
ঢাকা কলেজের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কলেজের সৌন্দর্যবর্ধনে সীমানাপ্রাচীরে থাকা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতিবিজড়িত গ্রাফিতি সাদা রং দিয়ে মুছে ফেলার ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ ও গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঢাকা কলেজ শাখা।শনিবার কলেজ ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোন্তাকিম আহমেদ ও সেক্রেটারি সাইমুন ইসলাম সানি এক যৌথ বিবৃতিতে এই প্রতিবাদ জানান।বিবৃতিতে তারা বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি অবিস্মরণীয় অধ্যায়। দীর্ঘদিনের অন্যায়, স্বৈরাচার ও দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজসহ সর্বস্তরের মানুষের সাহসী প্রতিরোধ ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে এই গণ-অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছে। ঢাকা কলেজ ক্যাম্পাসের দেয়ালে অঙ্কিত গ্রাফিতিগুলো নিছক দেয়ালচিত্র নয়; বরং এগুলো জুলাইয়ের সংগ্রাম, আত্মত্যাগ, প্রতিবাদ ও ঐতিহাসিক চেতনার দৃশ্যমান স্মারক। সেই গ্রাফিতি মুছে ফেলার মাধ্যমে একটি ঐতিহাসিক অধ্যায়ের স্মৃতিকে আড়াল করার চেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।এই যৌথ বিবৃতিতে তারা আরও বলেন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দেয়াল শুধু ইট-পাথরের অবকাঠামো নয়; তা শিক্ষার্থীদের চিন্তা, প্রতিবাদ, সৃজনশীলতা ও ঐতিহাসিক চেতনা প্রকাশের অন্যতম মাধ্যম। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতিবিজড়িত গ্রাফিতি মুছে ফেলা শিক্ষার্থীদের আবেগ-অনুভূতি ও ইতিহাসের প্রতি অবজ্ঞার শামিল। রাজনৈতিক মতপার্থক্য কিংবা ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির কারণে কোনো ঐতিহাসিক স্মারক মুছে ফেলার সংস্কৃতি কখনোই কাম্য নয়।মুছে ফেলা গ্রাফিতি পুনরায় অঙ্কনের আহ্বান জানিয়ে ছাত্রশিবিরের এই নেতৃবৃন্দ বলেন, আমরা এ ঘটনার যথাযথ ব্যাখ্যা দাবি করছি এবং মুছে ফেলা গ্রাফিতিগুলো পুনরায় অঙ্কন ও সংরক্ষণের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাস কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সম্পদ নয়, এটি এ দেশের ছাত্রসমাজ ও আপামর জনতার সম্মিলিত সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের ইতিহাস। দেয়াল থেকে গ্রাফিতি মুছে ফেলা গেলেও ইতিহাসের বাস্তবতা ও মানুষের স্মৃতি মুছে ফেলা সম্ভব নয় বলে উল্লেখ করেন ছাত্রশিবিরের নেতৃবৃন্দ।এর আগে, গতকাল শুক্রবার ঢাকা কলেজের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কলেজের সৌন্দর্যবর্ধনকে ঘিরে সীমানাপ্রাচীরে থাকা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতিবিজড়িত গ্রাফিতি মুছে ফেলা হয়। পরে কলেজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা এ বিষয়ে অবগত ছিলেন না। আর এমন কিছু হলে তা পুনরায় লেখা হবে।