুদণ্ড আবার কবে কার্যকর করা হবে, তা জানতে বিচারক অঙ্গরাজ্য সরকারের আইনজীবীকে প্রশ্ন করেন। জবাবে আয়রস বলেন, এ বিষয়ে তাঁর কোনো তথ্য জানা নেই।

টেনেসির গভর্নর বিল লি এ বছর বাকি সময়ের জন্য অঙ্গরাজ্যে সব মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। কীভাবে ওই ঘটনা ঘটল, সে বিষয়েও তিনি বিস্তারিত জানতে চান। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ব্যর্থতার পর অঙ্গরাজ্যের কারা বিভাগের প্রধানও পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন।




এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি।

© বিডি ২৪ নিউজ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

  বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা,আটকের দাবি : এ্যাংকর সিমেন্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অর্থপাচার, বিদেশে সম্পদের পাহাড় গড়ার অভিযোগ : তদন্তে দুদক ও ভ্যাট গোয়েন্দা   বরিশাল স্বাস্থ্যখাতে শত কোটি টাকার দুর্নীতি: পিপলাই পরিবারের টেন্ডার সিন্ডিকেট উন্মোচন   ইফতারে বৈষম্যের অভিযোগ: ভিআইপি ও সাধারণ কর্মচারীদের আলাদা মেন্যু, সমালোচনায় বরিশাল সিটি করপোরেশন   বরিশালের হলিমা খাতুন স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারী পরোয়ানা   পটুয়াখালী মেডিকেলে ৭৬ কোটি টাকার টেন্ডার বাতিল হলেও জড়িতরা বহাল তবিয়তে   রাজাপুর এলজিইডির প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদারের বিরুদ্ধে বিস্তর অনিয়মের অভিযোগ   বরিশালে বদলি ঠেকাতে ৩ শিক্ষকের গ্রেফতার নাটক   বরিশালের সেই বিতর্কিত এডলিন বিশ্বাষ পুলিশের হাতে আটক   না ফেরার দেশে বেগম খালেদা জিয়া   রাজশাহী গণপূর্তে টেন্ডারের আগেই ভাগ হচ্ছে কাজ : প্রশ্নের মুখে নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদুল ইসলাম   বরিশালের রুপাতলী ‘খাবার বাড়ি’ রেস্তোরাঁকে ১ লাখ টাকা জরিমানা   বাকেরগঞ্জে যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে গরু চুরির অভিযোগ   নলছিটিতে বৈদ্যুতিক ফাঁদে প্রাণ হারালেন কৃষক বাচ্চু মল্লিক   বদলি-নিয়োগ-দুর্নীতি, সিন্ডিকেটের দখলে প্রাথমিক শিক্ষাঅধিদপ্তর   উজিরপুরে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে বলৎকারের অভিযোগ,জুতা পেটা   বদলি-বাণিজ্য, ঘুষ নিয়ন্ত্রণ করতেন সিন্ডিকেটের মাধ্যমে, ছয় বছরের সাম্রাজ্য শাহজাহান আলীর   বরিশালে জামায়াত নেতাদের বিরুদ্ধে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের জায়গা দখল চেষ্টার অভিযোগ   বরিশালে বিসিক উদ্যোক্তা মেলায় স্টল বরাদ্দে অনিয়ম   বরিশাল কর অফিসের রতন মোল্লার হাতে আলাদিনের চেরাগ,একই কর্মস্থলে ১০ বছর   বরিশালের ১৬টি আসনে বিএনপির প্রার্থী যারা
Translate »