
ভারতের অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ঘটনা টেলিভিশনে দেখে কেঁদে ফেলেছিলেন কংগ্রেসের সংসদীয় দলের চেয়ারপারসন সোনিয়া গান্ধী। ১৯৯২ সালের ওই ঘটনা তাকে উপলব্ধি করিয়েছিল, ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্র রক্ষায় দীর্ঘ লড়াই করতে হবে। সম্প্রতি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অতীতের সেই স্মৃতি তুলে ধরেন তিনি।নিজের আত্মজীবনী প্রকাশের আগে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সোনিয়া গান্ধী বলেন, মহাত্মা গান্ধী, জওহরলাল নেহরু ও তাদের সহযোদ্ধারা যে ধর্মনিরপেক্ষ ভারতের স্বপ্ন দেখেছিলেন, তা ধরে রাখতে দীর্ঘ সংগ্রামের প্রয়োজন হবে—বাবরি মসজিদ ধ্বংসের সময়ই এমন উপলব্ধি হয়েছিল তার।সাক্ষাৎকারে কংগ্রেসের রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়েও আত্মসমালোচনা করেন সোনিয়া। তার মতে, বিজেপির উত্থানের পেছনে কংগ্রেসের নিজেদের ব্যর্থতারও ভূমিকা ছিল। দলটি অনেক ক্ষেত্রে আত্মতুষ্টিতে ভুগেছে এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় যথেষ্ট সক্রিয় ছিল না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।সোনিয়ার এই বক্তব্য ঘিরে ভারতের রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তার মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতা ও সংসদ সদস্য সুধাংশু ত্রিবেদী।ত্রিবেদী অভিযোগ করেন, সোনিয়ার বক্তব্যে প্রমাণ হয়, বাবর সম্পর্কে কংগ্রেসের যে সহানুভূতি আগে ছিল, তা এখনো রয়েছে। তার ভাষায়, ‘তখন কংগ্রেসের হৃদয়ে বাবর ছিলেন, এখনো আছেন।’ কংগ্রেস মহাত্মা গান্ধীর ‘রামরাজ্য’-এর ধারণা থেকে সরে গিয়ে ‘বাবর রাজ’-এর দিকে ঝুঁকেছে বলেও দাবি করেন তিনি।এ ছাড়া বাবরি মসজিদ ধ্বংসের দৃশ্য সোনিয়া কখন এবং কোন টেলিভিশন চ্যানেলে দেখেছিলেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিজেপির এই নেতা। ত্রিবেদী বলেন, ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসে ঘটনাটি নিয়ে সংবাদ প্রচার হয়েছিল। তবে সেদিন কোন ভারতীয় টেলিভিশন চ্যানেলে সোনিয়া ধ্বংসের দৃশ্য দেখেছিলেন, তা জানতে চান তিনি।১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর অযোধ্যায় করসেবকদের একটি বিশাল দল বাবরি মসজিদ ভেঙে ফেলে। ঘটনাটি ভারতের রাজনীতি ও সাম্প্রদায়িক সম্পর্কের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত। মসজিদটি ঘিরে দীর্ঘদিনের বিরোধের পর ২০১৯ সালে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বিতর্কিত জমিতে রামমন্দির নির্মাণের পক্ষে রায় দেন এবং মসজিদ নির্মাণের জন্য বিকল্প পাঁচ একর জমি বরাদ্দের নির্দেশ দেন।সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়াএআরবি