
নাসির (ছদ্মনাম) দুই মাসে ১২০টি চাকরিতে আবেদন করেছেন, অনলাইনে। সাড়া মিলেছে মাত্র দুটি, তা–ও প্রত্যাখ্যানের। রাত দুইটায় তিনি ভাবছেন, সমস্যাটা কি তাঁর যোগ্যতায় নাকি অন্য কোথাও?
উত্তরটা হয়তো লুকিয়ে আছে প্রথম ধাপে। অনেক প্রতিষ্ঠানে আবেদনকারীর সিভি আগে পড়ে মানুষ নয়, আবেদন বাছাই সফটওয়্যার বা অ্যাপ্লিকেন্ট ট্র্যাকিং সিস্টেম (এটিএস)।
.
২০২৬ সালের একাধিক গবেষণা বলছে, এখানে ঝুঁকি আছে। ৫৫৪টি সিভি ও ৫৭১টি চাকরির বিবরণ নিয়ে এক পরীক্ষায় দেখা গেছে, সিভির বাকি সব এক রেখে শুধু নাম বদলালেও এআই-এর সুপারিশ বদলে যায়। আরেক গবেষণায় ২ হাজার ২৪৫টি সিভি নিয়ে দেখা গেছে, এআই মডেলগুলো প্রায় সব সময় নিজেদের লেখা সংস্করণকেই বেছে নেয়। আর মানুষ নিয়োগকারীরাও (হিউম্যান এমপ্লয়ার) প্রায় ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রে পক্ষপাতদুষ্ট সুপারিশ মেনে নিয়েছেন।
.
চাকরিপ্রার্থী হিসেবে কী করবেন?: ১. সহজ, পরিচ্ছন্ন ফরম্যাটে সিভি লিখুন এবং বিজ্ঞপ্তির মূল শব্দগুলো নিজের অভিজ্ঞতার সঙ্গে মিলিয়ে নিন। ছবি বা জটিল নকশা অনেক সময় সফটওয়্যারকে ধাঁধায় ফেলে।
২. এআই দিয়ে ভাষা সাজান, কিন্তু মিথ্যা তথ্য যোগ করবেন না। ৩. শুধু অনলাইন আবেদন নয়, পরিচিতজন ও সরাসরি যোগাযোগেও ভরসা রাখুন।
ব্যর্থতা মানেই আপনি অযোগ্য, এমন ভাবার কারণ নেই। যন্ত্র বনাম মানুষের লড়াই এটা নয়। প্রশ্ন হলো মানুষ কি যন্ত্রের সুপারিশ চোখ বুজে মেনে নেবে?
লেখক: টেক ব্লগার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর