
ভারতের রাজধানী দিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর মন্তরে চলমান আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়েছে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী (একাংশ) ও গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্য। আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা, তাঁদের আটক ও নির্যাতনের অভিযোগে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংগঠন দুটি। একই সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ন্যায্য দাবি মেনে নেওয়া এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করারও আহ্বান জানানো হয়েছে।
সোমবার উদীচী ও গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্য পৃথক বিবৃতিতে এ অবস্থান জানায়। একটি বিবৃতিতে উদীচী একাংশের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাবিবুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক জামসেদ আনোয়ার তপন স্বাক্ষর করেন। অন্যটিতে গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্যের আহ্বায়ক হিসেবে জামসেদ আনোয়ার তপন এবং এই মোর্চার অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা স্বাক্ষর করেন।
উদীচীর বিবৃতিতে বলা হয়, যন্তর মন্তরে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের ওপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হামলা ও নির্যাতনের ঘটনায় তারা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। আন্দোলনের সংগঠক, রাজনৈতিক নেতা, কর্মী ও সমর্থকদের আটক এবং তাঁদের ওপর নিপীড়নের তীব্র নিন্দা জানিয়ে সংগঠনটি বলেছে, নানা বাধা ও নিপীড়ন উপেক্ষা করে আন্দোলনকারীরা তাঁদের প্রতিবাদ অব্যাহত রেখেছেন। এই আন্দোলন এখন ন্যায়বিচার, গণতান্ত্রিক অধিকার ও ভোটাধিকার রক্ষার সংগ্রামের প্রতীক হয়ে উঠেছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আন্দোলনকারীরা ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবি করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, বিপুলসংখ্যক মানুষকে ভোটাধিকার প্রয়োগ থেকে বঞ্চিত করা এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কারসাজির মাধ্যমে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টিকে (বিজেপি) সুবিধা দেওয়ার মতো গুরুতর অনিয়মে নির্বাচন কমিশন জড়িত। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য তদন্তের দাবি জানিয়েছে উদীচী।
গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্যের বিবৃতিতে বলা হয়, যন্তর মন্তর ভারতের সাধারণ মানুষের ক্ষোভ, প্রতিবাদ ও দাবি জানানোর ঐতিহাসিক স্থান। সেখানে চলমান আন্দোলনে অংশ নেওয়া নাগরিক, রাজনৈতিক দল, ছাত্রসংগঠন, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষের অহিংস অবস্থানের প্রতি সংহতি জানানো হচ্ছে। সেই সঙ্গে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের সংগঠক ও কর্মীদের আটক-নিপীড়নের নিন্দাও জানানো হয়।
উভয় বিবৃতিতে আন্দোলনকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অন্যায়ভাবে আটক ব্যক্তিদের অবিলম্বে মুক্তি দেওয়া এবং তাঁদের সঙ্গে আইনানুগ ও মানবিক আচরণের জোর দাবি জানানো হয়েছে।