
বিডি ২৪ নিউজ অনলাইন: বিআরটিসি বরিশাল ডিপোর ম্যানেজার (অপা:) মোঃ জুলফিকার আলী দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি টাকার সম্পদ গড়ে তুলেছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিনি শুধু বরিশালেই নয়, চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলে দায়িত্ব পালনকালে একই দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও অনিয়ম করেছেন।
উৎস থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বিআরটিসি বরিশাল ডিপোর ম্যানেজার (অপা:) মোঃ জুলফিকার আলী প্রতি গাড়ি থেকে এক হাজার টাকা করে ঘুষ নিচ্ছেন। বিশেষভাবে বলা হচ্ছে, তিনি বিএনপির নামে বরিশাল ডিপোর ছয়টি রুটের সব গাড়ি থেকে নিয়মিত এই ঘুষ আদায় করেন। ঘুষের পুরো হিসাব এবং বণ্টন সম্পূর্ণরূপে তার সমন্বয়ক ও হিসাবরক্ষক ফারুকের মাধ্যমে করা হয়। ফারুক জমা হওয়া ঘুষ থেকে প্রয়োজনীয় অংশ ম্যানেজার (অপা:) মোঃ জুলফিকার আলীর কাছে পৌঁছে দেন এবং বাকি অংশ বণ্টন করেন স্থানীয় কিছু দালাল ও সহযোগীদের মধ্যে।
স্থানীয়রা জানান, বরিশাল ডিপোর এই দপ্তরটি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের চাঁদাবাজি ও অনিয়মের জন্য পরিচিত। যাত্রীবাহী গাড়ি পরিচালনাকারীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে ম্যানেজার (অপা:) মোঃ জুলফিকার আলী নিয়মিত অর্থ আদায় করছেন। এতে সাধারণ মানুষ শুধু অতিরিক্ত খরচ বহন করছে না, বরং পরিবহন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
স্থানীয়রা আরও অভিযোগ করেছেন, ম্যানেজার (অপা:) মোঃ জুলফিকার আলী বিভিন্ন এলাকায় জমি, পট ও বাড়ি ক্রয়ে কোটি টাকার সম্পদ গড়ে তুলেছেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকায় দায়িত্ব পালন করছেন, যার ফলে তার ওপর প্রশাসনিক তদারকির কার্যকারিতা সীমিত।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ম্যানেজার (অপা:) মোঃ জুলফিকার আলী রাজনৈতিক প্রভাবও প্রয়োগ করেন। আওয়ামী লীগের সঙ্গে তার সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও তিনি বিএনপির নামে ঘুষ আদায়ের কাজ চালান, যা রাজনৈতিক প্রভাবশালী মহলকেও অবাক করেছে। প্রতিবাদ বা অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে ম্যানেজার (অপা:) মোঃ জুলফিকার আলীর রণনীতি হলো পরিস্থিতি সামলে নিজস্ব হিসাবরক্ষক ও দালালদের মাধ্যমে ঘুষ সংগ্রহ করা। দীর্ঘদিন ধরে তিনি নিজের এই ব্যবসাকে স্বচ্ছ ও গোপন রাখতে সক্ষম হয়েছেন। তবে স্থানীয় জনগণ ও যানবাহন চালকরা তার এই কার্যকলাপ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।
ম্যানেজার (অপা:) মোঃ জুলফিকার আলী সাংবাদিকদের বলেন, “আমি দেশের বিভিন্ন বিভাগের শহরগুলোয় কাজ করেছি। তার মধ্যে চট্টগ্রাম ও সিলেটও রয়েছে। বরিশালে যোগদানের পর অনেকে বলছেন আমি নাকি বরিশাল পুরো খেয়ে দিব। আসলে আমি আসার পর অনেক উন্নতি করছি। তবে স্থানীয় যাত্রীবাহী গাড়ি চালক ও কর্মীরা সরাসরি অভিযোগ করেছেন, ম্যানেজার (অপা:) মোঃ জুলফিকার আলী নিয়মিতভাবে তাদের কাছ থেকে হাজার টাকা করে ঘুষ নিচ্ছেন। এই ঘুষের টাকা ফারুকের কাছে জমা হয় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বণ্টন করা হয়। এতে ডিপোর সম্পূর্ণ প্রশাসনিক ও আর্থিক কাঠামো প্রভাবিত হচ্ছে। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে দাঁড়াচ্ছে রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে।”
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, “যেখানে প্রশাসনিক তদারকি নেই এবং রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তৃত, সেখানে এমন চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি দীর্ঘ সময় ধরে চলতে পারে। এটি সাধারণ মানুষের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।”
বিআরটিসি বরিশাল ডিপোর এই কর্মকাণ্ডের কারণে সাধারণ যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দারা প্রতিনিয়ত দুর্ভোগের মধ্যে পড়ছেন। ঘুষ দিতে না পারার কারণে তাদের গাড়ি ব্যবহার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তাছাড়া, স্থানীয় সম্পত্তি ক্রয় ও অর্থের অপব্যবহার দীর্ঘমেয়াদে এলাকায় আর্থ—সামাজিক সমস্যাও সৃষ্টি করতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই ধরনের চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি রুখতে প্রশাসনিক তদারকি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। শুধু অভিযোগ ও রিপোর্টে সীমাবদ্ধ না থেকে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে সাধারণ মানুষই এই অনিয়মের শিকার হবেন।
বিআরটিসি বরিশাল ডিপোর ম্যানেজার (অপা:) মোঃ জুলফিকার আলী এবং তার হিসাবরক্ষক ফারুকের নাম ঘিরে নানা ধরনের চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রচলিত থাকলেও, সরকারের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, “যদি ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তবে কেবল আমাদেরই নয়, পুরো ডিপোর সেবা ব্যবস্থাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”
বিআরটিসি বরিশাল ডিপোরে দুর্নীতির এই ঘটনা শুধু স্থানীয় প্রশাসনই নয়, পুরো দেশের পরিবহন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতার জন্য সতর্কবার্তা। সাধারণ মানুষ ও যাত্রীবাহী গাড়ি চালকরা এখন প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ ও সরকারি তদন্তের অপেক্ষায় রয়েছেন।