
বিডি ২৪ নিউজ অনলাইন:বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষের ঢল নেমেছে। শোক, ভালোবাসা আর অশ্রুর স্রোতে একাকার হয়ে উঠেছে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ।
বৃহস্পতিবার (৩১ ডিসেম্বর) বাদ জোহর আপসহীন নেত্রী খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে সকাল থেকেই চারদিক থেকে মানুষ আসতে শুরু করে। দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা ও রাজধানীর অলিগলি পেরিয়ে শোকাহত মানুষেরা ছুটে আসেন প্রিয় নেত্রীকে শেষ বিদায় জানাতে।বাঁধভাঙা জোয়ারের মতো জনস্রোত ঢুকে পড়ে জানাজার প্রাঙ্গণে।
এই জনস্রোতের মধ্যেই দেখা মেলে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার এক গ্রামের ৭৫ বছর বয়সী কৃষক আব্দুল মালেকের। মাথায় সাদা টুপি, চোখে ক্লান্তি, কণ্ঠে গভীর আবেগ। কথা বলতে গিয়েই ভেঙে পড়ে তাঁর কণ্ঠ।
তিনি বলেন, “আমি সারাজীবন ধানের শীষের সঙ্গেই ছিলাম, জমিতে কাজ করেছি, ফসল ফলিয়েছি। কোনোদিন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে চোখে দেখিনি, কিন্তু ছোটবেলা থেকেই তাকে হৃদয়ে ধারণ করেছি। তার মৃত্যুর সময় কেঁদেছি। এরপর আমরা বেগম খালেদা জিয়াকে পেয়েছি, তিনি ছিলেন গরিব-দুঃখীর একদম কাছের মানুষ।
”
আব্দুল মালেক আরও বলেন, “ধানের চাষ করি, ধানের শীষকে ভালোবাসি। আমার এলাকায় কেউ বলতে পারবে না আমি কোনো দল করি। রাজনীতি করি না। কিন্তু শহীদ জিয়া আর বেগম খালেদা জিয়াকে মন থেকে ভালোবাসি। নির্বাচনের সময় তাদের ভোট দিয়েছি।
তিনি গরিব-দুঃখীর সঙ্গী ছিলেন।”
কথার ফাঁকে চোখ মুছতে মুছতে এই কৃষক বলেন, “তিনি (খালেদা জিয়া) যখন বিপদে পড়েছিলেন, তখন মসজিদে গেছি, তাবলিগে গেছি, ওনার জন্য দোয়া করেছি। আল্লাহ আমাদের দোয়া কবুল করেছেন। মিথ্যা মামলা থেকে ওনাকে মুক্ত করেছেন। দেশের মানুষ দেখেছে, ওনার কোনো দোষ ছিল না।”
খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে নিজের কষ্টকর যাত্রার কথাও জানান এই বৃদ্ধ কৃষক। তিনি বলেন, “ওনার মৃত্যুর খবর শোনার পর আর ঘরে থাকতে পারিনি। ভোরবেলায় রওনা দিয়েছি। ঢাকার মহাখালীতে কোনোমতে পৌঁছে হেঁটেই চলছি। জানাজার জায়গা চিনি না, তাই মানুষকে জিজ্ঞেস করে করে তাঁদের পিছু পিছু এসেছি।”
মহাখালী থেকে জাহাঙ্গীর গেট পেছনে ফেলে সড়ক ধরে হাঁটতে হাঁটতেই জানাজার স্থলের দিকে ছুটে চলেছেন আব্দুল মালেক, খালেদা জিয়ার জানাজায় সামিল হওয়ার এক অদম্য আকাঙ্ক্ষা নিয়ে।
চলার পথে শেষ প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “তারেক রহমানের জন্য গরিব-দুঃখী মানুষের দোয়া আছে। আর গরিব মানুষের দোয়া আল্লাহর আরশ কাঁপায়। আশা করি, তিনি তার বাবা-মায়ের মতোই দেশটাকে সোনার বাংলাদেশ গড়বেন। বেগম খালেদা জিয়ার আমলে মাসে ৫০০ টাকা দিয়েই সংসার চালিয়েছি। বিশ্বাস করি, তিনিও গরিব মানুষের জন্য দেশটাকে সেই জায়গায় নিয়ে যেতে পারবেন।”
একজন কৃষকের এই অশ্রুসিক্ত পথচলা যেন লাখো মানুষের অনুভূতিরই প্রতিচ্ছবি—ভালোবাসা, বিশ্বাস আর প্রিয় নেত্রীকে শেষ বিদায় জানানো গভীর আকুতি।