● ●


সঞ্চয়পত্রের উৎসে কর চূড়ান্ত কর নয়, কার লাভ কার ক্ষতি
প্রকাশ: ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ৮:৩৬ পূর্বাহ্ণ |
অনলাইন সংস্করণ

সঞ্চয়পত্রের উৎসে কর চূড়ান্ত কর নয়, কার লাভ কার ক্ষতি

চলতি অর্থবছরের বাজেটে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর কেটে রাখা উৎস করকে চূড়ান্ত করের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এর মানে হলো, আপনি সঞ্চয়পত্র কিনলে যে মুনাফা পান, এর ওপর ১০ শতাংশ কর কেটে রাখা হয়। আপনার কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) না থাকলে মুনাফার ওপর ১৫ শতাংশ কর কেটে রাখা হয়।

এত দিন এই কর চূড়ান্ত কর হিসেবে বিবেচনা করা হতো। সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর আর বাড়তি কর দিতে হতো না। আবার একবার কেটে নেওয়ার পর তা আর ফেরতও পাওয়া যেত না।

.

কিন্তু চলতি অর্থবছর থেকে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর কেটে রাখা উৎসে কর চূড়ান্ত করদায় হিসেবে বিবেচিত হবে না। এটি অগ্রিম কর হিসেবে কেটে রাখা হবে। বছর শেষে বেশি কর কেটে রাখা হলে পাওনা টাকা ফেরত পাওয়া যাবে। আবার বাড়তি কর হলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর বিভাগকে বাকি টাকা দিতে হবে। আয়কর রিটার্নের মাধ্যমে এসব হিসাব–নিকাশ করা হয়।

এবার দেখা যাক, এই নতুন নিয়মে কার লাভ হলো, কার ক্ষতি হলো—

যা পরিবর্তন হলো

সঞ্চয়পত্রের মুনাফা দেওয়ার সময় যে উৎসে কর কেটে রাখা হয়, তা আর চূড়ান্ত করদায় হিসেবে বিবেচনা করা হবে না। এখন থেকে সঞ্চয়পত্রের আয় করদাতার মোট আয়ের সঙ্গে যোগ হবে এবং ব্যক্তিভেদে নির্ধারিত করধাপ অনুযায়ী কর ধার্য করা হবে।

.

কার লাভ, কার ক্ষতি

প্রত্যেক করদাতাকে তাঁদের আয় অনুসারে (করমুক্ত আয়সীমার বেশি হলে) বছর শেষে ১০, ১৫, ২০, ২৫ ও ৩০ শতাংশ হারে কর দিতে হয়। এই নতুন নিয়মের ফলে যাঁরা ১০ শতাংশের বেশি কর ধাপে পড়েন, তাঁদের করের বোঝা বাড়বে। কারণ, আগে মুনাফার ওপর ১০ শতাংশ যে কর কেটে রাখা হতো, সেটা চূড়ান্ত ও করের দায়মুক্তি।

একটি উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে। কোনো করদাতা সঞ্চয়পত্র থেকে এক বছরে এক লাখ টাকা মুনাফা করেছেন। এ জন্য উৎসে কর হিসেবে ১০ হাজার টাকা কেটে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন উৎস থেকে আয় বা বেতন পেয়েছেন আরও সাড়ে তিন লাখ টাকা। সব মিলিয়ে আপনার করযোগ্য আয় সাড়ে চার লাখ টাকা। প্রথম চার লাখ টাকা পর্যন্ত কর নেই। পরের ৫০ হাজার টাকার জন্য ১০ শতাংশ হারে ৫ হাজার টাকা কর বসবে।

কিন্তু আপনি সঞ্চয়পত্রে অগ্রিম কর হিসেবে ১০ হাজার টাকা দিয়ে ফেলেছেন। তাই রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় তিনি বাকি ৫ হাজার টাকা ফেরত দাবি করতে পারবেন।

.

এতে সীমিত আয় ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্যরা যাঁরা সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল, তাঁদের সুবিধা হবে, করের বোঝা কমবে। বাড়তি কর কেটে নেওয়া হলে তা ফেরত পাবেন।

এই পরিবর্তনের ফলে যাঁদের করহার ১০ শতাংশের বেশি হবে, সেই আয়ের ওপর তাঁদের প্রকৃত করধাপ অনুযায়ী (যেমন ১৫%, ২০% বা তার বেশি) কর দিতে হবে।

একটি উদাহরণ দেওয়া যাক। একজন করদাতা সঞ্চয়পত্র থেকে ৫ লাখ টাকা মুনাফা পেয়েছেন। এ জন্য ১০ শতাংশ হারে ৫০ হাজার টাকা উৎসে কর কেটে রাখা হয়েছে। এর বাইরে ওই করদাতা বেতন বা অন্য উৎস থেকে ৪ লাখ টাকা আয় করেছেন। এখন বছর শেষে তাঁর আয় দাঁড়াবে ৯ লাখ টাকা।

আগে হলে (যেহেতু সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর দেওয়া আয়কর চূড়ান্ত কর দায়) তাঁকে ৫০ হাজার টাকা কর দিলেই হতো। কিন্তু এখন তাঁর হিসাবটি হবে এমন, প্রথম ৪ লাখ টাকার ওপর কোনো কর বসবে না, পরের তিন লাখ টাকার ওপর ১০ শতাংশ হারে ৩০ হাজার টাকা এবং পরের দুই লাখ টাকার ১৫ শতাংশ হারে ৩০ হাজার টাকা। তাই ওই করদাতার সব মিলিয়ে ৬০ হাজার টাকা কর হবে। কিন্তু তিনি সঞ্চয়পত্রের উৎসে কর হিসেবে আগের ৫০ হাজার টাকা দিয়েছেন। তাই এখন বাড়তি ১০ হাজার টাকা দিতে হবে। এটি তাঁর এ বছরের বাড়তি কর।

.

অগ্রিম কর ফেরত পাবেন কীভাবে

যদি ওই করদাতার প্রযোজ্য করের চেয়ে বেশি কর কেটে রাখা হয়, তাহলে তা ফেরত পাওয়া যাবে।

একটি উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে, একজন করদাতার সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর বছরজুড়ে ৩০ হাজার টাকা অগ্রিম কর কেটে রাখা হলো। কিন্তু বছর শেষে ওই করদাতা রিটার্ন জমার সময় দেখলেন, নানা ধরনের ছাড়ের পর তাঁর বার্ষিক করের পরিমাণ ২০ হাজার টাকা। তাহলে তিনি বাকি ১০ হাজার টাকা ফেরত পাবেন।

সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর কেটে রাখা অগ্রিম কর ফেরত পেতে অবশ্যই ওই করদাতাকে রিটার্ন দিতে হবে। তাই ছোট ছোট সঞ্চয়পত্র বিনিয়োগকারী কিন্তু তাঁদের করযোগ্য আয় নেই, এমন ব্যক্তিদের এখন টিআইএন নিয়ে বছর শেষে রিটার্ন দিয়ে সঞ্চয়পত্রের কেটে রাখা অগ্রিম করের টাকা ফেরত নিতে হবে।

রিটার্ন জমার সময় ব্যাংক হিসাব নম্বর জানিয়ে টাকা ফেরতের দাবি করতে হবে। উৎসে কর হিসেবে কেটে রাখার প্রমাণ হিসেবে কাগজপত্র দিতে হবে। কর কর্মকর্তারা যাচাই–বাছাই করে ১২০ দিনের মধ্যে ব্যাংক হিসাবে প্রাপ্য টাকা ফেরত দেবেন।




এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি।

© বিডি ২৪ নিউজ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

  বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা,আটকের দাবি : এ্যাংকর সিমেন্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অর্থপাচার, বিদেশে সম্পদের পাহাড় গড়ার অভিযোগ : তদন্তে দুদক ও ভ্যাট গোয়েন্দা   বরিশাল স্বাস্থ্যখাতে শত কোটি টাকার দুর্নীতি: পিপলাই পরিবারের টেন্ডার সিন্ডিকেট উন্মোচন   ইফতারে বৈষম্যের অভিযোগ: ভিআইপি ও সাধারণ কর্মচারীদের আলাদা মেন্যু, সমালোচনায় বরিশাল সিটি করপোরেশন   বরিশালের হলিমা খাতুন স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারী পরোয়ানা   পটুয়াখালী মেডিকেলে ৭৬ কোটি টাকার টেন্ডার বাতিল হলেও জড়িতরা বহাল তবিয়তে   রাজাপুর এলজিইডির প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদারের বিরুদ্ধে বিস্তর অনিয়মের অভিযোগ   বরিশালে বদলি ঠেকাতে ৩ শিক্ষকের গ্রেফতার নাটক   বরিশালের সেই বিতর্কিত এডলিন বিশ্বাষ পুলিশের হাতে আটক   না ফেরার দেশে বেগম খালেদা জিয়া   রাজশাহী গণপূর্তে টেন্ডারের আগেই ভাগ হচ্ছে কাজ : প্রশ্নের মুখে নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদুল ইসলাম   বরিশালের রুপাতলী ‘খাবার বাড়ি’ রেস্তোরাঁকে ১ লাখ টাকা জরিমানা   বাকেরগঞ্জে যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে গরু চুরির অভিযোগ   নলছিটিতে বৈদ্যুতিক ফাঁদে প্রাণ হারালেন কৃষক বাচ্চু মল্লিক   বদলি-নিয়োগ-দুর্নীতি, সিন্ডিকেটের দখলে প্রাথমিক শিক্ষাঅধিদপ্তর   উজিরপুরে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে বলৎকারের অভিযোগ,জুতা পেটা   বদলি-বাণিজ্য, ঘুষ নিয়ন্ত্রণ করতেন সিন্ডিকেটের মাধ্যমে, ছয় বছরের সাম্রাজ্য শাহজাহান আলীর   বরিশালে জামায়াত নেতাদের বিরুদ্ধে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের জায়গা দখল চেষ্টার অভিযোগ   বরিশালে বিসিক উদ্যোক্তা মেলায় স্টল বরাদ্দে অনিয়ম   বরিশাল কর অফিসের রতন মোল্লার হাতে আলাদিনের চেরাগ,একই কর্মস্থলে ১০ বছর   বরিশালের ১৬টি আসনে বিএনপির প্রার্থী যারা
Translate »