
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের হামলায় দুই বাংলাদেশিসহ ১৩ জন নিহত এবং ৩০০–এর বেশি যাত্রী ও বেসামরিক নাগরিক আহত হওয়ার ঘটনায় গভীর শোক, তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ।
সোমবার এক শোকবার্তায় হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব আল্লামা শায়েখ সাজিদুর রহমান হামলায় নিহত বাংলাদেশি নাগরিকসহ সব ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য সৌদি সরকার ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে পর্যাপ্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তাঁরা আহত ব্যক্তিদের সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে সর্বাধুনিক চিকিৎসা প্রদান ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে জরুরি মানবিক সহায়তা দেওয়ার দাবিও জানান।
শোকবার্তায় হেফাজত আমির ও মহাসচিব বলেন, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মতো একটি সম্পূর্ণ বেসামরিক নাগরিক স্থাপনায় এ ধরনের ন্যক্কারজনক হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এটি আন্তর্জাতিক আইন, মৌলিক মানবাধিকার এবং মানবিক মূল্যবোধের চরম লঙ্ঘন। নিরীহ মানুষের ওপর এ–জাতীয় সন্ত্রাসী হামলা বিশ্ববিবেককে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে।
নিহত বাংলাদেশিদের মরদেহ পরিবার চাইলে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে সম্মানের সঙ্গে দাফন করা কিংবা প্রবাসেই যথাযথ মর্যাদায় দাফনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে বলে শোকবার্তায় উল্লেখ করা হয়।
হুতিদের হামলায় নিহত ব্যক্তিদের পরিবারগুলো যেন তাদের প্রাপ্য আইনগত পাওনা ও ক্ষতিপূরণ সঠিকভাবে পায়, সে লক্ষ্যে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়কে দ্রুত ও কার্যকর কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানান হেফাজতের শীর্ষ নেতৃত্ব।
একই সঙ্গে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং বিমানবন্দরসহ যেকোনো বেসামরিক স্থাপনায় এ ধরনের হামলা চিরতরে বন্ধে জাতিসংঘ, ওআইসিসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কঠোর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানান তাঁরা।
ওমরাহ যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান
এদিকে রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় নিহত ব্যক্তিদের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ ও হামলার নিন্দা জানিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। তিনি ওমরাহ যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর প্রতি আহ্বান জানান।
সোমবার রাজধানীতে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের নিয়মিত মাসিক বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে মামুনুল হক এ কথা বলেন। বৈঠক পরিচালনা করেন সংগঠনের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ।
বৈঠকে মাওলানা মামুনুল হক বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর প্রধান শত্রু ইসরায়েল। ইসরায়েলকে শক্তিশালী করে—এমন সব ধরনের কার্যক্রম থেকে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে বিরত থাকতে হবে। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় আঞ্চলিক দেশগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা জরুরি।