
৫৫ মিনিটে গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়েছিল আর্সেনাল। মনে হচ্ছিল তিন সপ্তাহের দীর্ঘ আন্তর্জাতিক বিরতি শুরুর আগের সেই বিশ্রী স্মৃতিটা বুঝি শেষ পর্যন্ত পিছু ছাড়ল না। ব্রাইটনের মাঠে ৩-০ গোলের তেতো হারের স্বাদ ভোলার আগেই লিডস ইউনাইটেডের কাছে গোল খাওয়া—শিরোপা ধরে রাখার অভিযানে কি তবে বড়সড় ধাক্কা খেতে যাচ্ছে আর্সেনাল? উত্তরটা এল ৬২ থেকে ৭০; মাত্র আট মিনিটের ঝড়ে। ঘরের মাঠ এমিরেটসে পরপর দুই গোল করে শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানে ম্যাচ জিতে নিল আর্সেনাল।
প্রথমার্ধে আর্সেনালকে অচেনা লেগেছে। যেন ছন্দহীন, গুটিয়ে থাকা একটা দল। বিপরীতে চমৎকার রক্ষণ আর সাহসী আক্রমণের মিশেলে শুরু থেকেই ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে রেখেছিল লিডস। ফলও মিলেছিল হাতেনাতে। বিরতির দশ মিনিট পর গ্যাব্রিয়েল গুডমুন্ডসনের ব্যাক-পাস থেকে বল পেয়ে আড়াআড়ি এক শটে গানারদের জালে তা জড়িয়ে দেন জেমস জাস্টিন। ২০০৩ সালের মে মাসের পর এই মাঠে যাদের লিগে জয়ের কোনো স্মৃতি ছিল না, সেই অতিথি সমর্থকেরা তখন আনন্দে আত্মহারা।
ঠিক ওই মুহূর্তেই যেন ঘুম ভাঙল এমিরেটস স্টেডিয়ামের। আর্সেনাল কি সত্যিই হেরে বসতে যাচ্ছে? গ্যালারির উথালপাতাল গর্জনের মাঝেই ত্রাণকর্তা হলেন রিকার্দো কালাফিওরি। বেন হোয়াইটের পাস পেয়ে খুব কাছ থেকে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে দলকে এনে দিলেন সমতা।
কোচ মিকেল আরতেতা এর পরপরই একসঙ্গে তিনটি পরিবর্তন আনলেন। মাঠের বাইরে থেকে নামিয়ে দিলেন ৭ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ডে দলে আনা নতুন চমক ব্রুনো গিমারাইসকে। আর তাতেই ম্যাচের চিত্রনাট্য এক লহমায় বদলে গেল। মাঠে নামার ঠিক আট মিনিট পর ডি-বক্সের বাইরে থেকে চোখজুড়ানো, ঠান্ডা মাথার এক ফিনিশিংয়ে গানারদের জয় নিশ্চিত করলেন এই ব্রাজিলিয়ান। চমৎকার এক আক্রমণ থেকে আসা সেই গোল যেন এমিরেটসের দমবন্ধ হাওয়া এক মুহূর্তে উড়িয়ে দিল।
কষ্টার্জিত এই জয়ের পর ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ৬ ম্যাচে আর্সেনালের পয়েন্ট ১৫, তাদের চেয়ে এক ম্যাচ কম খেলা ম্যানচেস্টার সিটিরও পয়েন্ট ১৫। গোল ব্যবধানেও এগিয়ে থাকায় পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে এনজো মারেসকার দল।