মধ্যাহ্নবিরতির পর তাইজুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে যেটা করলেন তাওহীদ হৃদয়, সেটা রূপকথার গল্পকেও হার মানায়। ৩ উইকেটে ৮৮ রান নিয়ে দিন শুরু করার পর ৭ উইকেটে ২০৫ রান করে মধ্যাহ্নবিরতিতে যায় বাংলাদেশ। মূলত এই ৭ উইকেট ৮ উইকেট হারানোর সমতুল্য। কারণ গোড়ালির চোটে ছিটকে পড়া সাদমান ইসলামের ব্যাটিংয়ে নামার প্রকৃতপক্ষে কোনো সুযোগ ছিল না। ফলে টেইলেন্ডারদের নিয়ে বাংলাদেশকে লড়াইয়ে টিকিয়ে রাখার দায়িত্বটা ছিল হৃদয়ের কাঁধেই। মাত্র তৃতীয় টেস্টে মাঠে নামা হৃদয় সেই কাজটা করলেন পেশাদারদের মতোই। ইস্পাত কঠিন মানসিকতা এবং চার-ছক্কার ফুলঝুরি সাজিয়ে দর্শকদের যেমন বিনোদিত করেছেন তেমনি লিডটাকেও নামিয়ে এনেছেন পঞ্চাশের নিচে। লাঞ্চের পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের পথের কাঁটা ছিলেন একমাত্র হৃদয়। তাকে আউট করতে পারলেই বড় একটা লিড নিয়ে প্রথম ইনিংস শেষ করতে পারতো। তবে একাই দাঁড়িয়ে গেলেন হৃদয়। ৭ উইকেটে ২০৫ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে নেমে দ্বিতীয় সেশনে ১ উইকেটে ১১৩ রান যোগ করেছে বাংলাদেশ। লাঞ্চের পর হৃদয়কে দারুণ সঙ্গ দিয়েছেন তাইজুল ইসলামও। তার ২২ রানের ইনিংসটি অবশ্য থেমেছে খুবই ক্লোজ একটি স্টাম্পিংয়ে। তবে তাইজুল আউট হওয়ার আগে অষ্টম উইকেটে ১১৭ রানের জুটি গড়েন তারা। অষ্টম উইকেটে এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানের জুটি। তাইজুল আউট হওয়ার পর চা বিরতির আগ পর্যন্ত তাসকিনকে নিয়ে আরও ১৭ রান যোগ করেছেন হৃদয়। ক্যারিয়ারের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি থেকে আছেন মাত্র ১০ রান দূরে। দ্বিতীয় সেশন পর্যন্ত বাংলাদেশের রান ৮ উইকেটে ৩১৮। প্রথম ইনিংসে এখনও উইন্ডিজের চেয়ে ৩৮ রানে পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ। এর আগে ৩ উইকেটে ৮৮ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে নেমে রোববার প্রথম ৭ ওভার নির্বিঘ্নে কাটিয়েছিল বাংলাদেশ। রানের গতিও ছিল ভালোই। দিনের প্রথম ৭ ওভারে ৩৩ রান তুলেছিল বাংলাদেশ। ছন্দপতন ঘটে মুশফিকুর রহিমের বিদায়ে। জোমেল ওয়ারিক্যানের হাওয়ায় ভাসানো বলে ড্রাইভ খেলে শর্ট কাভারে সহজ ক্যাচ তুলে দেন অভিজ্ঞ মুশফিক। ৩৪ রান করে আউট হয়েছেন অভিজ্ঞ ব্যাটার। মুশফিকের মতো একই ধরনের আউট হয়েছেন লিটন দাসও। ওয়ারিকানের ধীরগতির বলে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে ড্রাইভ করতে গিয়ে কাভারে দাঁড়ানো কিংয়ের হাতে ক্যাচ দেন উইকেটরক্ষক ব্যাটার। ৮ রান করে ফেরেন লিটন।লিটনের বিদায়ের পর মেহেদী মিরাজের সঙ্গে ৪১ রানের জুটি গড়েন হৃদয়। দুজনেই বেশ সাবলীলভাবে ব্যাটিং করছিলেন। সুইপ খেলতে গিয়ে আউট হন।অবশ্য এই ক্যাচে জাস্টিন গ্রিভসের কৃতিত্ব অনেক বেশি। চেজের বলে মিরাজ আগেভাগেই প্যাডেল সুইপ খেলার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন মিরাজ, কিন্তু বলটি মাটিতে রাখতে পারেননি। প্রথম স্লিপে দাঁড়িয়ে থাকা গ্রিভস আগে থেকেই বিষয়টি আঁচ করতে পেরেছিলেন। তিনি দ্রুত পাশের দিকে সরে গিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে দারুণ ক্যাচ নেন। বল হাতে আগুন ঝরানো হাসান ব্যাট হাতে কেবল ১ রান করতে পেরেছেন। ১ রানে অপরাজিত আছেন তাইজুল ইসলাম।