
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী ইছামতি নদী পরিদর্শন করে বাংলাদেশিদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তার দাবি, বাইনোকুলার দিয়ে নদীর ওপারে তাকিয়ে তিনি বাংলাদেশিদের ভারতে প্রবেশের অপেক্ষায় ওঁৎ পেতে থাকতে দেখেছেন। সুযোগ পেলেই তারা ভারতে ঢুকে পড়বেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।আনন্দবাজার পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীপাবলি উপলক্ষে রোববার বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী পশ্চিমবঙ্গের হিঙ্গলগঞ্জে যান শুভেন্দু। সেখানে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের স্পিডবোটে চড়ে ইছামতি নদীর বেশ কিছুটা এলাকা ঘুরে দেখেন তিনি। পরে ৭৪ নম্বর বিএসএফ ব্যাটালিয়নের ক্যাম্পে গিয়ে সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটানোর সময় এসব মন্তব্য করেন।স্পিডবোটে ঘোরার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে শুভেন্দু বলেন, বাইনোকুলার দিয়ে নদীর ওপারে তাকিয়ে দেখেছেন, বাংলাদেশিরা ওঁৎ পেতে বসে আছেন। ফাঁকা পেলেই তারা দলে দলে ভারতে প্রবেশ করবেন।রাজ্যে কোনো অনুপ্রবেশকারীকে থাকতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, অনুপ্রবেশকারীদের খুঁজে বের করে আটক করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে। এ লক্ষে ১৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে বলেও জানান তিনি।প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দেখানো পথে দীপাবলির দিনটি সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে কাটানোর সিদ্ধান্ত নেন শুভেন্দু। এ সময় তিনি আগামী বছর থেকে ‘সীমা মিত্র সম্মান’ নামে একটি পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান চালুর ঘোষণা দেন। পরে হিঙ্গলগঞ্জ থানার কালীপূজার উদ্বোধন করেন তিনি।কালীপূজার উদ্বোধন শেষে স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে সীমান্তে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিএসএফ ও পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি।শুভেন্দু দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গে আগের সরকারের আমলে পুলিশ ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় ছিল না। তবে বর্তমানে পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে। পুলিশের মহাপরিচালকের (ডিজিপি) নেতৃত্বে বিএসএফের সঙ্গে পুলিশের ভালো সমন্বয় গড়ে উঠেছে।এদিকে সীমান্ত নদী ইছামতির তীরে বেড়া নির্মাণের বিষয়েও বিএসএফের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে জানান শুভেন্দু। সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার এবং অনুপ্রবেশ ঠেকানোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলোর সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার কথাও উঠে আসে তার বক্তব্যে।সূত্র: আনন্দবাজার অনলাইনএআরবি