
রাজধানীর ইসিবি চত্বরে নিউগিনি প্রপার্টিজ লিমিটেডের প্রকল্পে ভাঙচুর, লুটপাট ও চুরির মামলায় আত্মসমর্পণের পর আসামি মোহাম্মদ শাহিনুজ্জামানকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
আজ রোববার শাহিনুজ্জামান আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। এরপর তাঁর আইনজীবী আবদুল বাতেন মিয়াজী জামিনের আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জামিনের বিরোধিতা করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইন জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে শাহিনুজ্জামানকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
একই মামলায় হাজতে থাকা আসামি মিজানুর রহমানের পক্ষেও জামিনের আবেদন করা হয়। আদালত সেটিও নামঞ্জুর করেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) তারেক রহমান প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, শাহিনুজ্জামান এ মামলার ৫ নম্বর আসামি।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত ২৬ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ মানিকদীর ইসিবি চত্বরে নিউগিনি প্রপার্টিজ লিমিটেডের প্রকল্প এলাকায় আনুমানিক ৫০ জন দুষ্কৃতকারী দল বেঁধে বেআইনিভাবে ঢোকে। এ সময় তারা এলোপাতাড়ি প্রায় ৫০টি গুলি ছোড়ে এবং রামদা, ছোরা ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায়। এতে সাইট প্রকৌশলী মো. পারভেজসহ বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন।
হামলাকারীরা প্রকল্প এলাকা থেকে টাকা, ল্যাপটপ, কম্পিউটার, বিআরবি কেব্ল, ক্যামেরা ও পেশাদার মিডিয়া সরঞ্জামসহ বিপুল পরিমাণ মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। তারা গাড়িও ভাঙচুর করে। এতে প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১ কোটি ৪২ লাখ ৮০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে এবং ১ কোটি ৫০ লাখ ৪৩ হাজার টাকার মালামাল চুরি হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। ওই সময় আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের ‘ব্রাউন ফিশ’ নামের স্টুডিওতে অনধিকার প্রবেশ করে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়।
খবর পেয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে হামলাকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করেও গুলি ছোড়ে। তখন আত্মরক্ষা ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ শটগানের পাঁচটি গুলি ছোড়ে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে। পরে বাকি আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ঘটনায় প্রকল্পের কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া বাদী হয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা করেন। মামলায় ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।